Friday, October 30, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

পদ্মায় পানি বাড়ছে হু হু করে,শুরু হয়েছে ভাঙ্গন

250views

পদ্মায় পানি বাড়ছে হু হু করে,শুরু হয়েছে ভাঙ্গন

পদ্মায় পানি বাড়ছে হু হু করে,শুরু হয়েছে ভাঙ্গননিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন হু-হু করে বাড়ছে পানি। প্রতিদিন দশমিক ১০ থেকে ১১ মিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর মাত্র সোয়া ২ মিটার বাড়লে পানি বিপদ সীমার উপর উঠে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। এদিকে পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। রাজশাহী নগরীর বেশ কিছু এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এতে এখন নির্ঘুম রাত পার করছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা ও উদাসিনতার কারণে পদ্মাপাড় ও নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে নদী ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হলেও কে তা করছে তা জানেনা পাউবো কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি মাত্রা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মায় পানি বেড়ে হয়েছে ১৬দশমিক ৩০ মিটার। এর দুদিন আগে পদ্মার পানি ছিল ১৬ দশমিক ১১ মিটার। গত দুই দিনে পদ্মায় পানি বেড়েছে দশমিক ১৯ মিটার। মুলত ১৮দশমিক ৫০ মিটার পানি বৃদ্ধি পেলে তা বিপদ সীমার মধ্যে ধরা হয়। সেই ক্ষেত্রে বর্তমানে যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বিপদ সীমা অতিক্রম করতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পদ্মার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাঙ্গন। ইতিমধ্যে রাজশাহীর খানপুর, চরখিদিরপুর নবগঙ্গা, চর মাজারদিয়া এলাকার বেশ কিছু এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আর এই ভাঙ্গনের জন্য স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকেই দুষছেন। কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ড শুষ্ক মওসুমে ভাঙ্গন এলাকায় কোনো মেরামত না করে বর্ষার সময় পানি বৃদ্ধি পেলে কাজ শুরু করেন। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে যে কাজ করে তা কোনো কাজে লাগে না।

জানা গেছে, সরকার রাজশাহীর পদ্মার ভাঙ্গন রোধে একনেকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। রাজশাহীর বুলনপুর থেকে ৫শ মিটার দৈর্ঘ্যরে নদীর তীরবর্তি ভাঙ্গন রোধে বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ১৪ মে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে পাউবোর সাথে কথা বলা হলে তারা সে সময় জানিয়েছিলেন জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। তাদের কাজ শেষ করার জন্য আরো দুই মাস সময় বেধে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। এতে যত্রতত্রভাবে কাজ সারেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও অনেক এলাকার কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এতে ওই সব এলাকা এবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই ভাঙ্গন রোধে পাউবো থেকে জিও ব্যাগ প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। বুধবার টিবাঁধে দেখা যায় পাউবোর প্রস্তুত করা জিও ব্যাগ। তবে ভাঙ্গন রোধে যে জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হচ্ছে সেগুলো কোনো কাজে আসবে না বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড যে কাজ করছে তা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এদিকে পদ্মায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভাঙ্গন থেকে রাজশাহী শহরকে রক্ষা করতে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পাউবোর টি-গ্রোয়েনের পাশে জরুরীভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। কয়েকদিন দিন ধরে চলছে এই কাজ। এর আগে সম্প্রতি টি-গ্রোয়েনটিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে। টি-গ্রোয়েন নিরাপদ থাকলে নগরীর পদ্মাপাড় নিরাপদ থাকবে বলে মনে করে পাউবো। এছাড়াও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরের মধ্যে ভাঙ্গনে নদী গর্ভে চলে গেছে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ৬১৩ জন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পদ্মার ভাঙন থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে অবস্থান করছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

বিষয়টি নিয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে কোন কোন এলাকা রয়েছে তার খোঁজখবর তারা নিচ্ছেন। সেসব এলাকায় যদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তবে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেসব এলাকায় বাঁধ তৈরি করা হবে।

Leave a Response