Wednesday, October 21, 2020
রাজশাহী

পুঠিয়ায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

233views

পুঠিয়ায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

puthiyaপুঠিয়া সংবাদদাতা: রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তা প্রকৃত কৃষকদের প্রদর্শনী না দিয়ে বর্গচাষী যার কোন নিজস্ব জমি নেই তাদেরকে প্রদর্শনীও সরকারী অনুদান প্রদান করেছেন। এছাড়াও অনুদানের টাকা কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা তাদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ভাংড়া এলাকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোক্তাদির হোসেন কর্মরত আছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগীতায় এলাকায় ফিল্ডে কৃষকদের সাথে সমন্বয়হীনতা এবং প্রকৃত কৃষক যাদের নিজস্ব জমি আছে তাদেরকে বাদ দিয়ে জমি লিজ নিয়ে বর্গচাষীদের কৃষকদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করণ ছাড়াও তাদেরকে প্রদর্শনী মনোনীত করে সরকারী সুবিধা প্রদান করেন।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ভাংড়া এলাকার আকরাম হোসেনের পুত্র আরিফ হোসেনের কোন নিজস্ব জমি-জমা নাই। তিনি মানুষের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোক্তাদির হোসেন গোপন চুক্তির মাধ্যমে তাকে চলতি মৌসুমে পিয়াজের প্রদর্শনী প্রদান করে। এছাড়া তিনি ঠিক মত মাঠে আসেননা। এলাকায় যদি আসেন তাহলে সার ও কীটনাশকের দোকানে এসে বসে চা খেয়ে চলে যান। তিনি প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে বর্গচাষীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আরিফ জানায়, আমি ২ বিঘা মানুষের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করি। কৃষি অফিস থেকে আমাকে পিয়াজের প্রদর্শনী দেয়া হয়। প্রদর্শনীর জন্য আমাকে পিয়াজের বিজ দেড় কেজি, ইউরিয়া সার ১ বস্তা, পটাস সার ২৫ কেজি, জীব সার ১ বস্তা ও ফসপেট সার ১ বস্তা প্রদান করে। এছাড়া পিয়াজ সংরক্ষনের জন্য বাঁশ দিয়ে মাচান তৈরির খরচ ১২ শত টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও আমাকে ১ হাজার টাকা প্রদান করে।

জানা গেছে, সরকারী নিয়ম মোতাবেক একজন কৃষকের নিজস্ব তিন বিঘা জমি থাকতে হবে। পাশাপাশি তাকে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে সহ বিভিন্ন নিয়ম থাকলেও তা না মেনে কৃষি কর্মকর্তা ইচ্ছে মত গোপন চুক্তির মাধ্যমে যাকে তাকে প্রদর্শনী প্রদান করেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোক্তাদির হোসেন জানান, আরিফ হোসেন কৃষকের বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। কত টাকা প্রদান করা হয়েছে সেটাও অফিস জানে আমি জানিনা। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মনছুর রহমান জানান, উপজেলায় ১০ জন পিয়াজ চাষীকে প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। আর বর্গচাষীও প্রদর্শনীতে আনার নিয়ম আছে। কত টাকা এবং সার বা বীজ প্রদান করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে নারাজ।

Leave a Response