Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা শঙ্কায়

347views

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা শঙ্কায়

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা শঙ্কায়নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারিভাবে নির্ধারণ করা দামের চেয়ে এবার বেশি দামে চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা। মওসুমী ব্যবসায়ীদের সাথে তাল মিলিয়ে চামড়া কিনতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছে রাজশাহীর প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার প্রতিটি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। মুল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি দামে চামড়া কিনছেন মওসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে লাভের আশায় অতিরিক্ত দামে চামড়া কিনে সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রউফ বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে তাদের আর্থিক ভাবে লোকসান হবার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ব্যবসা ধরে রাখতে তারা বেশি দামে চামড়া কিনছেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, চামড়ার দামের চেয়ে প্রসেসিং ও রক্ষনাবেক্ষন খরচ বেশি। এতে করে ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।এবারো মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে অনেকটাই বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে।

এবারে চামড়া ব্যবসায়ে শেষ পর্যন্ত কি হতে পারে সেটা নিয়েও অজানা আতংকে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী বেলাল আহমেদ বলেন, ২৫টি ছোট-বড় গরুর চামড়া কিনেছিলেন ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা তেমন দাম বলছেনা। এছাড়া তিনি ৫০টি ছাগলের চামড়া কিনেছেন। সেই চামড়াগুলো ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে প্রতিটি।

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, একটি গরুর চামড়া সাধারণত প্রায় ২৪ বর্গফুট হয়ে থাকে। নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ২৪ বর্গফুটে গরুর চামড়া ৩৫ টাকা দরে ৮৪০ টাকা। এতে বিভিন্ন খরচ রয়েছে প্রায় ৩শ’ টাকা। আবার ছাগলের চামড়া সাড়ে হয়ে থাকে সাড়ে তিন বর্গফুট থেকে চার বর্গফুট। এর বিভিন্ন খরচ পড়বে প্রায় ৪০ টাকা।

এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম হবে ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। যা গতবছর ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, যদি চামড়ার দামের এই হাল হয়। তাহলে একটি গরুর চামড়া রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা কত দামে কিনবে? আর বিক্রি করবেন বা কত দামে? এমন প্রশ্ন তুলেছে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন খরচের বিষয়ে জানায়, একটি গরুর চামড়া গড়ে ২৪ বর্গফুট হয়। ঢাকার বাইরে সরকারের বেধে দেয়া ৩৫ টাকা প্রতি বর্গফুট দরে একটি গরুর চামড়া দাম পড়ছে ৮৪০ টাকা। চামড়া রক্ষানাবেক্ষন ও যাবতীয় খরচ বিষয়টিও নির্ধারিত দামের মধ্যেই। খরচ বাদ দিলে অর্ধেকে নেমে আসছে চামড়ার দাম।

তারা জানায়, একটা গরুর চামড়ায় ১২ কেজি লবণ লাগে। যার দাম ১৫০ টাকা। প্রতি চামড়ায় শ্রমিক খরচ (মাঠে থেকে তুলে আড়তে আনা) ১০ টাকা, পরিবহন খরচ ১০-১৫ টাকা (আগে ও পরে), ৩৫ টাকা আড়ৎদারি, ১০ টাকা (নাটোর আড়তে) যাচাইবাছাই, নাটোর আড়তে শ্রমিক খরচ ১০ টাকা, কুলি ও খাজনা দিয়ে ১০ টাকা, লবণজাত করে নাটোর নিতে পরিবহণ খরচ ১৫ টাকা, চামড়া কিনে কোনো স্থানে রাখার খরচ বাবদ ৫ টাকা। এছাড়াও আরো কিছু অন্যান্য খরচ রয়েছে। সবমিলে প্রায় ৩শ’ টাকা খরচ হয় প্রতিটি চামড়ায়। তাহলে নির্ধারিত দাম ৮৫০ টাকার মধ্যে খরচ ৩শ’ টাকা বাদ দিলে থাকে ৫শ’ টাকা। আবার ১০০টি চামড়ার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ যাবে, ৩০টি চামড়া বাদ পড়ে। তাহলে ৭০টি চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম পাবে ব্যবসায়ীরা। বাদ পড়া চামড়াগুলো আরো কম দামে বিক্রি করতে হয় অন্য উপায়ে।

অন্যদিকে চামড়া বিক্রির হিসেব কষলে দাম উঠছেনা খাশি ও ছোট ছাগলের। নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা-বেচা করলে খাসিতে থাকবে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। একটি খাসির চামড়া স্কয়ারে সাড়ে ৪ ফুট। সাধারণত দাম পড়বে ৮১ টাকা। ছোট ছাগলের চামড়া স্কয়ারে প্রায় সাড়ে ৩ ফুট হলে দাম পড়বে ৪২ টাকা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওহাটা বাজারের এক ব্যক্তি ৭৫ হাজার টাকায় কেনা গরু কোরবানী দিয়েছিলেন। তিনি জানান, তার পশুর চামড়া বিক্রি করেন সাড়ে ৬শ’ টাকায়। এই টাকা কাকে দিবেন আর কাকে দিবেন না ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি জানান, এর দ্বিগুণ টাকা দিলেও অনেকে ভাঙগা মন নিয়েই ফিরবেন। তবে ব্যসায়ীরা বলছেন এবার চামড়ার বাজার মন্দা। এবছর চামড়ায় খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হওয়ায় এমন দশা হয়েছে। এটার হকদার হলো প্রতিবেশী ফকির-মিসকিন, গরিব আত্মীয়-স্বজন ও মাদরাসা পড়ুয়া বাবা-মা হারা এতিমরা। এসব গরীবদের জন্যই চামড়ার দাম আবার নির্ধারণ করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Response