Tuesday, October 20, 2020
টপ নিউজরাজশাহীশিক্ষাঙ্গন

মাস পেরোলেও উপাচার্য পাইনি রুয়েট

241views

মাস পেরোলেও উপাচার্য পাইনি রুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়াই চলছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগের মেয়াদ শেষ হয় গত ২৮ মে। এরপর একমাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদটিতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া গত তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের পদটিও। তাই এই মুহূর্তে শীর্ষ দু’টি পদ শূন্য অবস্থায়ই চলছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। উপাচার্য না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সব ধরনের কার্যক্রম। এছাড়া পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ ও পরীক্ষার ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও থমকে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ এক মাসে উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়োগ সম্পন্ন হবে।

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ মে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগকে রুয়েটের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। গত ২৮ মে তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে রুয়েটের উপাচার্যের পদটি শূন্য রয়েছে। আর উপাচার্য না থাকায় বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে সংশয়। রুয়েট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একমাস পার হলেও এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কবে নাগাদ নিয়োগ দিবে তাও বলা যাচ্ছে না। এতে করে রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে ব্যাঘাতসহ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে ক্যাম্পাসের ভেতর ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দল ও বহিরাগতদের নৈরাজ্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকমাসে রুয়েটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আংশঙ্কা করছেন রুয়েটের কয়েকজন শিক্ষক। ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই তারা যোগ্য কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

রুয়েটের রেজিস্ট্রার দফতর সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য না থাকায় ইতোমধ্যে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিভিন্ন কাজে আর্থিক অনুমোদন ও নানা ধরনের আবেদন পত্রে স্বাক্ষরসহ প্রশাসনিক কাজগুলো উপাচার্য ছাড়া কেউ করতে পারেন না। ফলে উপাচার্য না থাকায় এসব কাজ সম্পন্ন না হওয়া এক ধরনের স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পরীক্ষার কমিটি গঠন, মূল সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তি কার্যক্রম, ফিন্যান্স কমিটি, একাডেমিক কমিটির সভা, অন্যান্য আর্থিক খাত, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের অনুমোদন কাজ থমকে আছে। এতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন সিনিয়র অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করা শর্তে রাজশাহী সংবাদকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন থাকা অস্বাভাবিক ব্যাপার। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পদ দু’টিতে নিয়োগে দেরি হওয়ায় পদ প্রত্যাশির সংখ্যাও বাড়ছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রুপিং-লবিং করছেন। এটা শিক্ষকদের ও উপাচার্য পদের মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এ সঙ্কটের অবসান হওয়া উচিত।’

রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন রাজশাহী সংবাদকে বলেন, ‘প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজের জন্য উপাচার্যের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এখনতো উপাচার্য নেই, তাই সে কাজগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কাজ আংশিক করার পর উপাচার্যের অনুমোদনে জন্য আটকে আছে। সরকারকে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

Leave a Response