Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

মহাসড়কে চলছেই অবৈধ বাহন

387views

মহাসড়কে চলছেই অবৈধ বাহন

হাবিব আহমেদ: রাজশাহীর মহাসড়কে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকা ও চার চাকার নসিমন-করিমন যানবাহন। মহাসড়কে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব যানবাহন চলছেই। এতে একদিকে যেমন আইন ভঙ্গ হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব নসিমন করিমনের এমনিতেই নিয়ন্ত্রন কম থাকে তার উপর আবার এগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করা হচ্ছে। বেপরোয়া গতিতে চুটে চলছে সড়ক-মহাসড়কে। সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। এসময় এসব যানবাহন রাস্তায় কিছুটা কম দেখা গেলেও আবারও তারা সক্রিয়ভাবে মহাসড়কে চালাচল করছে। কোনো নিয়মই মানছে না নসিমন করিমন গাড়ি চালকরা। সূত্র বলছে, এসব যানবাহনের যেমন বৈধতা নেই, তেমনি এসবের চালকদেরও নেই কোন প্রশিক্ষন বা লাইসেন্স।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর রাজশাহীর প্রতিটি রাস্তায় ব্যাপকভাবে চলাচল শুরু করে নসিমন করিমন যানবাহন। সহজলভ্য যানবাহন হওয়ায় মানুষ ভ্যান ছেড়ে এসব যানবাহন ব্যবহার শুরু করেন। এমনকি গ্রাম এলাকা থেকে শুরু করে শহরে মালপত্র আনা নেয়ার ক্ষেত্রে মিনি ট্রাকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা এসব যানবাহন ব্যবহার করেন। অল্প খরচে দুরদুরান্তে যাওয়া আসার মাধ্যম ছিল নসিমন করিমন যানবাহন। কিন্তু ২০১০ সালের পর এসব যানবাহন মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র দুবছরের মাথায় সংখ্যা বেড়ে যায় দ্বিগুন। বাড়তে থাকে দুর্ঘটনাও। প্রতিদিনই নসিমন করিমন যানবাহনে কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় মানুষ নিহতের ঘটনা হয়ে ওঠে নিত্যদিনের। মহাসড়কে চলাচলকারী দুরপাল্লার যানবাহন মালিক ও চালকরা দাবি করেন মহাসড়কে ছোট যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী বেড়ে গেছে।

বিশেষকরে নসিমন, করিমন, ভুটভুটি, অটোরিক্সার কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। তারা এসব যানবাহন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘটও পালন করে। এসবের প্রেক্ষিতে দুর্ঘটনা রোধে এসব নসিমন-করিমনের লাগাম টেনে ধরার জন্য চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করতে পারবে না বলে প্রশাসনের পক্ষে আদেশ জারি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের কারণে সাময়িকভাবে মহাসড়কে এসব যানবাহন না চললেও সুযোগ বুঝে আবরো নেমে পড়ে। নিষেধাজ্ঞার পরও জেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ায় নসিমন করিমন যানবাহনের চালকরা।

এদিকে, এসব যানবাহনের প্রভাবে যাত্রী সংকটের কারণে দুর্গাপুর থেকে রাজশাহীর বাস চালাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও আড়ানী-বাঘা থেকেও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাস চালক মালিকরা এসব যানবাহন চলাচলে ব্যাপক অভিযোগ এনে আন্দোলন শুরু করেন। রাস্তায় কোনো নসিমন করিমন থাকবে না এমন দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সে সময় বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করা হয়। যদিও পরে বাঘা আড়ানী থেকে এমপি শাহরিয়ার আলমের উদ্যোগে বিষয়টি সামাধানে আসে। তবে দুর্গাপুরে সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাস চালাচল করে না। দুর্গাপুর এলাকার চলাচলের একমাত্র বাহন এখনো নসিমন করিমন।

এদিকে ২০১২ সাল থেকে রাজশাহী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মহাসড়কে নসিমন করিমন চালাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজের কাজ হয়নি। দীর্ঘ সময়েও বন্ধ হয়নি মহাসড়কে এসব অবৈধ যান চালাচল। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশের পক্ষে দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হলো। ফিটনেস বিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু এসব নসিমন করিমনের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে মহাসড়কে তাদের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করার পর তারা কিছুদিন মহাসড়ক ব্যবহার বন্ধ রাখে। কিন্তু কিছু সময় যেতে না যেতে আবারো একই অবস্থায় চলছে এসব নসিমন করিমন। এমনকি মালপত্র নিয়ে রাজশাহী শহরের মধ্যেও ঢুকছে এসব যানবাহন। তারপরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে নসিমন করিমন। তারপরও কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না।

জানা গেছে, একটা সময় ছিল রাজশাহীতে চলাচল করা এসব যানবাহনের তালিকা ছিল। কিন্তু এখন আর সেই তালিকা নেই। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষে বলা হচ্ছে, অনেক চালক নসিমন করিমন বিক্রি করে এখন অটোরিক্সা চালাচ্ছেন। এছাড়াও পুলিশের তৎপরতার কারণে মহাড়কে নসিমন করিমন তেমন এটা দেখা যাচ্ছে না। যারা এখনো যেসব চালক মহাসড়কে চলাচল করছে তারা পুলিশ দেখা মাত্রই ছোট রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের আটক করা সম্ভাব হচ্ছে না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, মহাসড়কের দুই মাথায় রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের লোকজন। যার কারণে এখন মহাসড়কে নসিমন করিমন অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়াও মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করলে সাথে সাথে আটক করা হচ্ছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নসিমন করিমন চালকরা ভিন্ন পথে ছোট রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের আটক করা সম্ভব হয় না। তবে ট্রাফিক বিভাগ থেকে এসব যানবাহনের ব্যাপারে নজর রয়েছে বলে জানান তিনি।

এব্যপারে জেলার পুলিশের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, প্রতিনিয়িত এসব যানবাহন আটক করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী হাইওয়ে রাস্তা থেকে বেশ কিছু যানবাহন আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, এসব যানবাহন চালিয়ে অনেকেই পরিবার পরিজন জীবিকা অর্জন করছেন। যার কারণে এক সাথে সব যানবাহন আটক বা একেবারে রাস্তা থেকে তুলে দেয়া সম্ভব না। তারপরও নসিমন করিমন চালকদের মহাসড়কে যেনো না উঠে সে ব্যাপারে সব সময় সর্তক করা হয়। যদি কোনো যানবাহন চালককে মহাসড়কে পাওয়া যায় তাকে আটক করা হয়। তিনি জানান, মহাসড়কে নসিমন করিমনের মত যানবাহন যেনো না চলাচল না করে ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Response