Wednesday, October 21, 2020
টপ নিউজসারাদেশ

পাবনায় কলেজছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, আটক ২৪

205views

পাবনায় কলেজছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, আটক ২৪

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: পাবনার সাঁথিয়ায় পেট্রোল সন্ত্রাসের শিকার অগ্নিদগ্ধে আহত পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুক্তি খাতুন ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মুক্তি খাতুন পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের মেয়ে।

তার মৃত্যুর সংবাদ নিজ এলাকায় এসে পৌছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মানুষের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করচ্ছে। এলাকায় বড় ধরনের সহিংসতার আশংকা করচ্ছে সাধারন মানুষ। সাঁথিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, এলাকায় আইন শৃক্ষলা যাতে অবনতি না হয় সে জন্য পুলিশের তৎপরতা বারানো হয়েছে।

এদিকে সন্ত্রাসীদের ঢেলে দেয়া পেট্রোলে অগ্নিদগ্ধ, নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচার দাবীতে পাবনা শহরে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখা ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট যৌথ ভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে নিহত মুক্তির সহপাঠি পাবনা সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ দর্শন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা একাত্বতা প্রকাশ করে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও যৌন হয়রানী নির্মূলকরণ নেটওয়ার্কের আহবায়ক এড. কামরুন্নাহার জলি, আমরা পারি জোটের সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু ও প্রজেক্ট কো-অডিনেটর নার্গিস পারভীন মুক্তি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগষ্ট রোববার দুপুরে জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ও সালাম গ্র“পের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে সালামের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনার সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে যান। এ সময় হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের মেয়ে মুক্তি খাতুনকে (২২) ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই হামলায় তার চাচাতো বোন আফরোজা খাতুন (৩০) এগিয়ে গেলে তারা তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধার একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। অগ্নিদগ্ধ মুক্তি খাতুনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

Leave a Response