Wednesday, October 21, 2020
রাজশাহী

সড়কে মোটরসাইকেল হেলমেটের কদর বেড়েছে | রাজশাহী সংবাদ

262views

সড়কে হেলমেটের কদর বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতার কারণে মোটরসাইকেল চালকদের কাছে হেলমেটের কদর বেড়েছে। কেউ কেউ যেমন নিজেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হেলমেট ব্যবহার করছেন আবার অনেকেই ট্রাফিক কর্মকর্তাদের হাত থেকে বাঁচতে মাথায় হালকা হেলমেট রাখছেন। আর ্তার প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায় চলাচলকারী চালকদের বেশিরভাগের মাথায় দেখা মিলছে হেলমেট। তবে, এখনো শতভাগ চালক হেলমেট ব্যবহার করছেননা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে কয়েকদিন আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। সড়কে চলাচলকারী সকল যানবাহনের বৈধ লাইসেন্স, ফিটনেস ও বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারা। এতে করে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা নড়ে চড়ে বসে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সচেতনতা বেড়েছে জনমনেও। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতে বেড়েছে মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা। বৃদ্ধি পেয়েছে হেলমেট বিক্রিও। নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ চালক মাথায় হেলমেট পড়ে রাস্তায় নেমেছেন। প্রতি ৫০ টি মোটর সাইকেলের অন্তত ৩৫ চালকই মাথায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নিরাপদে মোটর সাইকেল চালাতে, আবার কেউ ট্রাফিক আইনের মামলার ভয়ে হেলমেট পড়ছেন। যেভাবেই হোক না কেন রাস্তায় মোটর সাইকেল চালাতে আগের তুলনায় অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে হেলমেট ব্যবহারকারী।

এদিকে যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে বসানো হয়েছে ট্রাফিক চেক পোষ্ট। বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে সচেতনতামূলক বাণী। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা ও ফুটপাতের উপর দোকান বা পন্য সামগ্রী না বসানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রাস্তায় মোটর সাইকেল চালকদের বাহনে হেলমেট না রেখে মাথায় পরে চলাচল করতে মৌখিকভাবে সচেতন করা হচ্ছে।

নগরীর মোটরবাইক সরঞ্জাম বিক্রির দোকানগুলোতে হেলমেট বিক্রির পরিমান বেড়েছে। যাদের হেলমেট নাই অথবা হেলমেট নস্ট হয়ে গেছে নতুন হেলমেট সংগ্রহ করতে দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন তারা। নগরীর রানীবাজার এলাকার মোটরবাইক পার্টস এর দোকানী ইমন হোসেন বলেন, হেলমেট বিক্রির সিজন চলে মূলত শীতে। কিন্তু গত কয়েক দিনে নতুন হেলমেট বেশি বিক্রি হচ্ছে। হেলমেট কিনতে আসা ক্রেতা শফিকুর রহমান বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের অবশ্যই হেলমেট পড়েই গাড়ি চালাতে হবে। এতে কড়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে আমরা বাঁচতে পারি। আমার হেলমেট অনেক পুরোনো হয়ে গেছে তাই নতুন আরেকটা নিতে এসেছি। আবু রায়হান নামক এক চালক বলেন, সচারচর হেলমেট পড়ি না। কিন্তু এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই হেলমেট পড়তে হচ্ছে। যদিও নিজের জন্যই সেটা ভাল তবে গরমের কারণে সব সময় হেলমেট পড়া হয়না।

জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আমান উল্লাহ আমান বলেন, নিরাপদ সড়ক এবং জনগনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কাজ করে চলেছি। ট্রাফিক জ্যাম নিরসনসহ জনগনের বাড়তি কোন দূর্ভোগ যাতে না হয় সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে এক লেনে ছোট বাহন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছি। সেই সাথে রাস্তার মাঝখানে কোন যানবাহন থেমে যেন যাত্রী উঠা নামা না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখে মাইকিং করে তাদের সচেতন করছি। তিনি আরও বলেন, মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন তারা রাস্তায় হেলমেট ছাড়া চলাচল না করেন। হেলমেট পড়ে চলাচল না করলে ছোট একটি দুর্ঘটনাও বড় হয়ে যাবে। তাই আমরা সকল চালককে সচেতন করছি সেই সাথে আইন প্রয়োগ করছি। যাতে করে সকলের মধ্যে আত্মসচেতনাবোধ তৈরী হয়।

Leave a Response