Friday, October 23, 2020
রাজশাহী

বাঘায় পদ্মায় শুরু হয়েছে ভাঙ্গন

250views

বাঘায় পদ্মায় শুরু হয়েছে ভাঙ্গন

বাঘায় পদ্মায় শুরু হয়েছে ভাঙ্গনবাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলার ৩নং পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গোকুলপুর ও জোত কাদিরপুর এলাকায় এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ বছরে যে সমস্ত জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে তার সিংহ ভাগ ছিল আম ও খেঁজুর বাগান। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে ওই দুইটি গ্রাম উচ্ছেদ হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত এক মাসে উপজেলার জোতকাদিরপুর ও গোকুলপুর এলাকার ২০-২৫ জন কৃষকের প্রায় ২ শতাধিক জমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ সপ্তাহে পানি বৃদ্ধি না থাকায় ভাঙ্গন কিছুটা কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে ফের পানি বৃদ্ধি শুরু হলে ব্যাপকভাবে ভাঙ্গন শুরু হবে বলে ধারণা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোকুলপুর গ্রামের মৃত রায়হান মালিথার ছেলে রফিকুল ইসলাম মালিথার গত বছর এবং এ বছরে প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা জমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। যার সিংহভাগ জমিতে ছিল আমবাগান। একই গ্রামের আজিবার মালিথা ও আস্তুল মালিথার প্রায় ২০ বিঘা, আব্দুল মতিন মালিথার ৫ বিঘা আম বাগান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পাশ্ববর্তী গ্রাম জোত কাদিরপুর গ্রামের মুনছুর মালিথার ১৩ বিঘা, কুদরত আলীর ১ বিঘা, শমসের আলীর ৩ বিঘা, হাফিজুর রহমানের ১৫ বিঘা, পাকুড়িয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ৩ বিঘা এবং মালিয়ানদাহ গ্রামের নয়ন পীরের ২ বিঘা আমের বাগান নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও আরো অনেকের জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে বলে জানা গেছে।

পদ্মা নদী তীরবর্তী গোকুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, গত এক মাস পূর্ব থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশা-পাশি শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। এবার যে সমস্ত জমি ভেঙ্গে গেছে তার সিংহ ভাগ জমিতে ছিল আম বাগান। তার নিজস্ব ৪০ বিঘা জমির আম বাগান বিলিন হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ৩নং পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু জানান, বর্তমানে পানি বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় ভাঙ্গন কিছুটা কমে গেছে। তবে ফের পানি বৃদ্ধি শুরু হলে জমির পাশা-পাশি তার ইউনিয়নের ২-৩ টি গ্রামের অনেক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন। তবে নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নে পদ্মার এই ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি এবং ভাঙ্গন রোধ ও প্রতিকারের জন্য আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

Leave a Response