Wednesday, October 21, 2020
টপ নিউজরাজনীতি

নিরাপত্তা চাদরে নগরী

224views

নিরাপত্তা চাদরে নগরী

নিরাপত্তা চাদরে নগরীহাবিব আহমেদ: প্রচারনার শেষ দিনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীরা। দিনভর বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রার্থীরা ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে। প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। শেষ দিনে কাক ডাকা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ উঠান বৈঠক, পথ সভা করতে দেখা যায় প্রার্থীদের। এমনকি প্রার্থীদের পক্ষে কর্মী সমর্থকরাও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তার জন্য এবার মাঠে থাকছে বিপুল পরিমান আইশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এবার রাজশাহী নগরীতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিকে শনিবার সকাল থেকে নগরীর মোড়ে মোড়ে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। তল্লাশী করা হচ্ছে যানবাহন। এছাড়াও মোড়ে মোড়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে পুলিশের পক্ষে তল্লাশী চালাতে দেখা যায়। পুলিশের এই তৎপরতা ভোটের পরের দিন পর্যন্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরীর ছাত্রবাসগুলো খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন নগরীর ছাত্রবাসগুলো শূন্য রয়েছে। তারপরও নগরীর বিভিন্ন ছাত্রবাসগুলোতেও তল্লাশী চালানো হচ্ছে। বহিরাগতদের ঠেকাতে নগরীর প্রবেশ দ্বারগুলোতে নজরদারি করছে পুলিশ ও র‌্যাব। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে বলে মহানগর পুলিশের পক্ষে জানানো হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, রাসিক নির্বাচনে এবার আইনশৃংখলা রক্ষায় তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহীর নিরাপত্তার জন্য ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মাঠে কাজ করবে। তবে নির্বাচনের পরের দিন আরো ৪ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রাখা হবে।

শনিবার সকাল থেকে নগরীতে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। এছাড়াও র‌্যাব পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিমে থাকবে ৪০০ জন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। একই সাথে ভোট কেন্দ্রগুলো রাখা হচ্ছে ১৯৫০ আনসার সদস্য। এছাড়াও ভোটের দিন মাঠে পুলিশের পাশাপশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল কোর্ট কাজ করবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রের পাশাপাশি ঝুঁকিপুর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপুর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর বেশি নজরদারি থাকবে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি সনাক্ত হওয়া মাত্র আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে। এদিকে রাত থেকে নগরীর ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী যাবতীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এই কাজ সম্পন্ন করবে বলেও জানানো হয়েছে।

এবার রাসিক নির্বাচনে ৫জন মেয়র ও ২২৩ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন। এরমধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ৫২জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ১৬৬জন। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বড় দু’দল আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান হাবিব ও সতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মুর্শেদ।

রাসিকে মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ১৮হাজার ১৩৮। এরমধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৬২হাজার ২৫৩ ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৫৬হাজার ৮৫। এবার ১৩৮টি কেন্দ্র ভোট গ্রহন হবে। এছাড়াও সাধারণ ২৪টি ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছে। তবে ১১৪টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশন। এসব ভোট কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঝুঁকিপুর্ন এসব কেন্দ্র মুলত নগরীর উপকণ্ঠ এলাকাগুলোতে অবস্থিত।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রাইভেট কোচিং, স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ রোববার থেকে বেসরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। নির্বাচনের দুদিন পর থেকে বেসরকারী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

Leave a Response