Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজবিশেষ সংবাদরাজশাহী

রাজি হলেন না মিনু

440views

রাজি হলেন না মিনু

রাজি হলেন না মিনুনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুকে মেয়র প্রার্থী করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপি নেতারা। দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মিনুকে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। সিটি মেয়র ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাদ দিয়ে এবারে আবারো মিনুকে প্রার্থী করার চেষ্টা করছিল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা। কেন্দ্রের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও এই পক্ষে ছিলেন। কিন্তু মিজানুর রহমান মিনু শেষ পর্যন্ত তাতে রাজি না হওয়ায় মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলই আবারো দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মিনু বলছেন, বুলবুল ছোট ভাই, সে বর্তমানে মেয়র আছে। ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এ অবস্থায় বুলবুলেরই মনোনয়ন পাওয়া উচিত।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিপক্ষে শক্ত প্রার্থী দেয়ার জন্য বিএনপিতে বেশ আগে থেকেই চেষ্টা চলছিল। এ ক্ষেত্রে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাইও করা হয়। মেয়র বুলবুল তার দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সফল হয়েছেন কতটা ব্যর্থ এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়। সেইসঙ্গে মেয়রের দায়িত্ব পালনের সময় তার ব্যবহারে সাধারণ মানুষ বুলবুলের প্রতি খুশি নাকি নাখোশ এসব বিষয়ও দেখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বুলবুলই প্রার্থী থাকবেন নাকি বিকল্প কোনো প্রার্থীকে দিলে ভালো ফল আসবে এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ সিদ্ধান্ত নেন, বুলবুলের থেকে এই মুহূর্তে শক্ত প্রার্থী মিনু। মিনু দীর্ঘদিনের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যে অবস্থান তৈরি করেছেন তাতে তিনিই ভালো ফল করবেন বলে মনে করে ঐ মহলটি। সেইসঙ্গে দলের ভেতরে বর্তমানে যে বিভেদ তা বুলবুলের পক্ষে স্বাভাবিক করা যতটা কঠিন, মিনুর পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে। সব শেষ খায়রুজ্জমান লিটনের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পর মিনুর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আরো বেশি আলোচনায় আসে। এরই প্রেক্ষিতে বুলবুলের বদলে মিনুকে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। অবশ্য বুলবুলের পক্ষেও একটি অংশ অবস্থান নিয়েছিলেন। বুলবুলকেই আবারো প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছিলেন তারা। তবে সেই অংশটি ছিল খুব ছোট।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপিতে মিনুকে পছন্দ করেন না এমন কয়েকজন নেতাও মত দেন মিনুকে মেয়র প্রার্থী করার পক্ষে। অনেকেই মনে করেছিলেন এই প্রস্তাব পেয়ে মিনু আনন্দিত হবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে সম্প্রতি সেই প্রস্তাবে অসম্মতি জানান মিজানুর রহমান মিনু। তিনি মেয়র প্রার্থী হতে চান না, বরং বুলবুলকেই প্রার্থী করার পক্ষে মত দেন। সেইসঙ্গে বুলবুলকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন মিনু। শেষ পর্যন্ত মিনু দলীয় মনোনয়ন না তুলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকেই দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন করান। এমনকি গত সোমবার রাতে মিনু, বুলবুল এবং শফিকুল হক মিলন ঢাকায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও মিনুর অবস্থান ছিল বুলবুলের পক্ষে। আর এরই প্রেক্ষিতে আলোচনা শেষে বুলবুলকেই প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরদিনই শুধুমাত্র বুলবুলের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন উঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং শফিকুল হক মিলন একসঙ্গে ঢাকায় যান বুলবুলের মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ নেয়ার জন্য। ঐদিন রাতে দলের মহাসচিবের কাছে সাক্ষাৎকার দেন বুলবুল। দলীয় সূত্র বলছে, বুলবুল দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ১৭ বছর মেয়র থেকেছি আর এই পদে যেতে চাই না। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে সেই ভোট করব। বুলবুল ছোট ভাই, সে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়নি। আমার বিশ্বাস সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে বুলবুলের জন্য কাজ করবে এবং আবারো তাকে নির্বাচিত করবে। মিনু দাবি করেন আগামীতে বিজয়ী হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর উন্নয়নে আরো ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

Leave a Response