Saturday, October 24, 2020
সারাদেশ

মান্দায় নকল সার ও কীটনাশক তৈরি, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

249views

মান্দায় নকল সার ও কীটনাশক তৈরির কারখানা
মুলহোতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর বাজারের অদুরে গোড়রা এলাকায় স্থাপিত একটি কারখানায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান নকল সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫গ এর ১(গ)/২৫ঙ ধারায় গ্রেফতারকৃত মুলহোতা আরিফ হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, কারখানায় নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বাসা মালিক আনিছুর রহমান আন্টু, তার ভাই আজিজার রহমান, যশোর জেলার জেল রোড এলাকার মুকুল হোসেন, এমদাদুল ইসলাম, মধু ও আবু সাঈদসহ নিলফামারী জেলার নতুন বাজার এলাকার রফিকুলকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, গোড়রা গ্রামের ওই কারখানা থেকে এসিআই, সিনজেনটাসহ অনেক নামী দামি কোম্পানির মোড়কে নকল জিংক সার ও দানাদার কীটনাশকের বিপুল পরিমান প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মিক্সার মেশিন, প্যাকেটিং সিল মেশিন, বৈদ্যুতিক মটরসহ বিভিন্ন কোম্পানির মনোগ্রাম সম্বলিত বিপুল পরিমান খালি মোড়ক।

ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামি আরিফ হোসেনকে আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে, এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, গত মওসুমে বোরো ধানের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করে তারা সুফল পাননি। একই জমিতে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, গোড়রা গ্রামে স্থাপিত কারখানায় গত একবছর ধরে নকল সার-কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলেও এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস দেখেও না দেখার ভান করেছে। প্রতিনিয়ত ওই কারখানায় ট্রাক ভর্তি মালামাল লোড-আনলোড করা হলেও কৃষি অফিসের তা দৃষ্টি গোচর হয়নি এমনটি বিশ্বাস করতেই পারছেন না তারা। ওই কারখানায় কি ধরণের সার ও কীটনাশক উৎপাদন হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখেনি উপজেলা কৃষি দপ্তর।

বৈদ্যপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা, বৈলশিং গ্রামের আবুল বাশার ও হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মওসুমে আমন ধানের জমিতে তারা বিভিন্ন নামী দামি কোম্পানীর সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রয়োগকৃত কীটনাশকে তারা সুফল পাচ্ছেন না। একই জমিতে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে তাদের। জমিতে সময়মত কীটনাশক প্রয়োগ করে সুফল না পাওয়ায় তারা হতাশ। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিসের গাফলতির কারণে ভালাইন ইউনিয়নের গোড়রা এলাকার তিনটি ভবন ব্যবহার করে একবছর ধরে একটি কারখানায় নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদন হয়ে আসছিল। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তা ও কৃষি অফিসের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে জনঅধ্যুষিত এলাকায় নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাত করেছিল অসাধু একটি চক্র। বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকলে ওই কারখানায় নকল দ্রব্য উৎপাদনে সাহস পেত না চক্রটি। ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন কৃষকরা।

কৃষি অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক জানান, কারখানাটিতে বালু, মাটি ও রঙ মিশিয়ে নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদন করে আসছিল একটি অসাধু চক্র। এর সঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত কিছুই জানতে পারিনি। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারখানার মালামাল জব্দ, জড়িত একজনকে গ্রেফতার ও থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আলাদাভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের আর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের গোড়রা গ্রামের আনিছুর রহমান আন্টুর বাসায় নকল সার ও কীটনাশক তৈরির কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নকল সার-কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় কারখানার মুলহোতা আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Leave a Response