Thursday, October 22, 2020
রাজনীতি

প্রার্থীদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ভাসছে রাজশাহী

226views

প্রার্থীদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ভাসছে রাজশাহী

হাবিব আহমেদ: রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রতিশ্রূতির উন্নয়নের ফুলঝুরিতে ভাসছে পুরো রাজশাহী নগরী। মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের উন্নয়নের প্রতিশ্রূতি দিয়ে মন জয় করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের মুখে উন্নয়নের ফুলঝুরি ঘরে ঘরে চাকরি, মাদকমুক্ত সমাজ, রাস্তা-ঘাট সংস্কার, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নগরীর ড্রেনেজের উন্নয়ন, সেবার মানউন্নয়ন, মেগাসিটি উপহারসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন। তবে এবার প্রার্থীরা মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ নগরী গড়ার প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন বেশি। গত ৫বছরের কি উন্নয়ন হয়েছে তার বিশ্লেষন করে আগামীতে সম্ভাবনার নগরী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রূতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে নতুন প্রার্থীরা সেক্ষেত্রে ফায়দা লুটছে বেশি। পুরাতন প্রার্থীতের অতীত তুলে ধরে ভোটারদের কাছে নিজেদের যোগ্য প্রমান করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিগত দিনে কি হয়েছে বা হয়নি এবার তারা নির্বাচিত হতে পারলে পাল্টে দেয়া হবে পুরো নগরীর চিত্র। তবে বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে একজন বলছেন উন্নয়নের জন্য আরো একবার সুযোগ চাই, অন্যজন বলছেন ৫বছরে রাজশাহীর চিত্র বদলে দিয়েছি। এবার নির্বাচিত হলে আবারো বদলে যাবে রাজশাহী নগরীর চিত্র।

২০১৩ সালে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে নির্বাচিত হন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। একই সাথে বেশিরভাগ কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিএনপি পন্থি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে মেয়রের পাশাপাশি ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে যারা কাউন্সিলর ছিলেন তাদের বেশিরভাগই বিএনপি সমর্থিত ছিলেন। নগরবাসির ধারণা ছিল এবার বুলবুলের যোগ্য নেতৃত্বে রাসিকের উন্নয়ন হবে। কিন্তু শুরু থেকেই নগরবাসির সেই আশায় গুড়েবালি। জয় লাভ করার পর রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর উন্নয়নের পরিবর্তে রাজনীতিতে বেশি মনোযোগি হয়ে পড়েন। আর এই রাজনীতি তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। এক বছর যেতে না যেতে একের পর এক মামলায় দিশেহারা হয়ে পড়ে বুলবুল। তারপরও মামলার বোঝা কাধে নিয়ে তিনি রাসিক পরিচালনা করেন। এরইমধ্যে প্রায় এক বছরের মাথায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাকে রাসিক থেকে সাময়িকের জন্য বরখাস্ত করা হয়। রাসিকের দায়িত্ব দেয়া হয় এক কাউন্সিলরের হাতে। দীর্ঘ ৩৪মাস রাসিক থেকে দুরে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নিম্ন থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের বারান্দায় চক্কর কাটতে কাটতে অবশেষে পুনরায় তিনি রাসিকের দায়িত্ব ফিরে পান। রাসিকের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পরপর সময় শেষ হয়েছে যায়। এই সময়ের মধ্যে তিনি রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের শুরু করা উন্নয়নের চলমান কাজগুলো শেষ করেন। নতুন করে তিনি তেমন কিছুই করতে পারেননি। তিনি নির্বাচিত মেয়র হলেও দীর্ঘ সময় রাসিক পরিচালনা করেছেন একজন কাউন্সিলর। যদিও বর্তমান নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল ৩৪মাসকে পুঁজি করে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ৩৪মাস রাসিকে না থাকার ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। তিনি এবার নির্বাচিত হলে রাসিকের পুরো চিত্র পাল্টে দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, তার সময়কালে আওয়ামীলীগ সরকার তাকে কোনো বরাদ্দ দেয়নি। যার ফলে তিনি নগরীর কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। এবার যদি তিনি মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে সবাইকে সাথে নিয়ে রাজশাহীকে ঢেলে সাজানো হবে। তার নেয়া মহা-পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে। এতে রাজশাহী হবে সমৃদ্ধ নগরী।

সেদিক থেকে প্লাস পয়েন্টে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। নির্বাচনের প্রচারণার সাথে বিগত দিনে তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। তিনি বরাবরই অভিযোগ করছেন বিএনপির মেয়র রাসিকে থাকাকালীন সময় বুলবুল কোনো উন্নয়ন করেননি। সরকার থেকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা তিনি নিজেই আত্মসাত করেছেন। যা উন্নয়ন হয়েছে তা সম্পুর্নই তার সময়ে। এছাড়াও নগরীবাসির ভুলের জন্য গত ৫বছরে নগরী ১৫বছর পিছিয়ে গেছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি আবারো সুযোগ চান। নিজের উন্নয়নের পাশপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তিনি তুলে ধরছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তাই আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী জয়লাভ করলে নগরীর চিত্র বদলে দেয়া হবে বলেও জানানো হচ্ছে। যদিও তিনি আগে থেকেই ‘চলো আবারো বদলে দেই রাজশাহী নগরী’ শ্লোগান নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটন বলছেন ভোট দিন নির্বাচনের পর উন্নয়ন বুঝে নিন। তবে এবার ভোটাররা বলছেন অন্য কথা। ভোটারদের ভাবনায় বিগত দিনে দুই মেয়র কে কতটা উন্নয়ন করেছেন তার হিসাব নিকাশ করে তার পর ভোট দিবেন।

এদিকে থেমে নেই সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। এবার ৩০টি ওয়ার্ডে পুরোনোর পাশাপাশি নতুন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে একাধিক। নতুন কাউন্সিলর প্রার্থীরা পুরোতন প্রার্থীদের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নগরীর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। আর এই রাস্তাঘাটকে ইস্যু করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তবে পুরোনো কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে আরো একবার সুযোগ পার্থনা করছেন। ভোটারদের তারা বলছেন বিগত সময় রাসিকের অবস্থা ভাল ছিল না। তেমন বরাদ্দও আসেনি। যার কারণে উন্নয়ন হয়নি। এবার নির্বাচিত হতে পারলে সরাসরি মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ এনে ওয়ার্ডের উন্নয়ন করা হবে।

Leave a Response