Thursday, October 22, 2020
খেলার মাঠে

শেষ মুহূর্তের গোলের বিশ্বকাপ

153views

শেষ মুহূর্তের গোলের বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ মুহুর্তের গোলে ম্যাচের ভাগ্য পাল্টে যাওয়ার মতো রোমাঞ্চ যারা উপভোগ করতে চান, রাশিয়া বিশ্বকাপ যেন তাদেরই জন্য।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৮৬তম মিনিটে মার্কোস রোহোর ভলি আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোতে তোলে। রাশিয়ায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর শেষ দিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বা ফল নির্ণায়ক গোলের সংখ্যা গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এই সময়ের গোলের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনাকর ম্যাচের মধ্যে ছিল জার্মানি-দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচটিও। যোগ করা সময়ে দুই গোল হজম করে মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় জার্মানির। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা সঙ্গী হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হলো গত বৃহস্পতিবার। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে শেষ দিকের গোলে ম্যাচ বা দলের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ার ঘটনা অনেক। খেলাধুলার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা অপটার দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, এবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোয় ৮০তম মিনিটের পর গোল হয়েছে ২৬টি। যার মধ্যে ১৩টি গোল বা ৫০ শতাংশ গোলই ছিল জয়সূচক বা সমতাসূচক।২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও ৮০তম মিনিটের পর ২৬টি গোল হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের ফল নির্ধারণে মাত্র ৮টি গোলের ভূমিকা ছিল। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শেষ দিকের গোলের সংখ্যা ২০টি। এর ৫টি ছিল ফল নির্ণায়ক। গত ২৩ জুন ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জার্মানি জিতেছিল শেষ মুহূর্তে টনি ক্রুসের গোলে। ওই ম্যাচের পর জার্মানির মার্কো রয়েস বলেছিলেন, “এবার শেষ দিকে অনেক বেশি গোল হচ্ছে। এটা পেতে আপনার কিছুটা ভাগ্যও লাগবে।” জার্মানির ওই স্বস্তি অবশ্য স্থায়ী হয়নি। কদিন পরই দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যোগ করা সময়ে দুই গোল খেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় তাদের। তবে রাশিয়ায় বিলম্বিত গোল সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে বড় দলগুলোরই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের জয়ে যোগ করা সময়ে গোল করেন হ্যারি কেইন। মিশরকে উরুগুয়ে হারিয়েছিল হোসে হিমেনেসের ৮৯তম মিনিটের গোলে। অবশ্য ছোটো দলগুলোও শেষ দিকের গোলে মজা লুটেছে। ৯৩তম মিনিটের পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে পর্তুগালের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল ইরান। ৮১তম মিনিটের গোলে স্পেনের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েছিল মরক্কো; অবশ্য যোগ করা সময়ে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা সমতায় ফিরেছিল। এত বেশি বিলম্বিত এবং ফল নির্ণায়ক গোলের পেছনে অবদান আছে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক অ্যালেক্স ওলশাস্কি জানান, ম্যাচে ভিএআর ব্যবহারের জন্য সময় নষ্ট হওয়াতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর বেশি সময় যোগ করা হচ্ছে। ফলে শেষের দিকের গোলের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এছাড়া অনেক বেশি দৌড়ানোর কারণে ম্যাচের শেষ দিকে ডিফেন্ডারদের ক্লান্ত হয়ে পড়াটাও শেষ দিকে গোলের কারণ হিসেবে মনে করেন তিনি।

Leave a Response