Saturday, October 24, 2020
রাজশাহী

সারাদিন পরিবহণ বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ

182views

সারাদিন পরিবহণ বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ

সারাদিন পরিবহণ বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগনিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আবার শঙ্কা শুরু হয়েছে যানবাহন মালিকদের মাঝে। কমলমতি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে যানবাহন চালক ও মালিক তাদের যানবাহন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তবে যানবাহন চালক ও মালিকরা বলছেন, তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেই যানবাহন বন্ধ রেখেছেন। কারন হিসাবে তারা বলছেন, তাদেরও কোমলমতি ছেলে মেয়েও এই আন্দোলনে শামিল রয়েছে। যার কারণে তারা বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন রাস্তায় নামাবেন না। দিনের বেলায় কোনো ধরনের যানবাহন চালানো হবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে যানবাহন বন্ধ রাখায় চরম বেকায়দায় পড়ে দুরদুরান্তের যাত্রীরা। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে কিছুকিছু যানবাহন রাজশাহীতে ছেড়ে যেতে দেখা যায়, তেমনি দুরপাল্লার কিছু বাস রাজশাহীতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দুর দুরান্তের যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় অটোরিক্সা। ট্রেনের যাত্রীরা বাস না পেয়ে অটোরিক্সায় যে যার গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজশাহীর বাস স্ট্যান্ড থেকে দুরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। রাস্তায় চোখে পড়েনি মালবাহি ট্রাকের। সকালের দিকে দু একটি ট্রাক বা বাস রাস্তায় চলাচল করলেও কিছুক্ষণ পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীবাহি বাস যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পুনরায় ফিরে আসে স্ট্যান্ডে। ঘটনাটি রাজশাহীব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি মালিক পক্ষকে জানায় চালকরা। পরে মালিক পক্ষ ট্রাক বা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে চালকরা বলছে মুলত নিরাপত্তার সার্থেই বাস ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ সাধারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। তারা মুলত এটাকে ইস্যু করে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তার সার্থে তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী বাস মালিক সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি ঢুকে পড়েছে। তারা বাস ভাংচুর চালাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবহনের নিরাপত্তার জন্য সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের নিয়মে পরিবহণ চলাচল করবে। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তার কারণে তারা বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নওগাঁয় নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য রেলগেট কাউন্টারে এসেছিলেন আব্দুল হামিদ। বাস বন্ধের খবর শুনে বিষ্মিত হন তিনি। হামিদ জানান, জরুরী কাজে নওগাঁ সদরে নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে রওয়ানা হয়েছিলেন তিনি। কাউন্টারে এসে শোনেন বাস বন্ধ। অবশেষে সিএনজি যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। এমন অনেক যাত্রীর ভোগান্তির চিত্র সকাল থেকেই বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে দেখা মেলে। হঠাৎ বাস বন্ধের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন যাত্রীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন করছে। আন্দোলনের পঞ্চম দিনে বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র পরীক্ষা করেছে। মন্ত্রী, সাংসদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বহনকারী গাড়িও এই যাচাইবাছাই থেকে বাদ যায়নি।

Leave a Response