Tuesday, October 20, 2020
রাজশাহী

রামেক হাসপাতালে কর্মচারি ইউনিয়নের দ্বদ্বে ব্যহত সেবা

225views

রামেক হাসপাতালে কর্মচারি ইউনিয়নের দ্বদ্বে ব্যহত সেবা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেনি কর্মচারি ইউনিয়নে আবারও শুরু হয়েছে বিভক্তি। ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক ঘটনা জন্ম হচ্ছে রামেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারি ইউনিয়ন নিয়ে। এতে একদিকে যেমন কর্মচারিদের মধ্যে শুরু হচ্ছে দ্ব›দ্ব সেই সাথে বাড়ছে ক্ষোভ। এমনকি কর্মচারি ইউনিয়নের নেতা পর্যায়ের কর্মচারিরা ইউনিয়ন নিয়ে দ্বদ্বের কারণে সময় মত অফিস করছেননা। আর এর প্রভাব পড়ছে রামেক হাসপাতালের উপর। এতে কর্তৃপক্ষও পড়ছেন চরম বেকায়দায়। এছাড়াও কর্মস্থলে সময় মত উপস্থিত না থাকার কারণে বর্তমান সভাপতি আলমগীর হোসেনকে কারণ দর্শনোর নোটিশ করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে রামেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আছির উদ্দিন। নির্বাচেনর পর থেকে কর্মচারিদের মধ্যে চাপা দ্ব›দ্ব শুরু হয়। সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে মিল না থাকায় দুজন অবস্থান করেন নেন দুই মেরুতে। এতে ভেঙ্গে পড়ে এই ইউনিয়নের কার্যক্রম। ২০১৫ সালে সভাপতি তার সমর্থকদের নিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করেন। সাধারণ সম্পাদক বিএনপিপন্থী হওয়ায় তিনি শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেননি। বরং কেনো শোক দিবস পালন করা হলো এনিয়েই চাপ দেয়া হয় সভাপতি মাসুদ রানাকে।

ঐ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই সাধারণ সম্পাদক আছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন পদস্থ কর্মচারিদের সাথে যোগ সাজস করে সভাপতি মাসুদ রানার উপর অনাস্থা নিয়ে আসেন। ঐ সময় সভাপতি মাসুদ রানাকে রামেক হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলী করে দেয়া হয়। ঐ সময় কোনো নির্বাচন ছাড়াই সভাপতি হন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি আলমগীর হোসেন ও পুনরায় সাধারণ সম্পাদক থেকে যান আছির উদ্দিন। এতে শুরু হয় ইউনিয়ন নিয়ে ত্রি-মুখি দ্বদ্ব। রাতারাতি আলমগীর হোসেন ও আছির উদ্দিন ভোট ছাড়াই সভাপতি সম্পাদক হওয়ার বাড়তে থাকে ক্ষোভ। এরই মধ্যে সভাপতি সম্পাদক রামেক হাসপাতালের মোটরসাইকেলের গ্যারেজ ও রান্নাঘর নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেন।

সভাপতি ও সম্পাদক রামেক হাসপাতালের প্রশাসনের কাছে বৈধতা না পেলেও গ্যারেজ দুই বছরের জন্য প্রায় ২১ লাখ টাকায় লিজ দেন। কিন্তু কর্মচারিদের মধ্যে দ্বদ্বের কারণে পরিচালক এক বছরের জন্য বিষয়টি বিচেনায় নিয়ে তা অনুমতি দেন। দীর্ঘদিন গ্যারেজের টাকা সাধারণ সম্পাদক আছির উদ্দিনের ব্যাংকে পড়ে থাকার পর কর্মচারিদের ভাগ করে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে অন্যান্য কর্মচারিরা। তবে রান্না ঘরের মোটা অংকের টাকা যায় সভাপতি ও সম্পাদকের পকেটে।

এদিকে বর্তমান সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আছির উদ্দিন যেসব কর্মকচারিদের নিয়ে পুর্বের সভাপতি মাসুদ রানার উপর অনাস্থা এনে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, সেই সব কর্মচারিরাই এবার তাদের উপর অনাস্থা এনে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দিয়েছেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর ৯জন কর্মচারি সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আসির উদ্দিনের উপর অনাস্থা নিয়ে আসেন। এরমধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি নিমরোজ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শব্দর আলীসহ পদস্থ কর্মচারিরা। এবার সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সরকারী কোনো গুরুত্বপুর্ন কর্মকান্ড রেজুলেশন হয় না, প্রশাসনের কাছে এই কমিটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাংগঠনিক কার্যক্রম একেবারে নিস্ক্রীয়। এছাড়াও তারা কর্মচারিদের ভোটে নির্বাচিত নয়, অবৈধভাবে সভাপতি সম্পাদক হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কর্মচারিদের দাবি সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সম্পাদক আছির উদ্দিন বিএনপিপন্থী হওয়ার জাতিয় দিবস পালন হয় না। শোক দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবস ও পালন করা হয়না। রাষ্ট্রীয় কোনো দিবস পালন না করায় আওয়ামীপন্থী কর্মচারিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অপরদিকে রামেক হাসপাতালের কর্মচারি ইউনিয়নে সভাপতি ও সম্পাদক হওয়ার সুবাদে তারা হাসপাতালে সপ্তাহের ৪দিনও উপস্থিত থাকেন না। যার কারণে পরিচালক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি আলমগীর হোসেনকে সম্প্রতি কারণ দশানোর নোটিশ করেছেন।

রামেক হাসপাতালের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা জানান, শোক দিবস পালন করায় বিএনপিপন্থী সাধারণ সম্পাদক আছির, বর্তমান সভাপতি আলমগীর তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কয়েকজন কর্মচারি হাত করে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তৎকালীন পরিচালককে হাত করে তাকে হাসপাতাল থেকে বদলী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, যারা তাদের উপর অনাস্থা নিয়ে এসে স্বাক্ষর করেছে তা সম্পন্ন জাল স্বাক্ষর। যারা স্বাক্ষর করেছে তারা পুনরায় জবানবন্দি দিয়েছে যে ওই স্বাক্ষর তাদের নয়।

বিষয়টি নিয়ে রামেক হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টার মোসারফ হোসেন বলেন, রামেক হাসপাতালে কোন কর্মচারি ডিউটিতে আসলো কে আসলো না আমার নজরে থাকে। যদি কোনো কর্মচারি সময়মত কর্মস্থলে যোগ না দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে পরিচালক বরাবর লিখিত ভাবে জানানো হয়। পরে পরিচালক সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি জানান, যারাই ইউনিয়নের পদ পান তারাই ঠিকমত হাসপাতালে ডিউটি করে না। এতে সমস্যায় পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে।

Leave a Response