Saturday, October 24, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

দেশি গরুতে জমছে পশুহাট

223views

দেশি গরুতে জমছে পশুহাট

দেশি গরুতে জমছে পশুহাটনিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পশুহাটগুলো জমতে শুরু করেছে। আর খুব বেশি সময় না থাকার কারণে এখনই কোরবানির পশু কিনতে ভিড় করছেন অনেকেই ক্রেতারা। বিশেষ করে শেষ সময়ে যারা হুড়োহুড়ি পছন্দ করেননা তারা এখনই পছন্দের কোরবানি কিনতে হাটে যাচ্ছেন। সেইসাথে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা হাটে ভিড় করছেন। একারণে রাজশাহীর প্রতিটি পশুর হাটে বেড়েছে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপস্থিতি। অন্যদিকে, পশুহাটগুলোতে এখন পর্যন্ত দেশী জাতের গরুর আমদানিই বেশি। তবে এবার কোরবানি পশুর দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতারা বলছেন এবার ভারত থেকে কোরবানির পশুর আমদানী কম বলে দেশীয় জাতের পশুর দাম একটু বেশি। অবশ্য, কোনবানির পশুর দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বলেও মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীতে কোরবানির জন্য মুলত কয়েকটি বড় পশুর হাট বসে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ পশু হাট রাজশাহী সিটি হাট। এছাড়াও চৌবাড়ীয়া, কাঁকনহাট, বাগমারার তাহেরপুর, বানেশ^রে বসে কোরবানির বড় পশুর হাট। এসব হাটে ইতিমধ্যে কোরবানি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের পশু আমদানি শুরু হয়েছে। সপ্তাহের প্রতিদিন কোনো না কোনো উপজেলায় বসছে পশু হাট। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমদানি করা হচ্ছে কোরবানির পশু। তবে এবার হাটগুলোতে এখন পর্যন্ত ভারতীয় পশুর আমদানি তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা বেড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু কম আসায় দেশি গরুর চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। শুধু তাই না, কয়েক বছর ধরে খামারিরা লাভবানও হচ্ছেন। এবারও খামারীরা লাভবান হবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বাড়তে শুরু করেছে পানি। আর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারত থেকে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। এখন পর্যন্ত কোরবানির পশু গরুর তেমন আমদানি চোখে না পড়লেও শুরু থেকেই মহিষের আমদানি হচ্ছে অস্বাভাবিক ভাবে। রাজশাহীর সিটি হাটে গরুর চেয়ে মহিষের আমদানি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটে ভারতীয় গরু না থাকলেও পুরো হাট দখল করে আছে ভারতীয় মহিষ। বলা চলে, এবার রাজশাহী সিটি হাট ভারতীয় মহিষের দখলে। এরপর প্রতিদিন দল বেঁধে আনা হচ্ছে মহিষ।

হাটে আসা গরু বিক্রেতারা জানান, সারা বছর গরু লালন পালন করতে হয়। এর পরে বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশ চড়া। সব মিলিয়ে গরুর দাম একটু বেশি না পেলে লাভ হয় না। এখন পর্যন্ত যেহেতু ভারতীয় গরু হাটে তেমন আমদানি হয়নি যার ফলে এবার দেশীয় জাতের গরুর মালিক ও খামারী লাভবান হবেন বলেও মনে করছেন গরু পালনকারী ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শেষ সময়েও যেন এবার যেনো ভারতীয় গরু বা মহিষ রাজশাহীর হাট বাজারে আমদানি করা না হয় এটাই তারা চাচ্ছেন। আর ভারত থেকে গরু মহিষ আমদানি করা হলে খামারীরা লোকসানের মুখে পড়বেন।

সিটি হাটের ইজারাদার মনসুর রহমান বলেন, হাটে ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি গরু বেশি। হাটে যে গরুগুলো আছে তার বেশিরভাগই বিভিন্ন কৃষকের গৃহপালিত। তারা তিন-চার মাস আগে কিনে বাড়িতে পুষেছেন। তাছাড়া ভারত থেকে মহিষের তুলনায় গরু কম আসছে। ৫০টি মহিষ আসলে, গরু আসছে ১০টি। তিনি বলেন, ভারতীয় গরু কম হলেও মহিষের দাম সেই তুলনায় কম। তবে বিক্রেতারা বলছে, গরু- মহিষের পাইকার ক্রেতাই বেশি। কোরবানি দেয়া ক্রেতারা হাটে এখনো তেমন আসতে শুরু করেনি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসছে এখানে। এখান থেকে কোরবানির পশু কিনে নিয়ে গিয়ে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ভারত থেকে সিন্ধু, আন্ধ্রা, নেপালি, বল্ডার জাতের গরু আমদানী করা হচ্ছে। তবে খুব বেশি নয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে সপ্তাহের মধ্যে হাটে আরো গরু মহিষের আমদানি বাড়বে। একই সাথে ভারতীয় গরুর আমদানি হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গরু ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, হাটে ভারতীয় ১১টি আন্ধ্রা জাতের গরু নিয়ে এসেছেন। প্রতিটির দাম দুই লাখ ২০ থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা চাচ্ছেন। এসব এক একটি গরুর মাংস হবে ৯ থেকে ১০ মণ। হাটে সেই তুলনায় গরু ক্রেতা কম। তবে আগামী হাটগুলোতে ক্রেতা আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।

এদিকে প্রতিবছর সিটি হাট ও বাইরে থেকে গরু কিনে যারা রাজশাহীর বাইরের হাটে ব্যবসা করেন তারা বড় বড় গরুগুলো বেশি কিনছেন। মহিষ ব্যবসায়ী পিয়ারুল বলেন, মহিষের মাংস ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা মণে কিনছেন ক্রেতারা। ভারতীয় গরু-মহিষ দেশে আসলে মাংসের দাম কমবে। ভারতীয় গরু-মহিষ না আসলে গরুর মাংস হাজার টাকা কেজি পড়বে এই কোরবানিতে। তার জানা মতে ভারতীয় গরু তেমন আসছে না। দেশেই অনেক গরু আছে। কোরবানির আগে আরো দেশি জাতের গরু হাটে উঠবে।

Leave a Response