Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজনীতি

লিটনের পাল্লা ভারি হচ্ছে

154views

লিটনের পাল্লা ভারি হচ্ছে

হাবিব আহমেদ: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আর বাকি মাত্র ৭দিন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। বাড়ছে মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। সময় যেনো প্রার্থীদের কাছে সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা সময়কে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডের ভোটারদের সাথে তাদের কথা বলতে হচ্ছে। একদিনে দুই তিনটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করতে হচ্ছে মেয়র প্রার্থীদের। পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে প্রার্থীর সমর্থকদেরও। শুধু তাই নয়, দিন ঘনিয়ে আসায় ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নির্বাচনে কে এগিয়ে আছে, কে পিছিয়ে আছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। তবে এবার মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নগরবাসী ভাবনাটা একটু বেশি। কাকে বেছে নিবেন, কাকে ভোট দিবেন, কাকে দিয়ে নগরীর উন্নয়ন হবে, কে তাদের পাশে থাকবে এসব নিয়ে সবখানেই চলছে আলোচনা। তবে সাধারণ ভোটারদের ভাবনায় এবার নির্বাচনী দৌড়ে মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনিত দুই মেয়র প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। তারমধ্যে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী লিটন আগে থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রচার প্রচারণায় শুরু করায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন নগরীর সাধারণ ভোটাররা। অন্যদিকে, এখনো পুরোপুরি মাঠ গুছাতে পারেনি বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নিজ দলের নেতা কর্মীদেরও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সক্রিয় করতে পারেননি তিনি। একারণে দিন যত যাচ্ছে লিটনের পাল্লা ভারি হচ্ছে অন্যদিকে হালকা হচ্ছে বুলবুলের পাল্লা। পাড়া মহল্লায় লিটনের নৌকা প্রতীকের উচ্ছাস দেখা গেলেও বুলবুলের পক্ষে বা ধানের শীষের পক্ষে তেমন অবস্থান নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে রয়েছেন সবধরনের নেতাকর্মী ও সর্মথক। শুরু থেকেই তারা লিটনের পক্ষে কাজ করছেন তারা। নারী কর্মীদের পাশাপাশি পুরুষ সমর্থকরা এবার নির্বাচনী মাঠ দখল নিতে আগে থেকেই কাজ শুরু করেন। লিটনের সাথে রয়েছে ওয়ার্কার্সপার্টি, জাতীয় পার্টির মত দুটি দল। দুই দলের শীর্ষ নেতা, সমর্থকরা লিটনের পক্ষে কাজ করছেন। যার ফলে মাঠ পর্যায়ে লিটন এগিয়ে রয়েছেন। শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটন ৬০ভাগ মাঠ দখল করে থাকলেও এখন তিনি এগিয়েছেন অনেকখানি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা সমর্থকরাও এবার লিটনের নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন বেশি। নারী নেত্রীরাও এবার জোট বেধে মাঠে কাজ করছেন। গত কয়েকদিন থেকে লিটনের পক্ষে কাজ করছেন খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। দুদিন থেকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েক আহমেদ পলকের স্ত্রীও লিটনের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। গত শুক্রবার রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন পৌর সভার ১৩ মেয়র লিটনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা শেষ পর্যন্ত লিটনের নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলেও ঘেষণা দিয়েছেন। সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ। রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ প্রতিদিনই সভা ও গণসংযোগ করছেন। এছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটন নির্বাচনী মাঠে পরিকল্পিতভাবেই এগুচ্ছেন। এর ফলে দিন দিন তার সমর্থনও বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে এবার গত রাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটনের ভুলত্রুটির দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি। গত রাসিক নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় লিটনের ভুলগুলো চিহ্নিত করে এবার সেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার প্রচারণা ও ভোটারদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনের শুরুতে মাঠে না নেমে সমস্যাগুলো নিয়ে বিশ্লেষন করেন। কেনো গত রাসিক নির্বাচনে লিটন পরাজিত হয়েছিলেন সে বিষয়গুলো আগে খতিয়ে দেখা হয়। তারপর সেসব বিষয় চিহ্নিত করে মাঠে নামেন তারা। এছাড়াও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটনের সাথে গত নির্বাচনে যেসব আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন না এবার তাদের মাঠে নামানো হয়েছে। তারা নির্বাচনের শুরুর দিকে মাঠে না নামলেও উপরের নির্দেশে মেয়র প্রার্থী লিটনের পক্ষে কাজ শুরু করেন।

এবার নির্বাচনে লিটনের পক্ষে সাধারণ ভোটারদের খুব বেশি বোঝাতে হচ্ছে না। কারণ ২০০৮সালে লিটন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাজশাহীর পুরোচিত্র বদলে দেন। আর এই বদলে দেয়া উন্নয়নকে পুঁজি করে ও আবার রাজশাহীকে বদলে দেয়ার শপথ নিয়ে চলছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। সাধারণ ভোটারদের ভাবনায় রাজশাহী শান্তির নগরী, সম্প্রীতির নগরী। লিটন মেয়র থাকাকালীন সময়ে এই নগরীর যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত বিএনপির সরকারের সময় হয়নি। গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তেমন কোনো উন্নয়নের মুখ দেখতে পায়নি নগরবাসি। বিএনপির মেয়র যেটুকু উন্নয়ন করেছেন তা লিটনের রেখে যাওয়া উন্নয়ন। তারপরও লিটনের রেখে যাওয়া উন্নয়নের কাজও তিনি শেষ করতে পারেননি। যার ফলে রাজশাহীর উন্নয়ন চাইলে আবারো লিটনকে মেয়র নির্বাচিত করতে হবে এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। আর রাজশাহীর উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। তাহলে লিটন যে বদলে দেয়ার কথা বলছেন তা সম্ভাব। কারণ গত ৫বছর নগরীর রাস্তাঘাট, অবকাঠামোর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাসিক এলাকায় জনজীবনে সেবার মান না বাড়েনি। এদিকে, লিটনের সময় রাজশাহীর উন্নয়নের সাথে পরের পাঁচ বছরে বুলবুলের উন্নয়নের পার্থক্য করছেন অনেকেই। এর ফলাফল বিশ্লেষন করে লিটনের পক্ষে ঝুঁকেছেন অনেকেই। সময় যত যাচ্ছে লিটনের পাল্লা দিন দিন ভারি হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Response