Thursday, October 22, 2020
রাজনীতি

রাসিক নির্বাচন:অলি গলিতে উৎসব

190views

রাসিক নির্বাচন:অলি গলিতে উৎসব

হাবিব আহমেদ: গত রমজানের ঈদ চলে গেছে বেশ কিছুদিন হলো। ঈদকে সামনে রেখে নগরীজুড়ে ছিল আদন্দের জোয়ার। সেই ঈদের রেশ কাটতে না কাটতে শুরু হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ঈদ চলে গেছে তো কি হয়েছে। রাসিক নির্বাচন আবার সেই ঈদের আমেজ ফিরিয়ে এনেছে। রাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। পড়ামহল্লায় সবখানেই যেনো আনন্দের বন্যা। ছোট-বড়, যুবক-যুবতি আবাল বৃদ্ধ সবার প্রাণে দোলা দিচ্ছে এই আনন্দ।

রাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩০ ওয়ার্ড সেজেছে নতুন সাজে। ফুল বা আলোকসজ্জায় নয়, পোস্টারে পোস্টারে পুরো নগরী এখন নতুন সাজে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের শুধু পোষ্টার আর পোস্টার। আনন্দের সাথে প্রার্থীদের সমর্থকরা সাটাচ্ছেন পোষ্টার ব্যানার, ফেসটুন। আর এতে আয়ও হচ্ছে কর্মীদের। ঈদের খুশিতে বড়রা ছোটদের ঈদ সেলামী দেন। নির্বাচন আসার পর পোষ্টার সাটানোর জন্য একই ভাবে প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের দিচ্ছেন সেই সেলামী। যদিও তারা বলছেন প্রার্থীরা তাদের পরিশ্রমিক দিচ্ছেন না, এটা তাদের সেলামী। যার কারণে যুবকরা দিনরাত প্রার্থীদের পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গানো নিয়ে যেনো দম ফেলানোর সময় নেই। দিন কিংবা রাত সব সময় পাড়া-মহল্লার যুবক কিশোররা প্রার্থীদের কাছে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে বসেছে নতুন নতুন চা এর দোকান। ঈদের ছুটিতে মানুষ যেমন বন্ধ বান্ধবদের নিয়ে আড্ডা দেন তেমনি চায়ের স্টলে চরছে ভোট নিয়ে আলোচনা সমালোচনা। দিনভর কাজ করে যারা বাসায় একটু বিশ্রাম নেন, তারাও বিকেলের মধ্যে কাজ কাম সেরে বসে পড়ছেন চায়ের দোকানে। রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে খোস গল্প। কিছু কিছু চায়ের স্টল প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত। সেখানে চা পান করলে টাকার প্রয়োজন পড়ছে না। যার কারণে বেশিরভাগ চায়ের দোকানে ভোটারদের ভীড় দেখা যাচ্ছে চোখে পড়ার মত। এছাড়াও ঈদের সময় যেমন মাংস ডিমের দাম বেড়ে যায় তেমনি রাসিক নির্বাচন আসার পর মাংস ডিমের ডিম বেড়ে গেছে। ভোটের প্রচারণার সাথে ভুড়ি ভোজের মহোৎসব চলছে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়। শুধু তাই নয়, দিনভর নগরীর আনাচে কানাচে প্রার্থীদের প্রচার মাইকে নানা রং, ঠংয়ের গান বাজছে মাইকে। কাক ডাকা সকাল থেকে শুরু হচ্ছে মাইকের শব্দ চরলছে গভীর রাত পর্যন্ত। আর প্রচার মাইকে প্রার্থিদের গুনগানের পাশাপাশি গানের সুরে সুরে উঠে আসছে নানা ব্যঙ্গ করা গান। এতে উৎসবের মাত্রা আর একটু বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে এই নির্বাচনী ঈদ শুধু প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঈদের আগে যেমন প্রেসগুলোতে থাকে ব্যস্ততা, তেমনি নির্বাচন আসার পর ছাপাখানাগুলোতে চলছে নির্বাচনী ঈদের আমেজ। তাদের দম ফেলানোর সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাপাখানার কারিগররা নিরলসভাবেক কাজ করছেন। কারণ নির্বাচনের সময় ছাপাখানার মালিকরা বাড়তি আয় করে থাকেন। সেই সুযোগটি হাত ছাড়া করতে চাচ্ছেন না ছাপাখানার মালিকরা। তাই বাড়তি শ্রমিক নিয়ে দিন রাত চলছে পোস্টার ব্যানার ছাপানোর কাজ। এতে একদিকে যেমন কর্মচারিদের বাড়তি আয় হচ্ছে তেমনি মালিকরাও গুনছেন বাড়তি টাকা।

Leave a Response