Monday, November 30, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বাড়ছে তিনগুন

2.72Kviews

রাসিকের সীমানা বাড়ছে তিনগুন
এলাকা বাড়ার আবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে
সিটি কর্পোরেশনের আওতাক্তুক্ত হবে নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভা এবং দামকুড়া ও কর্ণহার থানা

রাজশাহী সিটি করপোরেশন ভবন

এম ওবাইদুল্লাহ: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সীমানা বৃদ্ধি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে সীমানা বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট একটি আবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে দাখিল করেছে সিটি কর্পোরেশন। আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিটি গঠন ও পর্যবেক্ষন শেষে পাওয়া যাবে চূড়ান্ত অনুমোদন। নাগরিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়নের জন্যই এই পরিকল্পনা গ্রহন করেছে রাসিক। এতে বর্তমান সীমানার সাথে যোগ হবে পবা উপজেলার নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভা এবং দামকুড়া ও কর্ণহার থানা। ফলে মহানগরীর বর্তমান আয়তন ৯৬ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্যানেল মেয়র-১ ও নগরীর ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বাবু জানান, ২০৫০ সালকে সামনে রেখে আধুনিক নগরায়নের কথা ভেবে মহানগরীকে বর্তমানের চেয়ে তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী অপরিকল্পিত নগরায়ন হতে রক্ষা পাবে। এর ফলে নাগরিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ১৮৭২ সালে পৌরসভার মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৮৭ সালে সিটি কর্পোরেশনে রুপান্তিত হয়। আর ১৯৯৪ সালে প্রথম নির্বাচিত মেয়র সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করে। তার আগে দায়িত্বপ্রাপ্তরা মেয়রের দায়িত্ব পালন করতো। সেই ১৯৯৪ সালে সিটি কর্পোরেশনের যে সীমানা ছিল বর্তমানেও সেই সীমানা নিয়েই কাজ চলছে। কিন্তু একটি পরিকল্পিত নগরী গড়তে হলে বর্তমানে রাজশাহী নগরীর যে সীমানা আছে সেটা বাড়ানো দরকার। সেই লক্ষ্যে নগরীর পার্শ্ববর্তী যে অঞ্চল গুলোকে আরো উন্নয়ন করা যায় সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি।

ইতিমধ্যে চায়নার ‘পাওয়ার চায়না’ নামের একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত নগরীর কী কী উন্নয়ন করা যায় সেগুলোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। এ বছরের মধ্যেই তারা সেই পরিকল্পনাটি দাঁড় করাবে এবং সেখানে ইনভেস্টও করবে। তাদের সাথে সিটি কর্পোরেশন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) একত্রে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান ঘোষণা দিয়েছেন, এ মেয়াদে বাংলাদেশের গ্রাম এবং শহরের পার্থক্য দূর করা হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বর্তমান মহানগরীর আয়তন ৯৬ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার। নতুন সীমানা বৃদ্ধি ফলে নগরীর সীমানা হবে প্রায় ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার। এ সীমানা বৃদ্ধির ফলে কিছু গ্রাম এলাকা সীমানার মধ্যে পড়বে। সেখানে কিছু চাষাবাদ জমিও আছে। আমরা চাষাবাদ জমি ঠিক রেখে গ্রামের অবকাঠানোগত উন্নয়ন করতে চাই। সর্বপরি রাজশাহীকে সময়োপযোগী ও কার্যকর বাস্তব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে একটি শিক্ষিত, সমৃদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর এবং বসবাসবান্ধব একটি নগরী উপহার দিতে চাই।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সীমানা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি টিম পাঠিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষন করবে। এ কাজের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হবে। এছাড়া নিটার কমিটি (ঘরঃধৎ-প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি) এটি পর্যবেক্ষন করবে। বর্তমানে সীমানা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে। সরকারের এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে।

Leave a Response