Saturday, October 24, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রাজশাহীতে লাইসেন্স করার হিড়িক

389views

রাজশাহীতে লাইসেন্স করার হিড়িক

রাজশাহীতে লাইসেন্স করার হিড়িকহাবিব আহমেদদ; ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভীড় বেড়েছে রাজশাহীর বিআরটিএ অফিসে। যানবাহনের লাইসেন্স করার জন্য মালিক ও চালকরা ভীড় করছে। হঠাৎ করে নতুন লাইসেন্স করা মালিক চালকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশী করে গাড়ির কাগজপত্র দেখায় এখন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন মালিকরা। সোমবার রাজশাহী বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায় আবেদনকারীর লম্বা লাইন। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

তবে লাইসেন্স প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দালালের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দালাল ছাড়া কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা দুররান্ত থেকে যানবাহনের লাইসেন্স করতে রাজশাহীতে আসছেন তারা প্রথমেই দালালের খপ্পড়ে পড়ছেন। এছাড়াও অনেকে তাড়াতাড়ি লাইসেন্স করার জন্য দালালের সরনাপন্ন হচ্ছেন। এছাড়াও দালালের খপ্পড়ে পড়ে অনেক চালক টাকা খোয়াচ্ছেন। কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে দালালরা লাভবান হলেও অধিক টাকা খোয়াতে হচ্ছে গাড়ির চালক ও মালিকদের। তবে দালালের বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহীর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এএসএম কামরুল হাসান জানান, গত দুদিন থেকে অফিস খোলার আগ থেকেই লাইসেন্সের শতশত আবেদনকারী অফিসে এসে বসে থাকছেন। অফিস খোলার পর লাইনে দাঁড়িয়ে তারা আবেদন জমা দিচ্ছেন। তিনি জানান, এবার আবেদনকারীর যানবাহনগুলো ফিটনেস আছে কি নেই সে ব্যাপারে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। গত দুইদিনে ২৫টি ফিটনেস বিহীন গাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে। এসব গাড়ির ফিটনেস না থাকার কারণে লাইসেন্স আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এসব গাড়ি রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। তবে এগুলো গাড়ি আবার রাস্তায় চলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেগুলো গাড়ির ফিটেনেস নেই, আবেদন করার পর তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি সেগুলো গাড়ির ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে।

তিনি বলেন, যেগুলো গাড়ি ফিটনেস না থাকার জন্য ফেতর পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে বেশির ভাগ গাড়িই সরকারী। দীর্ঘদিন এসব গাড়ি চলার কারণে এর ফিটনেস নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, কিছু কিছু মোটরসাইকেলের লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ছে যেগুলো লাইসেন্সে পাওয়ার যোগ্য নয়। কারণ মোটরসাইকেল কেনার পর থেকে তারা লাইসেন্সে বা ইন্স্যুরেন্স করেনি। মোটরসাইকেল রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য কিন্তু ওইসব মোটরসাইকেল চালকরা আসছেন লাইসেন্সের জন্য। তিনি আরো জানান, আগষ্ট মাসের পর বিআরটিএ এ’র পক্ষ থেকে রাজশাহীর জেলা উপজেলায় অভিযান চালানো হবে। রাস্তায় চলাচল করা সব ধরনের ফিটনেস বিহীন যানবাহন আটকের সাথে মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এবার শুধু আবেদনের প্রেক্ষিতেই চালকরা যানবাহনের লাইসেন্স পাবেন না। তাদের রীতিতম পরীক্ষা দিয়ে তারপর তাদের নামে লাইসেন্স ইস্যু হবে। চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকেও নগর দেয়া হবে। তবে অভিজ্ঞ চালকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। একেবারে স্বাক্ষর জানে না এমন ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সোমবার রাজশাহীর বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায় আবেদনকারীদের ভীড়। কেউ মোটরসাইকেল, কেউ ট্রাক বা কেউ মাইক্রোবাসের লাইসেন্স করা ও নবায়নের জন্য বিআরটিএ অফিসে এসেছেন। বিআরটিএ অফিসের প্রবেশ দার থেকে শুরু করে কাউন্টার পর্যন্ত লোকজনের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। পবার সাইদুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল মালিক জানান, গত দুদিন থেকে তিনি লাইসেন্সে করার জন্য বিআরটিএ অফিসে আসছেন। কিন্তু ভীড় থাকার কারণে আবেদনই জমা দিতে পারেনি।

Leave a Response