Friday, October 23, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

৩শ টাকায় থিসিস পেপার!

383views

রাবির ফটোকপি দোকানে প্রকাশ্যে থিসিস বিক্রি, ভাবনা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত কয়েক বছর ধরে ফটোকপির দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন থিসিস পেপার। তবে প্রকাশ্যে থিসিস বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফটোকপির দোকানে সহজলভ্য হওয়ায় মাস্টার্স পর্যায়ে গবেষণা জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এর বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ গবেষকগণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পূর্বের গবেষণা পেপারের সহজলভ্যতাকেও দায়ি করেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এমন জালিয়াতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজ বেগম বলেন, ‘উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এটা কাম্য নয়। জাতির জন্য এটা খুবই হতাশাজনক। তবে আমাদের দেশের টপ টু বটম যদি দূনীতিগ্রস্থ হয় তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা জায়গা? সেই প্রভাব তো আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একটু পড়বে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, থিসিসের পুরাতন কপি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম মার্কেট ও পরিবহন মার্কেটের দোকানগুলো থেকে গ্রহণ করেন তারা। এরকম প্রায় ১৪-১৫ টি দোকানে এই পুরাতন পেপার পাওয়া যায়।

গবেষণার পুরাতন পেপার গুলো শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোকপির দোকানগুলো থেকে জোগাড় করছেন। সর্বনিম্ন ৩ শত টাকাতে বিক্রি হয় সফট কপি। চাহিদার সাথে গবেষণা পেপার মিলে গেলে টাকা বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে ৫ শত টাকা বা আরও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয় এসব গবেষণাপত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের চক্ষুগোচর হলে একই বর্ষের সকলের ফলাফল দিতে আপত্তি জানায় বিভাগের শিক্ষকগণ।

এ প্রসঙ্গে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘একই বিষয়ে বারবার গবেষণা হলে শিক্ষার্থীরা পূর্বের গবেষণা থেকে অনুকরণ করার সুযোগ পায়। এভাবে অনুকরণ করার মানসিকতা তাদের পরিবর্তন হয়না। গবেষণা জালিয়াতি বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তি এসেছে যা দিয়ে গবেষণা জালিয়াতি হচ্ছে কি হচ্ছে না সেটা পরীক্ষা করা যায়। সেটা ইংরেজি হোক বা বাংলা হোক। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বিভাগ পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি সরবরাহ করেন এবং সেগুলো নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে রাখেন তাহলে হয়তো গবেষণা জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব’।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. বাবুল ইসলাম বলেন, ‘যদি মাস্টার্সের থিসিস জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ঐ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর বহিস্কারের আইন আছে’। এদিকে গবেষক তৈরির প্রথম ধাপেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গবেষণা হলে ভবিষ্যতে উন্নত গবেষণা বা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি আদৌ হবে কিনা সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যপক এ কে এম ইয়াকুব আলী বলেন, ‘জাতির জন্য একটা খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়ে গেছে যার প্রভাব সমাজে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। এমন সস্তা গবেষণা হওয়ায় প্রকৃত জ্ঞান তলানীতে পড়ে যাচ্ছে,  জ্ঞানের মূল্য কমে যাচ্ছে’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। কিভাবে সেগুলো ফটোকপির দোকানে গেলো, কারা এগুলো করছে সেগুলো দেখা হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলে এমন কিছু পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান উপ-উপাচার্য।

Leave a Response