Tuesday, October 20, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অচলাবস্থা, চেয়ারম্যান ও সচিবের দ্বদ্ব

521views

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অচলাবস্থা
চেয়ারম্যান ও সচিবের দ্বদ্বে বোর্ডের
কর্মকর্তা কর্মচারিরাও দুই ধারায় বিভক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের দ্বন্দ প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার রেষারেষির ফলে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে মুখেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে এই দুই কর্মকর্তার দ্বদ্বের বিষয়টি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষা বোর্ডে দাপ্তরিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে গেছে। এরই মধ্যে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে অবগত করা করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার গ্রপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র জানায়, বোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে বোর্ড সচিবের দ্বদ্বের প্রভাব পড়ছে এখানকার দৈনন্দিন কাজেও। অফিসের যেকোন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দুজনের দু’ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। এমনকি কে চেয়ারম্যানের আর কে সচিবের পক্ষের লোক এসবও খোঁজা হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে এসব ভাবনার কারণে অনেক ফাইলই চলছে মন্থর গতিতে।

বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার প্রথমে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে বোর্ড সচিব অধ্যাপক আনারুল হক প্রাংকে ডিঙ্গিয়ে বোর্ডের সচিব হন। এরপর থেকেই তার দ্বদ্ব শুরু হয় বোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের ওই কর্মকর্তারা জানান, বোর্ডের উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা পরস্পরকে আস্থায় নিতে না পেরে বিপরীতমুখী অবস্থানে গিয়ে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রমকে অচলাবস্থার মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি বলছেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে সচিব হওয়ার পরই হয়তো চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার। একারণে চেয়ারম্যানের সাথে তার ভালো সম্পর্ক হঠাৎ করেই শেষ। এদিকে, বিভিন্ন সূত্র জানায়, বোর্ডের সার্বিক কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনতে এবং দুই কর্মকর্তার মধ্যেকার দ্বদ্ব নিরসনে উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নূর-উর-রহমান। তিনি একাধিকবার দুই কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করলেও বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিব নিচ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের এই দুরত্ব শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক পরিবেশই নষ্ট করছে। এ অবস্থায় পরিবেশ স্বাভাবিক করা খুবই জরুরী। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রানের জন্য প্রয়োজনে চেয়ারম্যান ও সচিব পদে নতুন করে কাউকে নিয়ে আসা জরুরী।

এদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজশাহীর সামাজিক সংগঠন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ বোর্ড চেয়ারম্যানের দুর্নীতির তদন্ত এবং তার অপসারণ দাবিতে আগামি ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বোর্ড চেয়ারম্যানের দুর্নীতি তদন্ত এবং তার অপসারণ দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বোর্ডের বিভিন্ন সময়ের উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিক্ষা বোর্ডের নতুন ও পুরাতন অফিস ভবন সংস্কারের ৪০ লাখ টাকা, রাস্তা নির্মাণের ১৫ লাখ টাকা, নগরীর কাজিহাটাস্থ বোর্ডের বিল্ডিং বিউটি ভিলা সংস্কারে তিন দফায় ১২ লাখ টাকা, বেলদারপাড়াস্থ বোর্ড চেয়ারম্যানের বাসভবন ও সীমানা প্রাচীর সংস্কারে ৪০ লাখ টাকা, বোর্ডের ভেতরের রাস্তা আরসিসি করতে ৫ লাখ টাকা এবং ঢাকাস্থ শিক্ষা বোর্ডের রেস্ট হাউজ সংস্কার, এসি ও ফ্রিজ কেনার কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে।

এছাড়াও ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পিপিআর লংঘন করে নামমাত্র কোটেশনের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের বেশকিছু টাকার কাজ করা হয়েছে, পরবর্তীতে যেগুলোতে অডিট আপত্তি উঠেছে। দুদকের চিঠিতে বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অডিট আপত্তি থাকার পরও কোটেশনের মাধ্যমে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও রাজশাহীতে এপার্টমেন্ট কেনারও অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Response