Tuesday, October 20, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

রক্ষা করা গেলোনা বাঘার চকরাজাপুর বিদ্যালয় !

224views

রক্ষা করা গেলোনা বাঘার চকরাজাপুর বিদ্যালয় !

রক্ষা করা গেলোনা বাঘার চকরাজাপুর বিদ্যালয় !বাঘা প্রতিনিধি: দুই বছর পূর্বে বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। দেখতে-দেখতে এই স্কুলটি এ বছর ভাঙ্গনের মুখে নদীতে বিলিন হতে চলেছে। ইতোমধ্যে চারটি পিলার চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। ফলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম (পাটদান)। সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় স্কুল-সহ ভাঙ্গন কবোলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাসিমা খাতুন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৭৮ সালে স্থাপিত চকরাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৪ বছরে ভাঙনের কবলে পড়েছে দুইবার । এবারও নদী ভাঙ্গনের কারনে ঠিক একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে এ অঞ্চলের একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চকরাজাপুর বাজার। গত ৫ দিন পুর্বে বিদ্যালয়ের টিনসেট (কমনরুম)টি সরিয়ে নেওয়া হয়। অনেকেই ধারনা করেছিল, ভাঙ্গন কমে গেলে এবারের মতো রক্ষা পাবে ইট দিয়ে তৈরী করা দামি ভবনটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও আর রক্ষা করা গেলনা। ইতোমধ্যে দেখতে-দেখতে নতুন ভবনের চারটি পিলার চলে গেছে নদীর গর্ভে। এখন খুব দ্রুত এটি সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। এ কারনে সোমবার স্কুল পরিদর্শন করতে এসছিলেন রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসা: নাসিমা খাতুন।

স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-সহ চরাঞ্চলবাসীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত) বলেন , নদী তীরবর্তী এলাকায় ইট দিয়ে ভবন নির্মান না করে ইস্টিল (লোহা) সামগ্রী দিয়ে টিন সেড ভবন করা দরকার। যাতে করে বিপদ মুহুর্তে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা যায়। তিনি এই ভবনে জানালা-দরজা সহ কি-কি সামগ্রী রয়েছে তার এইটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এবং যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ঠ দপ্তর (মন্ত্রনালয়ে) প্রতিবেদন পাঠানোর মাধ্যমে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে ফেলা-সহ নতুন ভবন নির্মানের আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত এ বছর নদীতে পানি বাড়ার সাথে-সাথে বাঘা উপজেলার নদী তীরবর্তী ৯ টি গ্রামের ১০ কিলো মিটার সীমানায় ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এই ভাঙ্গনের ফলে গত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে । এতে সিংহ ভাগ ক্ষতি হয়েছে- আম,খেঁজুর ও পিয়ারা বাগান সহ ফসলি জমির। নদী তীরবর্তী লোকজন জানান, যথাযথ উদ্যোগের অভাবে অত্র এলাকার প্রায় ৪ কিঃ মিটার বাধ অরক্ষিত রয়েছে। গত ৭ বছরে পদ্মার ভাঙনে এইসব এলাকার প্রায় ৫’শ বাড়ি-সহ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং বিজিবি ক্যাম্প-সহ কয়েক হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার করাল গ্রাসে। এ ছাড়াও ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে ৫-৬ পরিবার।

Leave a Response