Monday, October 26, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

বেশি গ্রহণযোগ্য নেতাই মনোনয়ন পাবেন: ওবায়দুল কাদের

223views

বেশি গ্রহণযোগ্য নেতাই মনোনয়ন পাবেন: ওবায়দুল কাদের

বেশি গ্রহণযোগ্য নেতাই মনোনয়ন পাবেন-ওবায়দুল কাদেররাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দলের কমিটি ভাঙা বা নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনও কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনও কমিটিও করা যাবে না। আর নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। নেতাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার একটা ঘটনা ঘটেছে বরগুনাতে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। তা আমরা মোটেও অ্যালাউ করবো না। কারও অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দেবে। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদি আলোচনা যথেষ্ট না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবো। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নেবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। যারা এসব করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজশাহীর নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনও কারণ আছে। প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা, অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে। রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়। অন্যরাইও চাইতে পারেন। আমাদের পার্টির ফান্ডও আছে, ২৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে, এবার ভাবছি আরেকটু বাড়াবো।’

কাদের বলেন, ‘চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে। দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে। যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণা হচ্ছে। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’

কাদের বলেন, ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলানামা, এসিআর আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেওয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, এসএম কামাল হোসেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ।

আ’লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা হাস্যকর
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়াও ১৪ দলে আরো দল রয়েছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি রয়েছে। দেশে আমাদের জোট ও মহাজোটের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কখনো জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যের নামে দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। যা দেশের জন্য কখনো শুভ হতে পারে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দ দুটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যে নামেই তারা যান, ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দ দুটি তাদের ব্যবহার না করাই ভালো। তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকা ভালো, গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আর নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা, সেটা নির্বাচনে হবে। তাই আগামি জাতীয় নির্বাচনে যেকোনো জোটকে আমরা স্বাগত জানাই। কাদের আরো বলেন, আমরাও ১৪ দলীয় জোট করেছি। এ ছাড়া আমাদের মহাজোট রয়েছে। জাতীয় পার্টি মহাজোটে রয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বেও ২০ দলীয় জোট রয়েছে। আবার যুক্তফ্রন্ট নামেও একটি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোট গঠিত হতে পারে।

তবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনো জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষণা করবে, কখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং কখন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা সরকার বা দলের কাজ নয়। ইসিকে বিব্রত করা কারো উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যে দায়িত্ব তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বললে দল, সরকার ও গণতন্ত্রের জন্য ভালো।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সরকারের আকার কী হবে, মন্ত্রিসভায় কয়জন থাকবেন তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। এ বিষয়ে তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না।

Leave a Response