Sunday, September 20, 2020
উত্তরাঞ্চলটপ নিউজরাজশাহী

রেড জোনে রাজশাহী নগরী

রেড জোনে রাজশাহী নগরী

রেড জোনে রাজশাহী নগরী
রেড জোনে রাজশাহী নগরী
135views

এক দিনেই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৬ জনের করোনা সনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়তে থাকায় রেড জোনে ঢুকে পড়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকা। গত সোমবার পর্যন্ত রাজশাহী নগরীতে ১৭১ জনের করোন সনাক্ত হয়। তবে, মঙ্গলবার রাজশাহী শহরের আরো ৩৬ জনের করোনা সনাক্ত হয়। এনিয়ে নগরীতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২০৭ জনে। সে হিসেবে রাজশাহী নগরী এখন রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক। রেড জোন হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা আলাদা আলাদাভাবে লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান সিভিল সার্জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী জেলার আরও ৬৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা ৩৬ জন। মঙ্গলবার দুইটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর তাদের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এ দুই ল্যাবে মঙ্গলবার ৩০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস ও রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও ল্যাব ইনচার্জ প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনাহার এ তথ্য জানান। তারা জানান, নতুন শনাক্ত ৩৬ জন নিয়ে রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়াল ৩৩৫ জনে। এর মধ্যে নগরের ২০৭ জন। রাজশাহীতে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে করোনা ল্যাবের একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগের করোনা ল্যাবে ১১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তরা সবাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাস করেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন, মিশন হাসপাতালের ৫ জন ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের একজন রয়েছেন।
অপরদিকে, রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও ল্যাব ইনচার্জ প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, রামেক ল্যাবে দুই শিফটে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ১৮৭ জনের নমুনার। যার মধ্যে ৩৭ জনের নমুনায় করোনা পজেটিভ এসেছে। রাজশাহীর ৬ জন ও পাবনার ৩১ জন। রাজশাহীতে নতুন আক্রান্ত সবাই নগরীতে বসবাস করে।
এর মধ্যে মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাবের শামীম আখতার এর নমুনা পজিটিভ এসেছে। এর আগে তার মা ও ছেলের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। নতুন ৩৬ জন শনাক্ত হওয়ায় রাজশাহীতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৩ জনে দাঁড়াল। আর রাজশাহীতে ৬ জন মারা গেছেন করোনায়।
এদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, আমরা এখন রেড জোনে পড়ছি। রেড জোনের যে থিওরি ছিলো সেটি পরিবর্তন হবে। সে হিসেবে সারা বংলাদেশের প্রায় সব সিটি কর্পোরেশন এলাকা রেড জোন এলাকায় পড়ছে। আজকেও এ সংক্রান্ত নতুন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় আরও অনেক কিছু আছে। সেই হিসেবেও নগরী এখন থিওরিটিক্যালি রেড জোনে।
তিনি আরও বলেন, রেড জোন এলাকায় লকডাউন বাস্তাবায়ন করতে হলে গোটা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় করতে হবে। সেটি করা সম্ভব না। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কোথায় কোথায় সনাক্ত রোগী আছে সেটি খুঁজে বের করে তাদের একটি অংশ বা বাড়ি অথবা ১০ টি পরিবার লকডাউন করলে বাকিরা সাচ্ছন্দ বোধ করবে। এর মাধ্যমে সংক্রমনটিও আটকানো যাবে।
সিভিল সার্জন বলেন, পুরো এলাকটা লকডাউন করলে অনেক সমস্যা হবে। অনেকের খাবারও সমস্যা হবে। সেজন্য আংশিক বা কিছু বাড়ি লক ডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য আরও কাজ করতে হবে। আরও ডাটা প্রয়োজন। আমরা সেগুলি চেয়ে পাঠিয়েছি। এখন সমস্যা হলো ডাটা নিয়ে। আমাদের সিটি কর্পোরেশন যে তথ্যগুলো দিচ্ছে সেগুলি পাওয়া যাচ্ছে, তবে মেডিকেল কলেজ ও মিশন হাসপাতাল যে নমূনা সংগ্রহ করছে। তাদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ট্রাকিং সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল নম্বরেও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ট্রাকিং এর জন্য আরও ভালো করে নম্বর যাচাইয়ের জন্য বলেছি। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোথায় কত সনাক্ত আছে তার তথ্য চেয়েছি। সেটি পেলেই ডাটা নিয়ে লকডাউন করা হবে।

Leave a Response