Saturday, October 24, 2020
রাজশাহী

বাঘায় হুমকির মুখে চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

200views

বাঘায় হুমকির মুখে চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বাঘায় হুমকির মুখে চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসেলিম ভান্ডারী, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা আম, পেঁয়ারা, বরই ও খেঁজুুর বাগানসহ বিভিন্ন ফসলী জমি। সেই সাথে হুমকির মুখে পড়েছে পদ্মার চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর বাজার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গন কবলিত এলাকা এবং হুমকির মুখে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার পরিদর্শন করেন বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জিন্নাত আলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা।

সরেজমিনে, উপজেলার পাকুড়িয়া, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গনের কবলে পড়া কিশোরপুর, গোকুলপুর, জোত কাদিরপুর, দিয়ার কাদিরপুর, মালিয়ানদাহ, টিকটিকি পাড়া, চকরাজাপুর, কালিদাস খালি ও লক্ষিনগর মোট ৯টি গ্রামে দেখা যায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। এই ভয়াবহ ভাঙ্গনে অনেকের ঘর-বাড়িসহ চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের ঘরগুলো ভেঙ্গে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে শতাধিক বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোকুলপুর গ্রামের মৃত রায়হান মালিথার ছেলে রফিকুল ইসলাম মালিথার গত বছর এবং এ বছরে প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা জমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। যার সিংহভাগ জমিতে ছিল আম বাগান। একই গ্রামের আজিবার মালিথা ও আস্তুল মালিথার প্রায় ২০ বিঘা, আব্দুল মতিন মালিথার ৫ বিঘা আম বাগান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পাশ্ববর্তী গ্রাম জোত কাদিরপুর গ্রামের মুনছুর মালিথার ১৩ বিঘা, কুদরত আলীর ১ বিঘা, শমসের আলীর ৩ বিঘা, হাফিজুর রহমানের ১৫ বিঘা, পাকুড়িয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ৩ বিঘা এবং মালিয়ানদাহ গ্রামের নয়ন পীরের ২ বিঘা আমের বাগান নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, বেল্লাল মুন্সিসহ আরো অনেকের জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সারাদেশে সরকারি ছুটি থাকলেও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছুটি না কাটিয়ে বিদ্যালয়ের রক্ষনাবেক্ষন ও শিক্ষা সামগ্রী সংরক্ষনের জন্য প্রতিষ্ঠানেই ছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ভেবে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটি দ্রত স্থানান্তর করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আজমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তিনি নিজেও সার্বিক সহযোগীতা করবেন বলে প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা দিল আফরোজ রুমি, গড়গড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিউর রহমান শফিক, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মাহামুদুর রহমান খানসহ প্রমুখ।

Leave a Response