Saturday, October 24, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহী কলেজে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্ণার

603views

রাজশাহী কলেজে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্ণার

কামরুল ইসলাম: এশিয়া মহাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরপর তিনবার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জনকারী দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ রাজশাহী কলেজ। শুধু পড়াশোনার দিক দিয়েই নয়, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় অনেক ব্যবস্থাই গ্রহণ করে চলেছে কলেজটি। বিভিন্ন ব্যাতিক্রমী উদ্যোগের পাশাপাশি কলেজ প্রশাসন এবার নিয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বিরল প্রজাতির গাছ সংরক্ষনের উদ্যোগ। আর এই উদ্যোগটি স্বয়ং দেখভাল করছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান নিজেই।

লোহা কাঠ, তমাল, কানাইডিঙ্গা/সিভিট, তেলসুর, রক্তন, মহুয়া, পুত্রঞ্জিব, দৈঘোটা, পামওয়েল ট্রি, রামবুটাম, এজোলিয়া, গ্যালফোনিয়া, মুচকন্দ, ইক্সোরা, পাখিফুল, অশোক, অ্যাভাকেডো, পারিজাত সহ প্রায় ২০রকমের বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে। এসব গাছের রয়েছে বিভিন্ন গুনাগুন। তার মধ্যে অনেক গাছে ঔষধী গুনও রয়েছে। কলেজের কেমিস্ট্রি বিভাগের সামনে নির্দিষ্ট একটি জায়গা ঘিরে ‘বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্ণার’ তৈরী করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। এ কর্ণারে প্রায় ৮টি বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে জানান তিনি। কলেজের ফুলার ভবনের উত্তর-দক্ষিণ ও পেছনে, ইংরেজী বিভগের পূর্ব দিকে, অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে, কলেজ শহীদ মিনার চত্ত¡রে, এবং শহীদ মিনারের পার্শ¦সহ কলেজের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে এসব বিরল প্রজাতির গাছ।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, বিরল প্রজাতির গাছ সংরক্ষনের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কলেজটিকে গ্রীন সিটির গ্রীন কলেজ হিসেবে গড়ে তুলতে এসকল পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যেন কোন ভাবে একঘেয়ামী না হয় এজন্য পুরো কলেজকে সবুজে ভরপুর করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাগানো হচ্ছে বিরল প্রজাতির বিভিন্ন গাছ-গাছালী। শিক্ষার্থীরা এসব বিরল প্রজাতির গাছগুলোর সম্পর্কে জানবে। বিভিন্ন গবেষণায় তারা এসব গাছ গুলোকে কাজে লাগাতে পারবে। প্রায় ২বছর আগে থেকে এ উদ্যগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে গত এক বছর আগে থেকে এই উদ্যগের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে রাজশাহী কলেজ উদ্ভীদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনায়েতুর সাকলাইন বলেন, রাজশাহী কলেজে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষনের যে উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে এটা শুধু পরিচর্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা। এসকল গাছগুলোর বংশ বিস্তারের জন্য উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে টিস্যু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণার মাধ্যমে এসকল গাছ সংরক্ষনের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। গাছগুলো বিভিন্ন প্রদর্শনী, বৃক্ষমেলা, বনবিভাগ, বিভিন্ন নার্সারীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন কিছুদিনের মধ্যেই ভারত থেকে আরো ৫টি গাছ নিয়ে আসা হবে।

অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান আরো বলেন, রাজশাহী কলেজের গাছ জন্মাবে এমন কোন জায়গা ফাঁকা থাকবেনা। প্রতিটি ভবনের সামনে এবং পেছনের যে স্থান গুলো বড় গাছ হওয়ার অনুপযুক্ত সেসব স্থানে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। কলেজের ভেতরের সকল স্থান গাছে পরিপূর্ণর কাজ শেষ হলে খুব দ্রুত কলেজ হোস্টেল গুলোকেও সবুজে ভরিয়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে। তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজ এবং হোস্টেল গুলো সবুজে ভরিয়ে তোলার পরে রাজশাহী কলেজের উদ্যগে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন জায়গায় এভাবে গাছ লাগানো হবে।

Leave a Response