Wednesday, October 21, 2020
টপ নিউজরাজনীতি

দ্বিগুন ভোটে মেয়র লিটন

162views

দ্বিগুন ভোটে মেয়র লিটন

litonহাবিব আহমেদ: দ্বিগুন ভোট বেশী পেয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বেসরকারী ফলাফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বি বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে ৭৮ হাজার ৪৯৪ ভোট পেয়েছেন। দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৮৭ হাজার ৯০২ ভোট।

এর আগে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপুর্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সোমবার সকাল ৮টায় রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে এক যোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টায় শুরু হয় ভোট গণনা। সোমবার সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন নগরবাসি। মাঝখানে বৃষ্টির বাগড়া থাকলেও কেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের উপচে পড়া ভীড়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সকালের দিকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দুপরের পর বাড়তে থাকে ভোটারদের উপস্থিতি। তবে ভোটগ্রহণের শুরু থেকে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর কোনো অভিযোগ না তুললেও বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ তুলেন।

এবার নির্বাচনে ৫জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন। এরমধ্যে বড় দু’দল ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়পার্টির হাবিবুর রহমান হাবিব ও সতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মুর্শেদ নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন। এবার রাসিক নির্বাচনে ৫জন মেয়র ও ২২৩ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ৫২জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ১৬৬জন। রাসিকের মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন এবং পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন।

অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীতে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ৪হাজার নিরাপত্তাকর্মী ছিল ভোটের মাঠে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে শেষ হয় ভোটগ্রহণ। নিরাপত্তা থাকায় এবার রাসিক নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সহিংশতার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ভোট গণনা শেষেও কঠোর নজরদারিত্বে রাখা হয় পুরো নগরীজুড়ে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নগরীতে যে কয়টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন মাত্র। আইনশৃংখলা বাহিনীর সজাগ দৃষ্টির কারণে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ভোট গ্রহন শেষে বড় দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি বলেন রাজশাহীতে খুব শান্তিপুর্নভাবে নির্বাচন হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে ব্যাপক অভিযোগ তোলেন।

অপরদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়মাী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিজয়ের পর নগরজুড়ের আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেন নেতা সমর্থকরা। যদিও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভোট গ্রহন শেষ হওয়ার পরপরই আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে। রাত ৮টার পর লিটনের জয় নিশ্চিত জানার পর তাদের উল্লাস আরো বেড়ে যায়। জয়ের আনন্দে রাতে রীতিমত ঢাক-ঢোল নিয়েও রাস্তায় নেমে পড়েন নব মেয়রকে শুভেচ্ছা জানাতে। আনন্দ ও মিছিল শুরু হয় নগরীর বিভিন্নস্থানে। এছাড়াও জয়ের মালা পরে কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও মিছিল করতে দেখা যায়।

Leave a Response