Wednesday, October 21, 2020
উত্তরাঞ্চলটপ নিউজ

রাজশাহীতে ভোটের লড়াই জমছে

328views

ভোটের লড়াই জমছে

মেয়র পদ থেকে বুলবুলের পদত্যাগ

৫ বছর রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন দেখতে পায়নি: লিটন 

মেয়র পদ থেকে বুলবুলের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মেয়র ও বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিধি অনুযায়ী বুধবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পদত্যাগ পত্র প্রেরণ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুলবুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচনকালিন ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিয়োগ দেবেন বলে জানান তিনি। নগর বিএনপির সভাপতি ও দলের মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বৃহস্পতিবার তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। এর আগে গত সোমবার তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য কাগজপত্র রেডি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দায়িত্ব থাকার পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন রাসিকের এই বিদায়ী মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবার পর মেয়রের পদমর্যাদা ক্ষুন্ন করে রাজশাহীবাসীর প্রতি যে বৈরী আচরণ করা হয়েছে তা সত্যিই কষ্টের। এজন্য প্রতিবাদ করে প্রথম থেকে গাড়ী ব্যবহার থেকে বিরত থাকি। পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যে সময় দায়িত্ব পালন করি সে সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন কাজ হাতে নিই ও তা বাস্তবায়ন করতে থাকি। মাঝে ২২ মাস দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরায় নানা নাটকীয়তায় গত বছর ৫ এপ্রিল পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে সিটি গর্ভনেন্সে রূপান্তরের প্রস্তাব দেন। স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সম্বর্ধনা প্রদান, ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ, সিএইচডিএফ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণ, পুকুর সংস্কার, রাস্তা সংস্কার, গোরস্থানগুলোর উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম করার বর্ণনা দেন তিনি। গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরবর্তী পরিষদকে তা অব্যাহত রাখার আহবান জানান। বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময় রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আযব, ৩নং প্যানেল মেয়র ও ৯নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম ও রাসিকের অন্যান্য কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে মেয়র দপ্তর কক্ষে রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ মেয়রকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোমিন, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ১৫ জনু রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ভোট পেয়েছিলেন এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৭২৬ ভোট। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ৩০ জুলাই।

৫ বছর রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন দেখতে পায়নি: লিটন

রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, গত ৫ বছরে রাজশাহীর মানুষ কোন উন্নয়ন দেখতে পায়নি। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। এখন রাজশাহীর মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। রাজশাহীতে মেগাসিটির রুপদান করা হবে। এই রাজশাহী দেখতে উন্নত দেশ থেকে মানুষ আসবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবালের সভাপতিত্বে লিটন বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীর উন্নয়ন যা করতে চেয়েছিলাম, যা কাজ চলছে সেগুলো সবই করতে চাই। আমি এই শহরকে এমন জায়গায় নিতে চাই, আগামি ২০ বছর কোন কিছু ভাবতে হবে না। আমি নিশ্চয় ভুল করেছি, আমার ভুলগুলো ক্ষমা করে দিবেন। এই রাজশাহীতে আমার জন্ম। এখানকার মাটি আমাকে টানে আমি কোথাও যেতে পারবো না। আমি শিক্ষিত হয়ে এসেছি, আমার মধ্যে মেধা আছে, আমাকে আরেকটি বার সুযোগ দিন। ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানো সহ্য করবো না। সবাই সম্মিলিতভাবে বাঘের মত লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনবো। লিটন বলেন, বিএনপি জনগণের রায়ে পরাজিত হয়েছে। কারণ জনগন উন্নয়ন চায়। বিএনপির উপর জনগনের আস্থা নেই বলেই তারা আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে। আমি আবারো রাজশাহীতে উন্নয়নের জোয়ার আনতে চাই। তাই আপনাদের সহযোগীতা চাই।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মহানগর সহ সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী, মুক্তিযোদ্ধা নওসের আলী, মাহফুজুল আলম লোটন, সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, নিঘাত পারভীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, রেজাউল ইসলাম বাবুল, নাঈমুল হুদা রানা। এছাড়া রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Response