Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজনীতিরাজশাহী

রাজশাহী ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করছে কে ?

344views

রাজশাহী ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করছে কে ?

ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দ্বদ্ব, নগর বিএনপি কার্যালয় ভাংচুরহাবিব আহমেদ
ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর ও তালা দেয়ার ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে রাজশাহী নগর বিএনপি কি এখন নেতৃত্ব শূন্য ? গত শনিবার রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির কার্যালয়ে ভাংচুর, তালা ঝুলানোর ঘটনার পরও বিএনপি নেতারা চুপ থাকার কারণেই মুলত এমন প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। হামলা, ভাংচুরের পর কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হলেও আবারো বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নিচ্ছে। কমিটি গঠনের পর থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রদলের এমন কর্মকান্ড বিএনপির মধ্যে ও তৃণমুলে চাপা ক্ষোভ ও দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হচ্ছে। বিষয়টি এখন সব মহলেই আলোচনায় আসছে। কারণ হিসাবে দেখা দিয়েছে নগর বিএনপির সবশেষ কমিটি গঠনের পর সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করেন। পুর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঘটিয়েছেন এবার ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। বিএনপির কমিটি গঠনের পর যেমন পদবঞ্চিতরা আন্দোলন শুরু করেন তেমনি ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিতরা একই আদলে ভাংচুর, বিএনপির অফিসে তালা ঝুলিয়েছেন। তবে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে ভাংচুরের ঘটনা ঘটলেও ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে বিএনপির মুল দলের দিকে। ইতিমধ্যে ছাত্রদলের দুপক্ষ দুদিকে মোড় নিয়েছে। রীতিমত তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দুইভাগে বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সভাপতির দিকে অবস্থান নিয়েছে। আর যেগুলো ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত হয়ে ভাংচুর চালাচ্ছেন তারা বেশির ভাগই নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর সমর্থক বলেও আখ্যায়িত করা হচ্ছে। আর যারা এবার কমিটিতে পদ পেয়েছে তারা নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষের বলেও উল্লেখ করছেন পদবঞ্চিতরা। তবে আলোচনায় আসছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি এখন নেতা শূণ্যতায় ভুগছে। কারণ নেতাদের নেতৃত্ব না থাকার কারণেই এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে বারবার, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। ছাত্রদলের উপর বিএনপি নেতাদের কোন নিয়ন্ত্রন নাই বলেও মনে করেন অনেকেই।
জানা গেছে, এবার ২১সদস্য বিশিষ্ট রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে পদবঞ্চিতরা। পদবঞ্চিত মিনুর সমর্থকরা বিএনপির কার্যালয়ে তালা মারা থেকে শুরু করে ভাংচুর, আন্দোলন চালিয়েছেন। যদিও পরে আরো দুটি সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে মহানগর বিএনপির ২৩সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পর সেখানে স্থান দেয়া হয় মিনু পহ্নি বিএনপির নেতাদের। এরপর থেকে বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সভাপতি মিনুর মধ্যে শুরু হয় টানাপড়েন। কিছুদিন বিএনপির মধ্যে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন আসার পর আবারো বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সভাপতির মধ্যে ভেতরে শুরু হয় অন্তকোন্দল। এমন কি বুলবুলকে মাইনাস করে মেয়র প্রার্থী হিসাবে মিনুকে প্রস্তাব দেয়া হয়। যদিও মিনু তাতে সম্মতি না দিয়ে ঢাকা থেকে চলে আসেন। পরে হাইকমান্ডের নিদের্শেই রাসিক নির্বাচনে বুলবুলের পক্ষে কাজ করেন মিনু। তবে সে সময় মিনু সক্রিয়ভাবে বুলবুলের পক্ষে কাজ করলেও দলের অনেক নেতাকর্মী ছিলেন নিশ্চুপ। যা ছিল বিএনপির মধ্যে চাপা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। আবার নির্বাচনের পর বিএনপির একটি অংশ মিনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন বুলবুলের পক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ না করার।
জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর ৬ থানা ও তিন কলেজের কমিটি গঠনের সময় ছিল রাসিক নির্বাচনের আগে। সে সময় বিভিন্ন ধরনের শঙ্কায় কমিটি গঠন করা হয়নি। মহানগর ছাত্রদলের পক্ষে জানানো হয়, রাসিক নির্বাচনের পর থানা ও কলেজের কমিটি গঠন করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হয়। তবে যে শঙ্কায় কমিটি গঠন স্থগিত করা হয়, সেই শঙ্কাই বাস্তবে রুপ দিয়েছে। নির্বাচনের সময় কমিটি গঠন করা হলে দলের মধ্যে বিভক্তি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিল নেতাকর্মীরা। আর এর প্রভাব নির্বাচনের উপর পড়তে পারে বলেও ধারণা করেন নগর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। বর্তমান যে ঘটনা ঘটছে তারই প্রতিফল।
দলীয় সূত্র ও পদবঞ্চিতদের অভিযোগে জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের সময় বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। নগর ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ নগর বিএনপির সভাপতি বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন করেছেন। আর এই কমিটিতে মিনু পক্ষের কোনো ছাত্রদলের নেতাসমর্থকদের পদে আনা হয় নি। বুলবুল নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য মুলত এই কমিটিতে নিজের সমর্থকদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও পদবঞ্চিতরা মিনুর সাথে কমিটি গঠনের পর দেখা করেছেন। দেখা করার পর নেতাকর্মীদের কোনো আশ^াস দেননি মিনু। তিনি কমিটি গঠনের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিবেন কি নিবেন না তাও জানান নি। যার কারণে রোববারের পর পুনরায় সোমবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। যদিও রোববার পদবঞ্চিতরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, কমিটির ব্যাপারে কোনো সুরাহা না হলে শুধু মহানগর বিএনপির কার্যালয়ই নয়, ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যালয়েও তালা ঝুলানো হবে।
এদিকে গত দুদিন থেকে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে অপ্রিতিকর ঘটনায় জন্য মিনু-বুলবুলকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে মিনুকে কি মাইনাস করার চেষ্টা চলছে? তবে এ বিষয়টি নিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন জানান, কমিটি গঠন নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা বসে সমাধান করা হয়েছে। তবে বিএনপির মধ্যে যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

Leave a Response