Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজসারাদেশ

রেলের ট্রান্সমিশন ক্যাবল লিজের টাকা দিচ্ছে না গ্রামীণফোন

327views

রেলের ট্রান্সমিশন ক্যাবল লিজের টাকা দিচ্ছে না গ্রামীণফোন

গ্রামীণফোন রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ক্যাবল লিজ নিয়ে দেশজুড়েই চুটিয়ে ব্যবসা করছে গ্রামীণ ফোন। কিন্তু কিন্তু অর্ধযুগের বেশি সময় ধরেই রেলওয়েকে লিজের টাকা পরিশোধ করছে না। অথব ওই মোবাইল অপারেটরটি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে রেলের নেটওয়ার্ক ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী রেলওয়ের ক্যাবলটি নিজেরা ছাড়া অন্য কাউকে ভাড়া বা ব্যবহার করতে না দেয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু গ্রামীণফোন ক্যাবলটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে উল্টো রেলওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিগত ৭ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। মামলার ফাঁদে ফেলে গ্রামীণ ফোন রেলওয়েকেও কোন টাকা পরিশোধ করছে না। গ্রামীণফোনের কাছে রেলওয়ে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩শ’ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিটিসিএল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গ্রামীণফোন ২০ বছর আগে রেলওয়ের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তির আলোকে রেলওয়ের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক কোম্পানিটি ব্যবহার করছে। উভয়পক্ষ ২৬ বছর মেয়াদে চুক্তি করে। যখন চুক্তিটি হয় তখন দেশে কোন এনটিটিএন (নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) লাইসেন্স ছিল না। পরবর্তীতে বিটিআরসি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এনটিটিএন লাইসেন্স দিয়েছে। সেগুলো হলো ফাইবার এ্যাট হোম, সামিট কমিউনিকেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড) ও বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড)।

সূত্র জানায়, রেলওয়ের সাথে গ্রামীণফোনের অসম চুক্তির কারনে রেলওয়ের ওই সেবা অন্য কাউকে দেয়া যাচ্ছে না। এমনকি মোবাইল অপারেটরটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ইনফো সরকারের সংযোগ দিচ্ছে না। গ্রামীণফোনের চেয়ে আরো বেশি দামে বেশ কটি টেলিকম অপারেটর রেলওয়ের এই নেটওয়ার্ক ভাড়া নিতে চাইলেও রেলওয়ে দিতে পারছে না। চুক্তির অজুহাতে অন্য কাউকে সে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। অথচ ফাইবার লে আউটের বিধান লঙ্ঘন করেছে গ্রামীণফোন। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি রেলওয়ের ৬ কোরের ফাইবার ফেলে দিয়ে ৪৮ কোরের ফাইবার লে আউট করেছে। সেখান থেকে তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে ফাইবারের ক্যাপাসিটি বিক্রি করছে। চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীণফোন তা করতে পারে না।

সূত্র আরো জানায়, রেলওয়ে বিগত ২০১০ সালের জুনে পাওনা টাকা চেয়ে গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়। সেখানে গ্রামীণফোনের কাছে বর্ধিত চার্জ বাবদ ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়। আর ওই চিঠি প্রাপ্তির পরই গ্রামীণফোন আদালতে মামলা করে। তারপর থেকে কোম্পানিটি রেলওয়েকে কোনো টাকাই দিচ্ছে না। বিগত ২০১৪ সাল পর্যন্ত রেলওয়ের হিসাবে গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ৯৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের শেষে সব মিলিয়ে রেলওয়ের পাওনা ৩শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ গ্রামীণফোনের কাছ থেকে কোন টাকাই পাচ্ছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গ্রামীণফোন জানিয়েছে রেলওয়ের সঙ্গে তাদের সব লেনদেন আইনসঙ্গতভাবে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে রেলওয়ের ক্যাবল গ্রামীণফোনকে প্রাথমিকভাবে ২০ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয়। পরবর্তীতে সংশোধনীর মাধ্যমে লিজের মেয়াদ ১০ বছর বাড়ানো হয়েছে। লিজ চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রামীণফোন ইতিমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ৬শ’ কিলোমিটার ফাইবার নতুনভাবে স্থাপন করেছে। অন্যদিকে বিটিআরসি সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলওয়ে যখন লাইসেন্স পেয়েছে তখন গ্রামীণফোনের সঙ্গে তাদের চুক্তি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং প্রতি মিটার ফাইবার অপটিকের সরকার অনুমোদিত লিজ রেট যেখানে ২ টাকা, সেখানে গ্রামীণফোন রেলওয়ের ক্যাবলের লিজ বাবদ দিচ্ছে মাত্র ৬৮ পয়সা। চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোন অপারেটরের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা, ভাড়া ও লিজ দেয়া কিংবা সংস্কার করা গুরুতর অপরাধ। ওই আইন লঙ্ঘন করলে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল ও ১০ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। অথচ গ্রামীণফোন লাইসেন্স ছাড়াই বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে এই নেটওয়ার্ক ভাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Response