Monday, October 26, 2020
টপ নিউজসারাদেশ

রাজশাহীর নিম্ম এলাকায় খাবার পানির অভাব

364views

রাজশাহীর নিম্ম এলাকায় খাবার পানির অভাব
বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বাহিত রোগ বেড়েছে

হাবিব আহমেদ: রাজশাহীতে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ জ্বর-সর্দি ও ডায়রিয়া। শিশু থেকে শুরু করে যুবক বৃদ্ধরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর-সর্দি ডায়রিয়া প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বন্যায় রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার কারণে এসব রোগ বেশি দেখা দিচ্ছে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এরফলে সব বয়সি মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া।

গত কয়েকদিন থেকে জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে রামেক হাসপাতালে অন্তত ৫০জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগি ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বেশিরভাগ রোগি জ্বর-সর্দি রোগে আক্রান্ত। বাড়িতে বাড়িতে এবার জ্বর-সর্দি রোগ দেখা দিয়েছে। তবে একবার জ্বরে আক্রান্ত হলে এক সপ্তাহ যাবৎ এর স্থায়িত্ব হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর সীমান্তবর্তি এলাকার বেশ কিছু এলাকা বন্যায় তলিয়ে গেছে। এতে এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শহরের দিকে চলে এসেছেন। সাধারণ মানুষ এখনো পানি বন্দি হয়ে সেখানেই মাচা করে বসবাস করছেন। নিম্ন এলাকার পরিবারগুলো ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢোকার কারণে তারা বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন না। কারণ বন্যায় ইতিমধ্যে এলাকার টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বেশিরভাগ পরিবার বন্যার পানি দিয়ে যাবতীয় কাজ সারছেন। কিছু লোকজন দুর দুরান্ত থেকে বিশুদ্ধ পানি এনে পান করলেও বেশিরভাগ পরিবারই তা পারছেন না। এতে এসব পরিবারের শিশু বৃদ্ধ সবার মাঝে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, আমশয় রোগ। শুধু সীমান্তবর্তি এলাকাই নয়, নগরীর খরবোনাসহ পদ্মার তীরবর্তি বাঁধ এলাকায় বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ। পদ্মার তীরবর্তি এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার যেসব বাড়ি ঘরে এখনো পানি উঠেনি সেগুলো বাড়িঘরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে সববাস করছেন। এতে এসব পরিবারে দেখা দিচ্ছে রোগ বালাই।

এদিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি রাজনৈতিক সমাজিক বা স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। পানিবন্দি মানুষ পাচ্ছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি, খাবার স্যালাইন ও ওষুধপত্র। এতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তবে এবার একবার জ্বর-সর্দি হলে এক সপ্তাহেও ছাড়ছে না। হাই এন্টিবায়োটিক ওধুষ ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলছেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। গত বছরের চেয়ে এবার জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়ার রোগির সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন রামেক হাসপাতালে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগি ভর্তি হচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক খলিলুর রহমান জানান, গত কয়েকদিনে মেডিসিন বিভাগে যেসব রোগি ভর্তি হয়েছে তারা বেশিরভাগই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। জ্বর-সর্দি রোগির সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ষা মওসুম এলে এধরনের রোগ বেশি দেখা দেয়। মওসুমি জ্বর বা সর্দিতে আক্রান্ত হয় মানুষ। একটু সচেতন হলেই এসব রোগ থেকে দুরে থাকা যায় বলেও জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন সঞ্জিত কুমান সাহা জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের মানুষের জন্য খাবার স্যালাইন ওষুধপত্র সরবরাহের কাজ শুরু করা হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Response