Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

নৃত্যগুরুর শয্যার ব্যবস্থা করলেন মেয়র লিটন | রাজশাহী সংবাদ

160views

পদকপ্রাপ্ত নৃত্যগুরুখ্যাত বজলুর রহমান বাদল অসুস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘স্বাধীনতা’ পদকপ্রাপ্ত নৃত্যগুরুখ্যাত বজলুর রহমান বাদল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুকে ব্যাথা অনুভব করলে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর মেঝেতে পড়ে ছিলেন তিনি। রোববার দুপুরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর ছুটে আসেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) আলমগীর কবির। হাসপাতালের পরিচালককে ফোন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তারপর তাঁকে শয্যায় তোলা হয়।

নৃত্যগুরুর শয্যার ব্যবস্থা করলেন মেয়র লিটন-রাজশাহী সংবাদমহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বজলুর রহমান বাদল মেঝেতে শুয়ে থাকবেন এটা হতে পারে না। তিনি শুধু রাজশাহী নয়, গোটা দেশের মানুষের গর্ব। খবরটি শুনেই আমি তাকে শয্যা দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলি। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর স্বাধীনতা পদক পান ৯৫ বছর বয়সী এই নৃত্যশিল্পী। শিল্পকলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার, নজরুল অ্যাকাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন ‘নৃত্যগুরু’ উপাধি। নৃত্যগুরু বাদলের মেয়ে নাজনিন জানান, ‘রাজশাহী নগরের শিরোইলে তার বাসায় থাকেন বজলুর রহমান বাদল। প্রায় এক মাস ধরেই তিনি অসুস্থ। হৃদরোগ ছাড়াও আছে উচ্চ রক্তচাপ। এখন পায়ে-হাতেও তিনি ব্যাথা অনুভব করেন। পুরো শরীর ফুলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়েছে চিকিৎসক তাকে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। কিন্তু কোনো শয্যা না পাওয়ায় তাঁকে মেঝেতেই রাখা হয়।’ নাজনিন আরও বলেন, ‘রাতে আমরা তার পরিচয় দিয়েছিলাম। নার্সরা বললেন, বেড খালি নেই। তাই তাদেরও কিছু করার নেই। বেড ফাঁকা না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই মেঝেতে থাকতে হবে। তাই আমরা টাকা লাগলেও কেবিনে নেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার বললেন, এই ধরনের রোগীদের কেবিনে রাখার ব্যবস্থা নেই। কী করার! এখানেই আছি। দেখতেই পাচ্ছেন কেমন পরিবেশ!’

বজলুর রহমান ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষরা কলকাতার মানুষ। দাদা আশাক হোসেন আমের ব্যবসা করতে এসে মালদহে বাড়ি করেছিলেন। সেখানেই তার জন্ম। বাবার নাম আবুল কাশেম। মা সখিনা বিবি। বজলুর রহমান ১৯৪৫ সালে মালদহ জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরের বছর নাটক করতে রাজশাহী আসেন। আর ফেরা হয়নি। এখনো রাজশাহীতেই আছেন।

Leave a Response