Wednesday, October 21, 2020
উত্তরাঞ্চল

নিয়ামতপুরে হুমকির মূখে আমন আবাদ

220views

নিয়ামতপুরে হুমকির মূখে আমন আবাদ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নিয়ামতপরভরা বর্ষাতেও চলছে তীব্র খরা। আমনের মাঠ জুড়ে সর্বত্রই চলছে পানির জন্য হাহাকার। আষাঢ় শেষ হতে চললেও এখনো হয়নি কাঙ্খিত বৃষ্টি। আমনের মাঠ তৈরী করতে পারেনি অনেক কৃষক। যে সকল কৃষক বিকল্প সেচের মাধ্যমে আমনের চারা রোপন করছেন তাতে উৎপাদন খরচ পড়ছে বেশী। কৃষকের আমনের বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও পানি সংকটে পতিত পড়ে রয়েছে জমি। ফলে বৃষ্টি নির্ভর আমন চাষ হুমকির মূখে। কৃষক মনও বেশ উদ্বিগ্ন।

চলমান অনাবৃষ্টিতে আউসের ক্ষেতেও সেচ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেচের অভাবে ধানের ক্ষেত ফেটে যাবার উপক্রম হয়ে পড়েছে। যদিও নিয়ামতপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, অনাবৃষ্টি চললেও আমন চাষ বিকল্প সেচের মাধ্যমে অব্যহত রয়েছে। আর এ সেচের জন্য কৃষক ব্যবহার করছে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলক‚প, খাল-খাড়ী ও পুকুরের পানি। নিয়ামতপুর কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি আমন মওসুমে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে চল্লিশ শতাংস জমিতে আমনের চারা রোপন করা হয়েছে। বাকি জমিগুলো প্রস্তুত করছে কৃষক। এছাড়াও বর্তমানে মাঠে রয়েছে ১০ হাজার হেক্টর আউস ধান (পারিজা, ব্রি-৪৮ ও জিরা)। যা কিছু দিনের মধ্যে ঘরে তুলবে কৃষক।

জানা যায়, আমন চাষের শুরুতেই বৃষ্টির পানির অভাবে কৃষক পুকুর, নালা, খাল বিভিন্ন উৎস হতে সেচের মাধ্যমে তাদের বীজতলা তৈরী করে তাতে বীজ বুনেছিল। এখন কৃষকের সে বীজগুলি বেশ সবল সতেজ হয়ে রোপা লাগানোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। কিন্তু এখনও মাঠে পানি না থাকায় কৃষকগন তাদের চারাগুলি রোপন করতে পারছেনা।

সরেজমিনে শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক আমনের মাঠ প্রস্তুত করলেও পরবর্তীতে তা পানি সংকটে শুকিয়ে পড়ে রয়েছে। এমন শুকিয়ে পড়া জমি পুনরায় প্রস্তুত করতে কৃষকের খরচ বেড়ে দ্বিগুন হবে বলছেন আমন চাষীরা। উদ্ভুূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষক সেচ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। ফলে ভরা বর্ষাতেও বাড়তি সেচের যোগান দিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। এছাড়াও একটানা তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

রসুলপুর ইউনিয়নের টগরইল গ্রামের কৃষক ইসমাইল জানান, “সেচ সংকটের কারণে তার ৭ বিঘা রোপা আমনের ক্ষেত ফেটে যাচ্ছে। এছাড়াও আরো ১০ বিঘা জমি তিনি প্রস্তুত করছে পারছেননা আমন রোপনের জন্য। এদিকে বীজতলার চারার বয়স বাড়ায় ধানের ফলন নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন তিনি। তিনি আরো বলেন, তার মাঠের ১৫ বিঘা জমির আউস ধান (বর্ষালী পারিজা) পানি সংকটে পড়েছে। নিয়ামতপুর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, বর্তমান খরা মোকাবেলায় তার ৬০৩ টি গভীর নলক‚প চালু রয়েছে। এছাড়াও ২০০ কিলোমিটার খাল-খাড়ী ও ১৫০টি পূণঃখননকৃত পুকুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন রয়েছে। যা থেকে কৃষক সেচের মাধ্যমে আমনের মাঠে ব্যবহার করছে। নিয়ামতপুর কৃষিকর্মকর্তা আমীর আব্দুল্লাহ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বেশ কয়েক দিন থেকে অনাবৃষ্টি চললেও আমন চাষের এখনও সময় রয়েছে। তাছাড়া বিকল্প সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষক ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ আমনের চারা রোপন করে ফেলেছেন। আগামি কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে বাকী জমিতেও কৃষক চারা রোপন করে ফেলবেন।

Leave a Response