Wednesday, October 28, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

হাসপাতালে মাইক্রো চালক সিন্ডিকেট, রোগিদের জিম্মি করে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়

361views

হাসপাতালে মাইক্রো চালক সিন্ডিকেট, রোগিদের জিম্মি করে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়

microbusকামরুল ইসলাম: উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে রোগিরা আসেন এখানে। রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় যানবাহন চালকদের কাছে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। রিতিমত রামেক হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করা মাইক্রোবাস চালকদের রোষানলে পড়তে হয় বেশিরভাগ রোগি ও অভিভাবকদের। চালকরা রোগিদের জিম্মি করে অধিক টাকা আদায় করছে। চালকদের চক্রের কাছে যেনো রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অসহায়। বেশ কয়েকবার রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব চালকদের হাসপাতাল এলাকা ছাড়া করলেও কিছুদিন যেতে না যেতে তারা আবার অবস্থান নেয় হাসপাতালের মধ্যে।

জানা গেছে, বাইরে থেকে কোনো রোগি নিয়ে কোনো মাইক্রেবাস হাসপাতালে কিছু সময়ের জন্য জরুরী বিভাগের সামনে রাখার অনুমতি রয়েছে। রোগি ভর্তির পরপরই সেখান থেকে মাইক্রোবাস বা অন্য যানবাহন হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া রয়েছে। এছাড়াও সেখানে রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন যানবাহন ছাড়া বাইরের কোনো যানবাহন রাখার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। সরকারী বা কর্মচারিদের কোনো গাড়ি জরুরী বিভাগের সামনে দেখা যায় না।

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দালাল চক্রের মাইক্রোবাস চালকরা জরুরী বিভাগের সামনে দখল করে থাকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা সেখানে মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করে। সেখানে তারা মাইক্রোবাস রেখে রোগি ধারার কাজ করে। তাদের রয়েছে একাধিক দালাল। এসব দালাল হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে রোগিদের কম ভাড়ায় গন্তব্যস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এমনকি এসব চালকদের দালালরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে দেখেন কোন রোগি কখন ছুটি হবে।

কোনো রোগির ছুটি হলে দালালরা ওয়ার্ড থেকেই তাদের পিছু নিয়ে চলে আসে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত। পরে তাদের কম ভাড়ায় নিয়ে বাসায় পৌছে দেয়া হবে বলে প্রতারণা করেন। রোগির স্বজনরা বাইরে থেকে মাইক্রো বা অন্য যানবাহন নিয়ে এলে তাদের সাথে অশালিন আচরণ করা হয়। হাসপাতালে জরুরী বিভাগের সামনে অবস্থানকারী চক্র রোগি ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করে। তাদের মাইক্রেবাসে না গেলে রোগিদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে লাশের বিষয় হলে অভিভাবকদের আরো বেশি ভাড়া গুনতে হয়। কারণ ওই চক্রটির গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ী সেখানে রাখতে দেয়া হয়না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, চক্রের লোকজন বেশী ভাড়া চাওয়ায় বাইরে থেকে কেউ গাড়ি ঠিক করে নিয়ে আসলে সেই চক্রের লোকজন ঐ গাড়ীর চালককে হুমকি দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। এছাড়াও রাস্তায় তাকে দেখে নেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে কোনো মাইক্রোবাস হাসপাতালে প্রবেশ করলে তার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়।

এদিকে মাইক্রেবাস চালক চক্রটি রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে গাড়ি রেখে সেখানেই নানা ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করে। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তারা রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে অবস্থান করে মাদকদ্রব্য সেবন করে। হাসপাতালের কর্মচারিরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখানো হয়। যার কারণে এসব গাড়ি চালকদের কেউ ভয়ে কিছু বলে না।

এব্যাপারে রামেক হাসপাতালের পরিচারক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান বলেন, এই দলকে ইতিপূর্বে একাধিকবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার পরপরই আবারো হাসপাতালের সামনের অবস্থান নেয়। এতে রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা দেখা দেয়। তবে তারা যেখানে গাড়ী রাখেন সেই স্থানটি হাসপাতালে তেমন কোনো কাজে ব্যবহৃত হয় না বলেই তাদের বিরুদ্ধে আর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে নির্দিষ্ট ভাড়ার কোনো তালিকা না থাকায় তারা নিজেদের ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করে। তবে এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, তাদের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিআরটিএ কর্তৃক একটি তালিকা দেয়া হবে, সেই তালিকায় স্থানের দুরুত্ব অনুসারে ভাড়ার পরিমান উল্লেখ থাকবে। যেন রোগীর বা লাশের স্বজনদের ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।

Leave a Response