Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

নগরীতে বাড়ছে আবর্জনার স্তুপ

180views

নগরীতে বাড়ছে আবর্জনার স্তুপ

নগরীতে বাড়ছে আবর্জনার স্তুপকামরুল ইসলাম: নগরীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের অভাবে এখন চলমান রাস্তা ব্যবহান করা হচ্ছে ডাস্টবিনের কাজে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ও রাস্তার উপরেই তৈরী হচ্ছে আবর্জনার স্তুপ। রাস্তার পাশে অতিরিক্ত আবর্জনার রাখায় তা নেমে যাচ্ছে মুল রাস্তায়। এক বৃষ্টি হলেই এসব পচা আবর্জনা পুরো রাস্তা দখল করে নিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রাস্তায় চলাচল দু:সহ হয়ে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। মুলত রাসিকের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বে না থাকার কারণে এমনটা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মনে করছেন নগরবাসি। কারণ মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা দায়িত্ব পালন না করায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিজেদের খেয়ালখুশি মত কাজ করছেন। তারা রাসিকের পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কি করছেন না সেটাও কোনো তদরকি হচ্ছে না। এতে নগরী দিনদিন আবর্জনার স্তুপে পরিণত হচ্ছে। তবে রাসিক কর্তৃপক্ষ বলছেন, নগরীর আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো ঘাটতি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর কুটির শিল্প এলাকার রাস্তা, কোর্ট স্টেশনের পুর্বপাশে, রাজশাপাড়া মিশন হাসপাতালের সামনে, সিটি বাইপাস মোড়, নগরীর ভদ্রা আসাসিক এলাকার চন্ডিপুর যাওয়ার রাস্তাসহ বেশ কিছু এলাকায় স্তুপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় আবর্জনা। দেখা যায় পরিচ্ছন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা নিয়ে রাস্তার উপর রেখে দেয়। বাড়ির ময়লা আবর্জনার সাথে বিভিন্ন খাবার থাকায় সেখানে কাক, কুকুর, বিড়ালসহ গবাদীপশুরা সেখানে ভিড় জমায়। ময়লা আবর্জনা খাওয়ার সময় পশু-পাখি ওই সব আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তার মাঝখান পর্যন্ত নিয়ে যায়। এতে পচা দুগন্ধে যেমন পরিবেশ নষ্ট হয় তেমনি পতচারিদের চলতেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। রাস্তা থেকে এসব আবর্জনার দুর্গন্ধ আশপাশের বাড়ি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে আবর্জনা ফেলে রাখার জন্য যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা হস্ত শিল্প অফিসের নামনে দেখা যায়, রাস্তার উপর দুইটি গরু ময়লার স্তুপে খাবার খুঁজছে। এতে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও রাস্তার মাঝখান পর্যন্ত এসব আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিনিয়িত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার।

নগরীর পথচারী রওনক আলী জানান, রাজশাহী ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি হিসেবে আমরা চিনি। কিন্তু বাস্তবে এর রুপ আমারা দেখতে পাইনা। রাস্তায় আবর্জনার স্তুপ, এটা কি ক্লিন সিটির নমুনা! এই রাস্তা তিনশ গজ উত্তরে রয়েছ দুইটি কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে আসে যুবকযুবতিরা। তিনি নিজেও সেখানে একটি কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। তবে এই পাশে আবর্জনা ফেলে রাস্তার দুরাবস্থার কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে জানান তিনি। এছাড়াও নাকে রুমাল বা নাক ধরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে কিছু কিছু এলাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাতে আবর্জনা পরিস্কার করার কথা থাকলে তা নিয়মিত হয়না। বেলা ১১টার পর থেকে বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে ফেলে রাখা হয় রাস্তায়। সারাদিন যাওয়ার রাত থেকে তা পরিস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে সারাদিন পদচারিদের দুগন্ধের মধ্যে ওইসব রাস্তায় চলাচল করতে হয়।

এব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেসনের পরিছন্ন (মনিটরিং) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেস্তাক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নগরীতে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে মানুষের ব্যবহৃত আবর্জনার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বাজেটের অভাবে সেই হারে ডাস্টবিনের সংখ্যা বাড়ছেনা। সাধারণত এইধরনের ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের বিষয়টির দায়িত্ব থাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের। বর্তমানে কাউন্সিলররা এখনো দায়িত্ব না নেয়ায় মুলত এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ যারা আবর্জনা পরিস্কার করবে তাদের তদারকির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই দুরাস্তার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Response