Thursday, October 22, 2020
রাজশাহী

প্রখর রোদেও ক্রেতারা ছুটছেন এ হাটে ও হাটে, রাজশাহীতে জমজমাট পশুহাট

297views

প্রখর রোদেও ক্রেতারা ছুটছেন এ হাটে ও হাটে, রাজশাহীতে জমজমাট পশুহাট

রাজশাহীতে জমজমাট পশুহাটহাবিব আহমেদ: প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কোরবানীর পশু ক্রয়ে ছুটছেন ক্রেতারা। এতে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজশাহীর পশুহাটগুলো। কোরবানীর বেশি সময় না থাকায় এখন মানুষের চোখ কোরবানীর পশু হাটের দিকে। সকল কাজ ফেলে লোকজন ছুটছেন পশু হাটে। সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তরিঘরি করে ক্রেতারা পছন্দ করছেন কোরবানি পশু। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ী ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন সিটি হাটে। তবে এবার রাজশাহীর প্রতিটি হাট দেশী গরুতে ভরা। দাম নিয়ে চলছে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে দরকষাকষি। ভারতীয় গরু আমদানী না থাকায় এবার কোরবানি পশুর দাম গত বছরের চেয়ে বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও বলছেন, ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানী কম থাকায় দেশীয় জাতের পশুর দাম একটু বেশি। কারণ অনেক আগেই কোরবানীর জন্য খামারীরা পশু প্রস্তুত করে রেখেছেন। আর সেই গরুগুলো তোলা হচ্ছে হাটগুলোতে।

রাজশাহীতে কোরবানির জন্য কয়েকটি বড় হাট বসে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ পশু হাট রাজশাহী সিটি হাট। এছাড়াও রয়েছে, চৌবাড়ীয়া, কাঁকনহাট, বাগমারার তাহেরপুর, বানেশ্বরে বসে কোরবানির বড় পশুর হাট। এসব হাটে কোরবানি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের পশু আমদানি হয়েছে প্রচুর। বাইরের পশু হাটগুলো মুলত সপ্তাহের প্রতিদিন বসে। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় ঈদের দিন পর্যন্ত হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এসব হাটে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমদানি করা হচ্ছে কোরবানির পশু। এবার বেশিরভাগ হাটে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা বেশি। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু কম আসায় দেশি গরুর চাহিদা বেড়েছে। শুধু তাই না, কয়েক বছর ধরে খামারিরা লাভবানও হচ্ছেন। এবারও খামারীরা লাভবান হবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী সিটিহাট রোববার দুপুর থেকে কেনাকাটায় সরগরম হয়ে ওঠে। গরু আর খাসির আমদানিও হয়েছে প্রচুর। পিছিয়ে নেই মহানগরীর উপকণ্ঠে থাকা কাটাখালির মাসকাটা দীঘি, জেলার অন্যান্য হাটগুলো। কিন্ত গত বছরের তুলনায় এবার দেশি গরু ও ছাগলের চাহিদা ও দাম বেশি।

ক্রেতা-বিক্রেতা ও হাট কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে গত তিন দিন থেকে হাট জমে উঠলেও আজই লোক বেশি এবং অন্যান্য দিনের তুলনায় দামও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। রোববার সকাল ১০টা থেকেই মহানগরী ও আশেপাশের জেলা-উপজেলা থেকে হাটে আসা শুরু করেছে গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া। দুপুর ৩টা বাজতেই জমে উঠে হাট। সূর্য পশ্চিমে হেলতেই চলমান তাপপ্রবাহ কিছুটা কমার পর থেকে হাটে কেনা-বেচা চলছেই। বিকেলে মুখরিত হয়ে ওঠে হাট ও তার আশেপাশের এলাকা। সন্ধ্যা গড়িয়ে বেচা-কেনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এ ছাড়া সোমবার ও কাল মঙ্গলবার রাতভর খোলা থাকবে রাজশাহী সিটি পশুর হাট।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা থেকে ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন গোলাম মোস্তফা। তার সবচেয়ে বড় গরুটির দাম ৯০ হাজার টাকা। আর ছোট গরুটির দাম ৪৫ হাজার টাকা। মাঝারি আকারের বাকি গরুর দাম হাঁকছেন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। সকাল থেকে দুইটি মাঝারি গরু বিক্রি করেছেন। হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী। শেষ সময়ের বেচা-কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাড়িতেই তাদের গরুর খামার আছে। সারা বছর গরু পালনের পর হাটে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু যতটা বাড়তি লাভ আসা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ততটা হচ্ছে না। এ সপ্তাহে হাটে বেশকিছু ভারতীয় গরুর আমদানি হয়েছে। তবে হাটে এখনও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে লালন-পালন করা দেশি গরুর চাহিদা বেশি। এজন্য বাড়তি লাভ না হলেও রাজশাহীর স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানান খামারি গোলাম মোস্তফা।

গোদাগাড়ীর গোপালপুর গ্রামের গরু বিক্রেতারা জানান, ছোট আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের গরুর দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মোটামুটি বড় আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বড় আকারের গরুর দামই ৬-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে এসেছে গতকাল। রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, এবার ভারতীয় গরুর আমদানি গত বছরের চেয়ে কম। তাই এখনও দেশি গরুরই চাহিদা বেশি। তবে প্রথম দিকে হাটে দেশি গরুর আমদানি কম থাকায় দাম বেশি ছিল। ক’দিন থেকে আমদানি বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে। বিক্রেতারা প্রথম দিকে চড়া দাম হাঁকলেও গতকাল ব্যতিক্রম।

সামান্য লাভ থাকলেও গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ক্রেতারা দর-দাম করে সাধ ও সাধ্যের মধ্যেই এই হাট থেকে পছন্দের পশুটি কিনতে পারছেন। আর হাটে জাল টাকা শনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একজন পশু চিকিৎসকও রয়েছেন। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শেষ সময়ে রাজশাহীর সিটি পশুরহাট এখন জমে উঠেছে বলে জানান হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু।

Leave a Response