Tuesday, October 20, 2020
রাজশাহী

বাগমারায় গ্রামবাসী-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০

240views

বাগমারায় গ্রামবাসী-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় নরদাশ ইউনিয়নের বাসুদেব পাড়ায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে ৯ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ ও ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয় স্বাস্থকেন্দ্র ও রাজশাহী মেডকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২), রিমা বেগম (২৫), পিয়ারুল ইসলাম (৩৮) লতিফা বেগম (২৯), আব্দুল মজিদ (৬০), মজনুর রহমান (৩৮), মমেনা বেগম(৩০), ছামেনা বেগম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২৮)। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছিল। সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের তাছের আলী (৫০), ইয়ার বক্স (৫৫) ও জাবের আলী (৪৮)। এঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, নরদাশ ইউনিয়নের জোকাবিলা মাছ চাষে ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজনের সাথে একই ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজনের দন্দ্ব চলে আসছিল। এ দন্দ্ব মিমাংসার পূর্বেই হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজনকে বাদ দিয়ে জোরপূর্বক জোকাবিলায় মাছের পৌনা অবমুক্ত করেন। মাছ ছাড়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দ্বদ্বের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জনিয়ার এনামুল হক স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তির আশ্বাস দেন। সেই মোতাবেক বাসুদেবপাড়ার লোকজন অনেকটাই নিরব ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কথা না শুনে শুক্রবার সকালে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন জোকাবিলার বাসুদেবপাড়ার খালের সুইচ গেটের মুখে লোহার খাঁচা তৈরী করে বন্ধ করার চেষ্টা করে।

এসময় বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজন বাঁধা দিলে তারা সেখান থেকে সরে যায় ও পুলিশের সহযোগীতা নেয়। পুলিশ হাটমাধনগর গ্রামের লোকজনের ডাকে ঘটনারস্থলে যান এবং গ্রামবাসীর বাঁধা সম্মুখিন হন। পুলিশ জোরপূর্বক সুইচ গেটের মুখে লোহার খাঁচা নামানোর চেষ্টা করলে বাসুদেবপাড়া গ্রামের নারী পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিহতের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী পুলিশের উপর চওড়া হয়। এসময় পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করে। গ্রামবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ গ্রামবাসীর উপর রাবার বুলেট ও গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের গুলিতে ৯ গ্রামবাসী আহত হন। একই সাথে গ্রামবাসীর হামলায় বাগমারা থানা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন দেওয়ানসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ গ্রামবাসীকে আটক করে।

এলাকাবাসী জানান, জোকাবিলা মাছ চাষকে কেন্দ্র করে গত তিন বছর থেকে এলাকার এক পক্ষের সাথে অপর পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগমারা থানায় ও রাজশাহীর আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জোকাবিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় জোকাবিলা মৎস্য চাষ সমবায় সমিতির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনছার আলী নিহত হন। দিবালোকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মাধনগর বাজারে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আনছার আলী ছেলে মহাসীন আলী। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয়। বিলে মাছ ছাড়া থেকে এলাকার লোকজন বিরত থাকলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে আবারো বিলে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃষ্টির পানি বিলে জমলে প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনে বিলে মাছ ছাড়া হয়। মাছ ছাড়ার পর থেকেই এলাকার লোকজনের মধ্যে আবারো লবিং-গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সংঘর্ষের পর পরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, গ্রামবাসীর হামলায় তিনিসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Response