Saturday, October 24, 2020
সারাদেশ

বাগমারায় লোডশেডিংয়ে চরম দূর্ভোগে এলাকাবাসী

295views

বাগমারায় লোডশেডিংয়ে চরম দূর্ভোগে এলাকাবাসী

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফলতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতির কারণে এলাকায় অসময়ে ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় ব্যাপক হারে বিদুৎ বিপর্যয়ে দূর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জের পাশে থাকা বাসুপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর ও বালানগরসহ কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন দুরবর্তি হাটগাঙ্গোপাড়া বিদ্যুৎ ফিডারে সংযুক্ত করায় ওই এলাকার গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। রাতের বেলা এই দূর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। এলাকায় গ্রীষ্মকালে সেচ কাজে ব্যবহারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এখন সেচ যন্ত্র বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের বড় ধরনের ব্যবহার কমলেও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে গুরুত্বপূর্ন অফিস, আদালত, কল-কারখানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্কুল-কলেজ সহ ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

সামান্য বৃষ্টি বা একটু জোরে বাতাস হলেই নাটোর পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রীড ফল্টের অজুহাতে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। আবার আকাশ সামান্য মেঘাচ্ছন্ন হতে না হতেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে লোড শেডিংয়ের মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়। তখন কেন্দ্রীয় সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য লাইন মেরামতের অজুহাত দেওয়া হয়। বর্তমানে সন্ধ্যার পর একটানা বিদ্যুৎ না পেয়ে সকল স্তরের জনসাধারণ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় জোনাল অফিসে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক দূর্নীতি, ঘুষ বানিজ্যের একাধিক অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। এতে কতিপয় অসৎ ব্যক্তিদের দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছেনও অফিসের প্রগতিশীল সৎ অফিসাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করেছেন।

তাদের মতে, বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুৎ ইউনিটের বিপরীতে বিদ্যুতের বিল বেশি করে দেওয়া, মিটার সংযোগ ছাড়াই লাইন সংযোগ দিয়ে অবৈধ বিল আদায়, মিটার ভাড়ার নামে প্রতি মাসে মাসে টাকা আদায়, অবৈধ পার্শ¦সংযোগ দেয়া, সেচ বিলে ব্যাপক কারসাজি করে বিল আদায়, নতুন সংযোগ ও মিটার প্রদানে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ প্রভৃতি দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জের পাশে থাকা বাসুপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর ও বালানগরসহ কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন দুরবর্তি হাটগাঙ্গোপাড়া বিদ্যুৎ ফিডারে সংযুক্ত করায় ওই এলাকার গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বালানগর গ্রামের দলিল লেখক আব্দুর হাকিম জানান, পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় ডিজিএম একজন খামখেয়ালী লোক। সদর ভবানীগঞ্জ থেকে গোপালপুর ও বালানগর এক থেকে দেড় কিলোমিটার দুরত্ব অথচ দুরদর্শীতার অভবাবে তিনি লাইনটি কেটে ১৫/১৬ কিলোমিটার দুরত্বের হাটগাঙ্গোপাড়ার সাথে দিয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় লোড শেডিং যেমন বাড়ছে, তেমনি দুরত্বের কারণে হয়রানিও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এমনই ভাবে অভিযোগ করেন গ্রামের স্কুল শিক্ষক জাহেদুর রহমান, কলেজ শিক্ষক রেজাউল হক, ডাক্তার জিয়াউর রহমানসহ অনেকে জানান, বিদ্যুতের জোনাল অফিসের নিকটে থাকা গ্রাম গুলো দুরবর্তি এলাকার ফিডারের সাথে সংযোগ দেয়া একে বারে বেকুবি। এটা স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দুরদর্শীতার অভাব বলে তারা মত পোষন করেন। তারা জানান, অভিযোগ কেন্দ্রের নির্ধারিত মোবাইল ফোন নম্বারে ফোন খোলা থাকলেও তা রিসিভ না করায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রের অপারেটর ফোন রিসিভ করার কথা থাকলেও তা মানা হয় না।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির কারণে এই অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শকসহ একাধিক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তারা পূর্বের মতই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা এক সময় এক জোটে সদর ভবানীগঞ্জ সাব স্টেশনে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) রেজাউল করিম জানান, সাবস্টেশনে সমস্যায় চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।

Leave a Response