Thursday, October 22, 2020
উত্তরাঞ্চল

নাটোর জেলা পরিষদের জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

159views

নাটোর জেলা পরিষদের জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি: বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের মোকরামপুরে জেলা পরিষদের লীজ দেয়া জমির অনিয়ম তদন্তে জেলা পরিষদের সহকারি প্রকৌশলী শাহ আশিবকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়। কিন্তু এক মাসেরও বেশী সময় অতিক্রান্ত হলেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন। এরই মধ্য অবৈধ লীজ গ্রহিতারা বহাল তবিয়তে পাকা-কাঁচা দোকানঘর তৈরী করে তা থেকে মাসিক ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নাটোর জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সদর উপজেলার মোকরামপুর এলাকায় জেলা পরিষদের ৫৭ শতক আয়তনের একটি পুকুরের লীজ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয় উক্ত মৌজার ২নং খতিয়ানের ৫৮নং দাগের ২২ শতক ভ‚-সম্পত্তি জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আকবর তথ্য গোপন করে তার মেয়ে জামাই তারিক হাসান ও জামাইয়ের ভাই মেহেদী হাসানের নামে লীজ নিয়েছেন। শুধু তাই নয় সেই পুকুরে মাটি ফেলে ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে সাব লীজ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠে। যা নিয়ম (সরকারি প্রজ্ঞাপন/ রাষ্ট্রপতির আদেশ) বর্হিভূত। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৩ মে জেলা পরিষদের মাসিক সভায় জেলা পরিষদের সহকারি প্রকৌশলী শাহ মোঃ আশিবকে আহবায়ক করে, জেলা পরিষদের ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মানসী ভট্টাচার্য, সানাউল্লাহ আল আজাদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, রইস উদ্দিন রুবেলকে নিয়ে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী মাসের মাসিক সভায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ হয়। কিন্তুএক মাসেরও বেশী সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও সেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি । এরই মাঝে ওই লীজকৃত ভ‚মির ওপর অবৈধ লীজ গ্রহিতারা তৈরী করেছেন পাকা-কাঁচা দোকানঘর। তা থেকে নিয়মিত-ই চলছে ভাড়া আদায়।
স্থানীয় পান ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও আনিছুর রহমান জানান, তাদের সবার মোট ১৩টা পান আড়ৎ রয়েছে। পান আড়তের সিকিউরিটি বাবদ মোট দুই লাখ টাকা ইতিমধ্যে পান ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে লীজ গ্রহিতাদের প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি আড়ৎ থেকে মাসে ১২’শ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছেন তারা। ভাড়া নিচ্ছেন জনৈক মেহেদী হাসান।

ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন জানান, পুকুর ভরাট করে তারিক ভাই ও মেহেদী ভাই দোকান করে তার কাছে মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছেন। একমাস হলো তিনি দোকানে উঠেছেন। মাসিক ভাড়া চুক্তিতে তিনি সেখানে ব্যবসা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত চলাকালিন অবস্থায় কিভাবে স্থাপনা নির্মান হয়। আবার সেখান থেকে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় হয় তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। দ্রæত অবৈধ লীজ বাতিলের দাবী জানান তিনি। দত্তপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, আগের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করে তা থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অবৈধ লীজ বাতিলে গণসাক্ষর সহ জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনের পরও সাড়া মেলেনি। তারা খুবই আশাবাদি ছিলেন যে তদন্ত করে দ্রুত সময়ে রিপোর্ট দিয়ে অবৈধ লীজ বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা লীজ গ্রহিতা মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে দলবলসহ সাংবাদিকদের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে পরে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। অবশ্য এর আগে অপর লীজ গ্রহিতা তারিক হাসান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ উদ্যেগে পুকুর ভরাট করে তিনি দোকানঘর করে দিয়েছিলেন। সাব লীজ দেবার কথা অস্বীকার করেছিলেন তিনি। তদন্ত কমিটির আহবায়ক জেলা পরিষদের সহকারি প্রকৌশলী শাহ মোঃ আশিব বরেন, নানা ব্যস্ততা থাকায় এখনো তদন্ত কার্যক্রম এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। লীজ গ্রহনের ব্যাপার যে অবৈধ তা তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। সাব লীজ দিয়ে ভাড়া আদায় হচ্ছে তাও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। একটা চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে কি নির্মাণ কাজ ও ভাড়া আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখা যেতো কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, দ্রæত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপরে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, জেলা পরিষদের জায়গার ইজারার যে সকল অনিয়ম হয়েছে সে বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি তাকে জানিয়েছেন লীজ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট দেয়নি। রিপোর্ট দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ লীজ অবশ্যই বাতিল হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এনামুল হক বলেন, মোকরামপুর এলাকায় জেলা পরিষদের জমি লীজের অনেকগুলো অনিয়মের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। নিয়ম বহির্ভূত লীজ বিশেষ করে সাব লীজ, টাকা পয়সার অবৈধ লেনদেন এমন অভিযোগ চেয়ারম্যান বরাবরে আসার পরে মে মাসের মাসিক সভায় সার্বিকভাবে সরেজমিনে গিয়ে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ লীজ বাতিল করা হবে।

Leave a Response