Tuesday, October 27, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পদে পদে ভোগান্তি

520views

পদে পদে রোগির ভোগান্তি

রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে লম্বা লাইন
দালাল ও ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শুধু উত্তরাঞ্চলই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রোগিরা। বর্তমানে চিকিৎসার মান উন্নয়নের জন্য রোগির সংখ্যা বেড়ে গেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। এরমধ্যে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগি চিকিৎসা নিতে আসেন।

দুর দুরান্ত থেকে এসব রোগিরা এলেও তারা পাচ্ছে না কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক ও সংশ্লিদের অবহেলার কারণে চিকিৎসা না নিয়ে বা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই অনেককেই বাড়ি ফিরতে হয়। অথবা রোগিদের দালালদের খপ্পড়ে পড়ে অধিক টাকা খরচ করে বাইরে চিকিৎসা সেবা বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসকরা ঘন্টার পর ঘন্টা দালাল, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথের সাক্ষাতের কারণে রোগিদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। এছাড়াও কিছু চিকিৎসক বাইরের ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলেও রোগির সাথে প্রতারণা করছেন। শুধু তাই না, যেসব রোগিরা চিকিৎসা পান তারাও বহির্বিভাগ থেকে বের হওয়ার পর হয়রানির শিকার হতে হয়। রোগিদের নিয়ে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা শুরু করে ফটোসেশন। তবে এসব বিষয় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। এমনকি তারা বিষয়টি জানেন না বলেও মন্তব্য করেছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিনি লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রোগিদের টিকিট নিতে দেখা যায়। এরপর কোনমতে টিকিট সংগ্রহের পর আবার লাইন ধরতে হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দরজার সামনে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার পর শুরু হয় পরীক্ষা নিরীক্ষার পালা। সেখানেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েই রিপোর্ট জমা ও গ্রহণ করতে হয়। আর যেসব রোগির পরীক্ষা নিরীক্ষা থাকে না তারা বহির্বিভাগের ভেতরেই পুনরায় ওষুধের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ওষুধ সংগ্রহ করেন।

তবে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পর তিনস্তরে ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু মাত্র ওষুধ সংগ্রহে ভোগান্তি কিছুটা কম থাকে। কারণ চিকিৎসকরা হাসপাতালে ওষুধ থাকলেও বেশিভাগ রোগিদের হাসপাতালের ওষুধ লেখেন না। বেশিরভাগ রোগিকেই বাইরে থেকে ওষুধ বিভিন্ন কোম্পানীর ওষুধ নিতে হয়। এখানেই শেষ নয়, বহির্বিভাগ থেকে বের হওয়ার পরপরই ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের শুরু হয় ফটোসেশনের পালা। তারা এক প্রকার জোর করেই রোগির ওষুধের তালিকা দেখেন। কোনো রোগি তা দেখাতে না চাইলে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তাদের সাথে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এতো কিছুর পরও কোনো কিছুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। এরজন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয় না।

জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে তিন হাজার রোগি বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু রোগ মুক্তির আশায় তারা বহির্বিভাগে এসে নানা ভোগান্তির শিকার। দেখা যায়, বহির্বিভাগের গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। তারপর টিকিট কাউন্টারের চারপাশে ছাড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে অসংখ্য দালাল। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে একাধিক জায়গায় লেখা রয়েছে দালাল, প্রতারক হতে সাবধান। সাধারণত বহির্বিভাগে রোগিদের রক্ত পরীক্ষার জন্য দুপুর ১২টার পর আর কোনো কিছুই জমা নেয়া হয় না। পুনরায় অপেক্ষা করতে হয় পরের দিনের জন্য। রোগিদের এক্সরে কারাতে প্রথমে লম্বা লাইন শেষেও লাইন ধরে তা নিতে হয়।

এদিকে চিকিৎসকের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে নারী ও পুরুষ ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। দেখলে বোঝার উপায় নেই যে তারা বহির্বিভাগের কর্মচারি না। কিন্তু তারা সবাই রিপ্রেজেন্টিভ। বিশেষ করে বহিবিভাগের ৭, ১৩, ১৪ ও ৩৬ কক্ষের সামনে রিপ্রেজেন্টিভদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একইভাবে সেখানে অবস্থান করে দালালরা। রোগিরা চিকিৎসকের রুমের ভেতর প্রবেশ করার সময় দালালরা জানায় ‘চিকিৎসক নেই। রোগিদের উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেয়া হয়।

এদিকে বহির্বিভাগের গাইনি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, সেখানেও দালাল ও রিপ্রেজেনটিভদের দৌরাত্ম। নারী রোগির কোনো পুরুষ অভিভাবকদের সেখানে ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী থাকলেও ওষুধ কোম্পানীর পুরুষ প্রতিনিধিদের সেখানে ঢুকতে কোনো বাধা নেই। এমনকি দালালরা এই বিভাগের চিকিৎসকদের সাথে বসে আড্ডা দেন। আর বাইরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন রোগিরা।

বিষয়টি নিয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি দালাল ও ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি বহির্বিভাগে নেই দাবি করে বলেন, নাম পরিচয়সহ নিয়ে আসেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Response