Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

হোটেলে ময়লা পানিই ভরসা

363views

হোটেলে ময়লা পানিই ভরসা

Waterআব্দুর রহিম: পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু নগরীর হোটেল গুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের যে পানি পান করতে হচ্ছে তা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাইলেও সব হোটেল রেস্তোরায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার সুযোগ না থাকায় অসহায়ের মত অনেকটাই বাধ্য হয়ে এ পানি পান করছে মানুষ। চিকিৎসকরা বলছে, পানি জনিত কারণে অনেককেই ভুগতে হচ্ছে পেটের পিড়াসহ নানা অসুখ বিসুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর হোটেলগুলোতে যে পানি পানের জন্য দেয়া হয় তা পাইপ লাইনের পানি। যে পানি হাত-মুখ, কিংবা থালা বাসন ধোয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় একই পানি দেয়া হয় খাবার জন্য। মুলত ওয়াসার পাইপলাইনে সরবরাহ করা পানিই সব কাজে ব্যবহার করা হয়। হোটেলগুলোতে নিজস্ব টিউবয়েলের কোন ব্যবস্থা নেই আবার বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাতেই ফিল্টার করা (মিনারেল ওয়াটার) পানি পাওয়ারও সুযোগ নেই।

এঅবস্থায় হোটেল রেস্তোরায় আসা মানুষ বিপাকে পড়ছেন। যাদের টাকা আছে তারা বোতলজাত পানি কিনে খেলেও নিম্ন আয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে খাচ্ছেন পাইপলাইনের পানি। কোন কোন হোটেলে ফিল্টার করা পানির ব্যবস্থা থাকলেও এজন্য গুনতে প্রতি গ্লাসে এক টাকা করে। সাধারণ মানুষ এক টাকার বিনিময়ে এক গ্লাস পানি পান করতে চাইলেও বেশিরভাগ হোটেলেই সেই ব্যবস্থাও নেই। হয় ১৫ টাকা দিয়ে বোতল কিনে খেতে হবে, না হয় পাইপ লাইনের পানিই ভরসা। এনিয়ে হোটেল মালিকদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তারা ক্রেতাদের সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, পাইপের পানি পান করলে করেন, না করলে বাইরে গিয়ে কিনে খান। এমন আচরণে অনেক ক্রেতারাই ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু কিছুই করার নেই। দড়িখরবোনা এলাকায় বদরুদ্দোজা নামে এক ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, আমি এডমিশনের ছাত্র। আমি প্রতিদিন সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় বিন্দু-২ হোটেলে খাই। কিন্তু একদিনও ভাল পানি পাই না। প্রথমে এক গ্লাস পানি দেয় সেটা নাকি ফিলটার। সেই পানিতেও ময়লা দেখা যায়। হোটেল কর্মচারিদের বিষয়টি জানালে তারা বলেন, এর চেয়ে ভালো পানি নেই। ভালো খেতে হলে বোতলজাত পানি খেতে হবে। মনিরা পারভিন নামের এক কলেজ ছাত্রী জানান, রাজশাহীতে প্রায় ৪ বছর যাবৎ আছি। এপর্যন্ত কোনদিন হোটেলের ভালো পানি পাইনি। ভাল না জেনেও বাধ্য হয়েই পান করতে হয়। আর যখন টাকা থাকে তখন বোতল কিনে খাই।

রিক্সা চালক আব্দুল জব্বার বলেন, রাজশাহী শহরে এখন পানির যে অবস্থা তাতে পান না করাই ভাল। পানিতে ময়লা থাকে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। রাজশাহীতে পানির যে অবস্থা তাতে সাপ্লাইয়ের পানি পান না করাই উচিৎ। তবে সব সময় আমাদের মত সাধারণ মানুষের পানি কিনে খাওয়া সম্ভব না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে নগরীর বিন্দুর মোড়, দড়িখড়বোনার মোড়, বর্ণালী মোড়, রেলগেট, রেল স্টেশন, সাহেব বাজারসহ নগরীর সব এলাকার হোটেলগুলোতেই দেখা যায় ট্যাপের পানি বালতি বা বড় ড্রামে ভরে রাখা হয়। ওই পানি দিয়ে হোটেলের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি মানুষকে পান করতে দেয়া হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল কর্মচারি জানান, দিনে প্রায় ৭-৮শ’ জন লোক খেতে আসে। এতো লোকের জন্য টিউবওয়েলের পানি নিয়ে আসা সম্ভব না। কারণ আশপাশে টিউবওয়েলের সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা ক্রেতাদের সাধ্যমত পরিস্কার পানি পান করানোর চেষ্টা করি। তবে তারা বলছেন, ওয়াসার পানি পান করলে কোন সমস্যা নেই। ড্রামে পানি রাখলেও পরিস্কার থাকে। কিন্তু তলার কিছু পানি ময়লা হয়। আর আমরা সেটা ফেলে দিই।

উপশহর নিউমার্কেট এলাকার হোটেল মালিক রিপন বলেন, আমার দোকানের প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত চলে। যার কারণে আমাকে ড্রামে পানি লোড করে রাখতে হয়। আর ওয়াসা ঠিকমত লাইন পরিস্কার করে না। যার কারণে আয়রণ ও অনেক ময়লা বের হয়। ময়লা বের হলেও তাদের কিছু করার থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে রাজশাহী ওয়াসার সচিব সফিকুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় এখন প্রায় কিছুদিন পরপর পানির লাইন পরিস্কার করা হয়। যে এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় সাথে সাথে ওই এলাকার পানির লাইন পরিস্কার করা হয়। আর যখন পরিস্কার করা হয় তখন একটু ময়লা চারিদিকে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, সরাসরি সাপ্লাইয়ের পানি না পান করাই ভাল। কারণ সব সময় পানির লাইন পরিস্কার থাকে না। এতে ময়লা জমে। যার কারণে সাপ্লাইয়ের পানি পান করলে ফুটিয়ে করাই ভাল। এছাড়াও ধীরে ধীরে প্লাাস্টিকের পাইপ বসানো শুরু করা হচ্ছে। এতে পানি খুব বেশি ময়লা হবে না।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের, বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না বা কেউ আমাদের কাছে অভিযোগও করেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Response