Wednesday, October 21, 2020
উত্তরাঞ্চল

ফেরত গেলো নাচোল উন্নয়নের ৮৪ লাখ টাকা

277views

ফেরত গেলো নাচোল উন্নয়নের ৮৪ লাখ টাকা

নাচোল প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সমন্বয়হীনতায় উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপির) ৮৪ লাখ টাকা ফেরত গেছে সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। জানাগেছে, নাচোল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের নাচোল উপজেলা পরিষদের অনুকুলে চলতি বছরের ৮মার্চ ২৯৭ নং স্মারকে প্রথম কিস্তির ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। বরাদ্দকৃত ৪০লাখ টাকার মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে ৩টি বিলের বিপরিতে ৬লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। বাকি ৩৪ লাখ টাকার সাথে গত ৭ মে ৭৮১ নং স্মারকে পূণরায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। মন্ত্রনালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি)’র বিশেষ বরাদ্দের মোট ৮৪ লাখ টাকা ৩০ জুনের মধ্যে উপজেলা পরিষদের উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রককল্পের বিল-ভাউচার উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে দাখিল করার কথা। কিন্তু সংকীর্ণ সময়ে মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় পরিষদের অনুকুলে বরাদ্দের ৮৪ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক-ই-মোহাম্মদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না হওয়া ও ভাউচারসহ বিল দাখিল না করতে পারায় টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২৬ জুন উপজেলা প্রকৌশলী বিল দাখিল করেন, কিন্তু অগ্রীম টাকা উত্তোলনের বিধান না থাকায় তিনি ২৮জুন অগ্রীম হিসাবে উত্তোলনের স্বপক্ষে প্রমানপত্রসহ ৩০জুন মধ্যে বিল দাখিল করার জন্য বিল ফেরৎ দেন। তবে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে উত্তোলনের স্বপক্ষে সরকারী আদেশ ছাড়াই অগ্রীম বিল স্থানান্তর করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান অনুরোধ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় পরিষদের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর না করে অবশিষ্ট ৮৪ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরৎ যায়।

এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও স্থানীয় সাংসদ মুহা. গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ডিও লেটারের মাধ্যমে কাজ বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সেই মোতাবেক ৩০জুনের মধ্যে টাকা উত্তোলনের জন্য সকল শর্ত পূরণ করে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিলেও এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রকৌশলীর গড়িমশির কারণে সময় পার হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক জানান, আমরা অগ্রীম বিল চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হয় নাই। বরাদ্দপত্রে “অগ্রীম বিল” লেখা না থাকয় হিসাব রক্ষণ অফিস বিল দিতে পারেনি তাই বরাদ্দের টাকা ফেরৎ গেছে।

প্রকল্পের ৮৪ লাখ টাকা ফেরৎ যাওয়ায় সাধারন মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দে¦র ফলে এ অবহেলীত জনপদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের সংকীর্ণ মতভেদ ভুলে একযোগে কাজ করলে দেশের উন্নয়নের মূল শ্রেতধারায় নাচোলেরও উন্নয়ন হবে এমনটিই আশা করছেন অভিজ্ঞমহল।

Leave a Response