Saturday, October 24, 2020
রাজশাহী

সদর খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

269views

সদর খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে নির্যাতন, মানহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মানহানিরই নয় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ১৩টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী রুমানা ইসলাম এই অভিযোগ করেছেন। একটি লিখিত অভিযোগ তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাজশাহী বিভাগীয় ও মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) আবদুর রহিম রাজশাহী সদর খাদ্য গুদাম জিম্মি করে রেখেছেন। সেখানে দারোয়ান থেকে শুরু করে বেশিরভাগই কর্মচারিরা তার একেবারে নিকটাত্মীয়। সেখানে চাকরি করেন তার ভাগ্নে, বোনসহ নিকটাত্মীয়রা। এর সুবাদে তিনি গুদামের মালপত্র ক্রয়ে নয় ছয় করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার আর রক্ষা নেই। তার কথা না শুনলে কর্মচারিদের অফিস করতে দেয়া হয় না। বিভিন্নভাবে দেখানো হয় ভয়ভীতি। রাজশাহী সদর খাদ্য গুদাম তিনি পারিবারিক সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছেন। এমনকি উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার সাথে যোগ সাজস করে দিনদিন খাদ্যগুদাম দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুললেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। তিনি অফিসে না গিয়ে নিজের আবাসিক হোটেলে বসে অফিসের খাতাপত্র সই করেন। সপ্তাহে এক বা দুদিন অফিসে গেলেও ১ঘন্টা সময় তিনি অফিস করেন না। অবাসিক হোটেলে বসে সারেন খাদ্যগুদামের কাজ। নিরাপত্ত প্রহরী ইসলাম রুমানা তার প্রতিবাদ করায় তাকে অফিস করতে দেয়া হয় না।

রুমানা ইসলাম লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের আবাসিক হোটেলে হাজিরা খাতা সই করতে যেতে হয়। বদলী এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমার দ্বারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করা হয়। অফিস চলাকালীন ৫টা পর্যন্ত অফিস করায়। আমার বাচ্চার গলা টিপে হত্যা করতে বলে, যেনো রাতে তার আবাসিক হোটেলে থাকতে পারি। বলে আরসি ফুড ডিসি ফুড সবার দুর্বল পয়েন্ট জানি, তোর এমন ছবি তুলে রেখেছি যা দেখিয়ে তোর গোটা বংসের সম্মান নষ্ট করবো। তার ভাগনে মাসুম ও নাসিমা বলে রহিম সাহেব খাদ্য বিভাগের নেতা-ভিপি গোটা খাদ্য বিভাগ তাকে ভয় করে। অভিযোগে বলা হয়, রহিম সাহেব বলেন এই ঈদে ডিসি ফুড ও আরসি ফুড মিলে ৪লাখ টাকা খরচ করেছি। তোর চাকরি খেতে আর ৫লাখ টাকা খরচ করবো। আমার কথা মত চলো তাহলে তোমাকে অনেক টাকা দেবো। আর যদি আমার বিরুদ্ধে যাও তাহলে তোমারে বান্দরবানে বদলী করে দেব, পরে চাকরিটাও খেয়ে নেবো। ডিসি ফুড স্যার পর্যন্ত আমার আবাসিক হোটেলে থাকে, আর তুমি তো সামান্য একজন নিরাপত্তা প্রহরী। তুমি জানো যে টাকা দিলে সব হয়। আমাকে অফিসে ঢুকলে মোবাইল ব্যবহার করতে দেন না।

রুমানা ইসলাম অভিযোগ করেন, রহিম সাহেব ও নাসিমা মিলে আমাকে নানা কু-প্রস্তাব দেয়। আমাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ, হুমকি দেয়, অফিসে করতে দেয় না, নির্যাতন করে। আমার উপর তার মনোবাসনা পুর্ণ করার জন্য কৌশলে সদর এলএলডিতে বদলী করে আনে এবং বলে তুমি আমার হাতের কবলে, তোমাকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করবো। আমার প্রস্তাবে রাজি হলে অনেক টাকা পাবে। না হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেবো।”

এদিকে এরআগে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে তার সহকর্মী খাদ্য কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিমের অনুসারী নিরাপত্তা কর্মী মোসা. রুমানা গত ১১ জুন রাতে মাজেদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে খাদ্য গুদামে না যাবার জন্য বলেন। খাদ্য গুদামে গেলে মাজেদুলকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি প্রদান করেন। মাজেদুলকে মেরে ফেলা হলে খাদ্য গুদামের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাক্ষী দেবেন না বলেও ফোনে জানান। জিডিতে আবদুর রহিমের নির্দেশে জীবননাশসহ বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মাজেদুল ইসলাম।

খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আবদুর রহিম। এ সময়ের মধ্যে তাকে দুইবার বরিশাল এবং খুলনায় বদলির আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে রিট করে তিনি রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। এ সময়কালে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে গম কেলেঙ্কারি, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জনসহ সাতটি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এ ব্যাপারে রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বলা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আগেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে যা তদন্তাধীন। এছাড়াও নিরাপত্তা কর্মী রুমানা ইসলামের অভিযোগটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Response