Saturday, October 24, 2020
উত্তরাঞ্চল

মান্দায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

248views

মান্দায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

 

মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার চককার্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের দায়ের করা অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদনসহ এ সুপারিশ করেন তিনি। কিন্তু ৫ মাস অতিবাহিত হলেও আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এনিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীন ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে স্নিপ ফান্ড ও প্রাকপ্রাথমিকের শ্রেণি সজ্জিতকরণের ৯০ হাজার টাকা, বিদ্যালয় মাঠে থাকা পাইকড় গাছের ডালসহ কয়েকটি গাছ বিক্রির ১ লাখ টাকা ও পুরাতন বই বিক্রির টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা কিংবা উন্নয়ন কাজে ব্যয় না করে আত্মসাত করেন। এসব বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনসুর রহমানসহ স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীন সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আগমন ও প্রস্থান না করে ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। বিদ্যালয়ের সহকারি এক শিক্ষককে দিয়ে তিনি শ্রেণি কক্ষ খোলা ও ছুটির পর তালাবদ্ধ করিয়ে নেন। প্রাতিষ্ঠানিক কাজও করিয়ে নেন সহকারি শিক্ষকদের দিয়ে। প্রতিবাদ করায় হয়রানীর শিকার হয়েছেন একাধিক শিক্ষক।

অভিযোগের এসব বিষয় চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি তদন্ত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু ৫ মাস অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীন দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্থানীয় একটি মহলের অসন্তোষের শিকার হচ্ছেন তিনি। তাকে বদলি করতে মহলটি উঠেপড়ে লেগেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করেন তিনি। তদন্তে সরকারি অর্থ আত্মসাত ও বিদ্যালয়ের গাছপালা কাটার সত্যতা পেয়েছেন। তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুজ্জোহা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক কারণে বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবটি সুপারিশসহ বিভাগীয় উপপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা, রাজশাহী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অচিরেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Response