Wednesday, October 21, 2020
রাজশাহী

বাঘায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে টার্কি পালন

207views

বাঘায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে টার্কি পালন

সেলিম ভান্ডারী, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় অন্যান্য পাখির তুলনায় অধিক লাভবান হওয়ার আশায় অনেকেই শুরু করেছে টার্কি পাখি পালন। হাঁস-মুরগীর পাশা-পাশি বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হচ্ছে টার্কি পাখির। কেউ কেউ বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদন ও ব্রিডিং করে এ প্রজাতির বংশ বৃদ্ধি করে বাচ্চা বিক্রির জন্য খামার করে পালন করছে বড় আকারের টার্কি পাখি। এই পাখি পালনে খরচ কম এবং উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে টার্কি পালনে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে ওঠার ছয় মাসের মধ্যে টার্কি ডিম দেয়। ছয় মাসের মেয়ে টার্কির ওজন হয় ৭-৮ কেজি। আর পুরুষগুলো প্রায় ১০-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। এর প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হয় ৫৫০ টাকা এবং বাচ্চা ফোটানোর জন্য একেকটি ডিম দেড় থেকে দুইশত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ছোট একটি টার্কি পাখির খামার। বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদন ও ব্রিডিং করে এ প্রজাতির বংশ বৃদ্ধি করে বাচ্চা বিক্রির জন্য টার্কি পাখির খামারটি করেছেন উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের শরিয়ত উল্লার ছেলে নুরুল ইসলাম। তিন মাস আগে তিনি নিজেই একটি ‘ইনকিউবেটর’ যন্ত্র তৈরি করে ডিম ফোটানো শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে টার্কির বাচ্চা ও ডিম বিক্রিও শুরু করেছন।
টার্কি পাখির খামারী নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি পেশায় একজন মাইক্রো বাসের ডাইভার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় গিয়ে দেখতে পান টার্কি পাখির খামার। বিশেষ করে নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার সালুকা গ্রামে একটি ভাড়ায় গিয়ে দেখতে পান জিল্লুর রহমান চৌধুরীর টার্কি খামার। সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে তিন মাস বয়সের ২টি মেয়ে ১টি পুরুষ মোট তিনটি টার্কি ক্রয় করেন ৫হাজার টাকায়। পরে ইউটিউব দেখে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচে নিজেই তৈরী করেন ডিম ফোটানো যন্ত্র ইনকিউবেটর। এই যন্ত্রে এক সাথে ১৫০ ডিম ফোটানো যাবে। এরমধ্যে ৬মাস পূর্তি হওয়ায় বড় দুই টার্কি ডিম দেওয়া শুরু করেছে। এরা বছরে ১৮০-২০০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রতিটি ডিম দেড়শ থেকে দুইশত টাকা করে বিক্রি করছেন। একেকটি টার্কি থেকে বছরে ২৫-৩০হাজার টাকার ডিম পাওয়া যাবে বলে ধারণা করে আরো ডিম ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটর যন্ত্রে রেখে দিয়েছেন। এই যন্ত্রে ২৭দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে।
তিনি আরো জানান, গত দুই মাস আগে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার টিপু নামের এক খামারীর রাজশাহী টার্কি খামার থেকে ১৫০ টাকা করে ৪০টি ও নাটোর এলাকা থেকে ২৪টি মোট ৬৪টি ডিম ৯হাজার ৬’শ টাকায় ক্রয় করেনভ। এরপর তার নিজের তৈরী ডিম ফোটানো যন্ত্র ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বাচ্চা ওঠাতে সক্ষম হন। সেখান থেকে সুস্থ্য সবল ৫০ বাচ্চা পান তিনি। বাচ্চাগুলোর বর্তমান বয়স ১ মাস অতিক্রম করেছে। এরমধ্যেই এলাকার টার্কি পালনে আগ্রহীরা আসতে শুরু করেছে এই পাখি কিনতে। টার্কি পালনে অতিশয় আগ্রহী দুইজনের কাছে এপর্যন্ত ৮টি বাচ্চা টার্কি ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। যা পূর্ণ বয়সে ডিম দেওয়ার উপযোগী সময়ে প্রতি জোড়া বিক্রি হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।
গবেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকায় এই পাখির উৎপত্তি হলেও ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে পালন করা হয়। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যতালিকায় অন্যতম উপাদান। আমেরিকায় টার্কির রোস্ট অভিজাত খাবার। টার্কির খাবার নিয়ে মুরগির চেয়ে দুর্ভাবনা কম। এরা ঠান্ডা-গরম সব সহ্য করতে পারে। দানাদার খাবারের চেয়ে কলমির শাক, বাঁধাকপি বেশি পছন্দ করে। এগুলো বিনা অর্থে জোগাড় করাও সহজ হয়। টার্কি নিয়ে গবেষণাকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সভাপতি জালাল উদ্দিন সরদারের মতে মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কি সাতটি আদর্শ জাত রয়েছে। পাখিজাতীয় মাংস উৎসের মধ্যে মুরগি, হাঁস, তিতির, কোয়েলের পর টার্কি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। টার্কির মাংস অন্যান্য পাখির মাংস থেকে কম চর্বিযুক্ত, তাই অন্যান্য পাখির চেয়ে টার্কির মাংস অধিক পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি অধিক জনপ্রিয়। সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যসহ প্রভৃতি দেশে।

Leave a Response