Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজনীতি

বুলবুলকে ক্ষোভ ঝাড়লেন নাদিম

183views

বুলবুলকে ক্ষোভ ঝাড়লেন নাদিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: এতদিন তাদের দেখা হয়েছে আদালত চত্তরে। পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলাসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে চায়ের স্টলে তাদের কথা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কোনো কর্মকান্ডে তাদের একসাথে দেখা যায়নি। এমনকি কোন বিষয় নিয়ে পরামর্শ করতেও দেখা যায়নি। বলছি সিটি মেয়র ও বিএনপির রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফার কথা। গেল ৫ বছরে তাদের একসাথে দেখা যায়নি। এমনকি নাদিম মোস্তফা রাজশাহীতে অবস্থান করলেও কখনও এই দুই নেতা একসাথে হননি। তবে সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হতেই নড়েচড়ে বসেছে মেয়র বুলবুল। তবে, দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর নাদিমের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বুলবুল। শনিবার রাতে এডভোকেট নাদিম মোস্তফার পাঠানপাড়াস্থ বাড়ীতে যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দলীয় সূত্র জানায়, সুযোগ পেয়ে বুলবুলকে বেশ ঝাড় ঝেড়েছেন নাদিম মোস্তফা। নির্বাচনে তার পাশে থাকার বিষয়ে সরাসরি কোন কথাও দেননি নাদিম মোস্তফা।

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এডভোকেট নাদিম মোস্তফার পাঠানপাড়াস্থ বাড়িতে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুই জনকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন। এসময় বুলবুলকে স্বাগত জানান নাদিম মোস্তফা। বেশ কিছুক্ষণ একসাথে সময় কাটান এই দুই নেতা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে কথাও হয়। মেয়র বুলবুল গত নির্বাচনের মতো এবারও তার পক্ষে নাদিম মোস্তফাকে নির্বাচনী মাঠে নামার অনুরোধ করেন। তবে মাঠে নামার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানাননি নাদিম মোস্তফা।

এদিকে নাদিম মোস্তফার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, গত সিটি নির্বাচনে বুলবুলের পক্ষে মাঠে ছিলেন নাদিম মোস্তফা। তবে বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাজশাহী সকল স্থানীয় নেতাদের সাথে দেখা করলেও নাদিম মোস্তফার কাছে যাননি। এরপর থেকেই আদালত চত্তর ছাড়া এই দুই নেতাকে আর একসাথে দেখা যায়নি। নাদিম মোস্তফার বাড়ীতেও গত ৫ বছরে পা রাখেননি মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নাদিম মোস্তফার কোন খোঁজ খবরও নেননি। এখন সামনে নির্বাচন তাই নাদিম মোস্তফার সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি। এছাড়া বুলবুলের ঘনিষ্টজন বলে পরিচিত এডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর নাদিম মোস্তফার সমর্থকদের বাদ দিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে নাদিম মোস্তফা বিরোধীদের জায়গা দিয়েছেন। এমনকি দূর্গাপুর থানা বিএনপি কমিটিতে নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির মামলার বাদিকে স্থান দেয়া হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র বুলবুল নাদিম বিরোধীদের সাথে জোট বেঁধে তার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এমন খবর আছে নাদিম মোস্তফার কাছে। এসব নিয়ে দলের মধ্যে চরম অসন্তোষও বিরাজ করছে। ফলে দলের তৃণমুলের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে মেয়র বুলবুলের পক্ষে নাদিম মোস্তফা কিভাবে কতটা নামতে পারে এই নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসলে অবশ্যই তিনি বুলবুলের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এবিষয়ে নাদিম মোস্তফা বলেন, রাতে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসদ্দেক হোসেন বুলবুল তার বাসায় আসেন। সেখানে বেশ কিছু সময় তিনি ছিলেন। এসময় বুলবুল তাকে সিটি নির্বাচনে পক্ষে মাঠে নামার অনুরোধ করেন। এসময় তিনি বুলবুলকে তার বিরুদ্ধে করা নানা কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মেয়র বুলবুল কৌশলে তার কথাগুলো এড়িয়ে যান। এরপর নাদিম মোস্তফা বুলবুলকে শর্ত দেন যে, পুঠিয়া-দূর্গাপুরে তার অনুসারীদের বাদ দিয়ে যে থানা কমিটি করা হয়েছে, তা বিলুপ্ত করতে হবে। তবেই তিনি বুলবুলের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামবেন। বুলবুল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কেন্দ্র থেকে যদি তাকে সিটি নির্বাচনে মেয়র বুলবুলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়, তা তিনি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট নাদিম মোস্তফা।

রাজশাহী মহাগনর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বিএনপির এখনও সিটি নির্বাচনে যাওয়ার মনোভাব রয়েছে। আর আমি যেহেতু প্রার্থী হচ্ছি, তাই সব নেতার কাছে যাওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি মিজানুর রহমান মিনু ও শাহিন শওকতসহ সব সিনিয়ন নেতাদের সাথে দেখা করে কথা বলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এডভোকেট নাদিম মোস্তফার বাড়িতেও গেছেন। পাঁচবছর তার বাড়িতে না গেলেও বিভিন্ন স্থানে তাদের দেখা হয়েছে, কথাও হয়েছে বলে দাবি করেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

Leave a Response