Monday, October 19, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

শতশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম, গোদাগাড়ীতে গৃহবন্দি প্রতারকের পরিবার

249views

শতশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম
গোদাগাড়ীতে গৃহবন্দি প্রতারকের পরিবার

শতশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিমগোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শত শত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ইব্রাহিম আলী নামের প্রতারক চক্রের এক হোতা। এর জের ধরে তার বাড়ীতে তালা লাগিয়েছে স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার লোকজন। ফলে গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে তার স্ত্রী, সন্তান ও মা।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওমর আলীর ছেলে ইব্রাহিম আলী একটি কোম্পানি খুলে বসেন। সিদ্দীক ষ্টোর নামে কোম্পানিটির সরকারিভাবে কোন অনুমোদন নেই। অথচ সিদ্দীক ষ্টোরের নামে ইব্রাহিম আলী এলাকার লোকজনের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে। এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা আমানতকারী লাভ দিবে সিদ্দিক ষ্টোর। প্রথম দিকে সিদ্দীক ষ্টোর কয়েকজন আমানতকারীকে চুক্তি মোতাবেক লাভের অংশের টাকা পরিশোধ করলে শতশত ব্যক্তি অধিক লাভের আসায় সিদ্দীক ষ্টোরের মালিক ইব্রাহিম আলীর কাছে টাকা জমা দেন। এরপর গত ১২ ই জুলাই বাড়ী থেকে বের হয়ে ইব্রাহিম আর ফিরেনি। বাড়ীর লোকজন তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও লাভবান হননি। এর জের ধরে গত ৬ ই আগষ্ট সোমবার উত্তেজিত হয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী সন্তান ও মাকে গৃহবন্দি করে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীরা জানায়, পাওনা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা তালা খুলবো না।

প্রতারণার শিকার বারুইপাড়া আলী পুরের তোজাম্মেল হক বলেন, জমি বিক্রি করে ২৭ লাখ টাকা আমানত হিসাবে সিদ্দীক ষ্টোরে জমা দিলে নন-জুডিশিয়াল তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত ও সোনালী ব্যাংক গোদাগাড়ী শাখার একটি চেক প্রদান করে। চুক্তি অনুয়ায়ী লাভের অংশের প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা করে ৩৯ হাজার টাকা তিনমাস পর আমানতকারীকে দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্ত লাভের অংশের আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে গত ১০ জুলাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে ইব্রাহিম আলী। গত ২৬ দিন ধরে ইব্রাহিম আলীর মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে। উপজেলার দিয়াড় মানিক চকের কৃষক গিয়াসউদ্দীন ও তার ছেলে মিনারুল ৬ লাখ টাকা সিদ্দীক ষ্টোরে আমানত হিসাবে জমা দেন । গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী গ্রামের জরিনা বেগম অন্য বাড়ীতে কাজ করে জমাকৃত ৫০ হাজার টাকা সিদ্দীক ষ্টোরে জমা দিয়েছে। তোজাম্মেল, গিয়াসউদ্দীন ও জরিনা মত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৫ শতাধিক ব্যক্তি সিদ্দীক ষ্টোরে ইব্রাহিমের কাছে কয়েক শত কোটি টাকা আমানত হিসাবে জমা দেয়।

স্থানীয় সৃত্র জানায় ইব্রাহিম আলী প্রতারণার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে একদিনেই ১৩ টি ট্রাক ক্রয় করে সড়কে নামিয়েছে। প্রতারণার শিকারদের মধ্যে চা, সবজি, বিক্রেতা, রিকশাচালক, কৃষক, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে বারুই পাড়ার ইলিয়াস আলী। এ ছাড়াও দিয়াড় মানিক চকের জহুরুল মেম্বারের ৩০ লাখ, শরিফুল মেম্বারের ২৫ লাখ, মহিশাল বাড়ীর মহিউদ্দীন কলেজ পাড়ার জমির উদ্দীনের ২৫ লাখ ও লোকমানের ৩০ লাখ রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়।

আমানত জমাদানকারীরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ইব্রাহিম আলীর মহিশালবাড়ীস্থ বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বাড়িতে মা, ৬ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও পুত্র আটকে রয়েছে। ইব্রাহিম আলীর মা হাজেরা বেগম বলেন, তার ছেলে ইব্রাহিম আলী কোথায় গেছে তা জানা নেই। যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। আমরা অসহায়ের মত গৃহবন্দি হয়ে আছি। আমাদের বাড়ীর সামনে, পিছনের ও ছাদের দরজায় তালা মেরেছে এলাকাবাসী। বের হওয়ার কোন রাস্তা নেই। খাওয়া দাওয়া ও গর্ভবতীর চিকিৎসা সংকটে আছি। আমার একমাত্র নাতি ৭ম শ্রেণীর ছাত্র হাসিবুল ইসলামের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

ইব্রাহিম আলীর বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়া আমানতকারীরা জানান, ইব্রাহিম আলী ঢাকার নামি দামি কয়েকটি কোম্পানির বিদেশে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানী করে থাকে বলে আমানতকারীদেরকে কাগজ পত্র দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। এখন আমানতকারীরা জানতে পেরেছে কোম্পানির সব কাগজ পত্র ভুয়া। ইব্রাহিম আলী প্রতারণার ফাঁদ হিসাবে কয়েক জনকে লাভের অংশের টাকা দেয় এবং কোম্পানির সাথে জড়িত থাকার কাগজ পত্র দেখায়।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌর মেয়র মুনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, প্রতারণার শিকার হয়েছে এলাকাবাসী এটা আমি জানি। গতকাল মঙ্গলবার ইব্রাহিমের বাড়ীতে যাই এবং তার পরিবারের খোজ খবর নেয়। ইব্রাহিমের মা আমার কাছে সময় চান টাকা পরিশোধের জন্য। কিন্তু এলাকার গরিব জনসাধারণ বলছে টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তালা খুলবো না।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি আমানতকারীদের কাছ থেকে পুলিশ অবহিত হয়েছে। তবে বাড়ীতে গৃহবন্দি হয়ে আছে এমন ঘটনা জানা নাই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Response