Tuesday, October 27, 2020
রাজশাহী

শালিশের জরিমানা দিতে না পারায় দুর্গাপুরের দুই কৃষক পরিবার একঘরে

342views

শালিশের জরিমানা দিতে না পারায় দুর্গাপুরের দুই কৃষক পরিবার একঘরে

Durgapurদুর্গাপুর সংবাদদাতা: দুর্গাপুরে চুরির অপবাদে ১০দিন ধরে দুই কৃষক পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম মাতব্বরের এমন শাস্তিতে কাজে যেতে পারায় চরম বিপাকে পড়েছে ওই দুই কৃষক পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউপি’র লক্ষীপুর গ্রামে। ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান একঘরে হওয়া দুই পরিবারের লোকজন।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১১জুলাই উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ফরমান নামের এক ব্যক্তির অটোরিক্সা হারিয়ে যায়। এর ৭দিন পর ১৮জুলাই একই এলাকার ইদ্রিস ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এনিয়ে সালিশ বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহের আলী ও গ্রামের মাতব্বর ওয়াজ আলী খাঁ ও আবুল হোসেন এলাকার লোকজনের সামনেই তাদের মারধোর করে। ওই বৈঠকেই ইদ্রিস ও শফিকুলকে ১লাখ ৬৭হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৭ আগস্ট স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের মাতব্বরা মিলে কৃষক ইদ্রিস ও শফিকুলের পরিবারকে একঘরে করে রাখার ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই দিনমজুর দুই পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাহির হতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মানুষের জমিতে কাজ ও বাহিরে টিউবয়েলের পানি খেতেও বাধা দিচ্ছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লক্ষীপুর গ্রামের দুই গ্রাম মাতব্বর ওয়াজ খাঁ ও আবুল হোসেন ওই দুই পরিবারকে একঘরে রাখার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা সালিশ বৈঠকে এলাকাবাসীর সামনেই অটোরিক্সা চুরির কথা স্বীকার করেন। এরপর ১লাখ ৬৭হাজার টাকা জরিমানা করা হলে তারা এলাকাবাসীর সামনেই চুক্তি নামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা যোগসাজসে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। বিধায় গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী তাদের সকলের সম্মতিতে ওই দুই পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তারা আরো বলেন, তারা যদি জরিমানার টাকা দিয়ে দেয় তাহলে আবারও তাদের সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহের আলী জানান, মুলত শুধু চুরির অপবাদে তাদের একঘরে করে রাখা হয়নি। ওই দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমাজের নিয়মনীতি মানেন না। বিধায় গ্রামের মাতব্বররা বসে ওই দুই পরিবারকে একঘরে করে রাখার সিন্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, চুরির অপবাদে ১০দিন ধরে তার পরিবারে শিশুসহ ৮জনকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এলাকার টিউবয়েলে পানিসহ মানুষের বাড়িতে কামলা দিতেও পারছেন না। তার এক ছেলে ভ্যানগাড়ি চালান। কিন্তু সালিশ বৈঠকে তার ভ্যানগাড়িতে উঠতে এলাকার লোকজনকে নিষেধ করা হয়েছে। এমন শাস্তিতে তার পরিবার চরম বিপাকে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোতালেব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুঠিয়া সার্কেল) আবুল কালাম শাহিদ জানান, এ রকম ঘটনা অমানিবক। বিষয়টি দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

Leave a Response