Thursday, October 22, 2020
রাজশাহী

দুর্গাপুরে ভারী বর্ষণে পানির নিচে আমন ধান

280views

দুর্গাপুরে ভারী বর্ষণে পানির নিচে আমন ধান

Durgapurদুর্গাপুর সংবাদদাতা: গত ৫দিনের ভারী বর্ষণে দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর ও শালঘরিয়ার ডাহার বিলে অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩শ’ হেক্টর জমির আমন ধান। ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পৌর এলাকার দেবীপুর ও শালঘরিয়া গ্রামের শতাধিক কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

শনিবার বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর ও শালঘরিয়া গ্রামের কয়েক শত একর আমন ধানের জমি পানির নিচে। আর পানিতে তলিয়ে যাওয়া সম্প্রতি লাগানো আমন ধান কচুরীপানায় ঘিরে ফেলেছে। ডাহার বিলে অপরিকল্পিত পুকুর খননে বিলের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই তাদের তলিয়ে যাওয়া ফসলের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। ফসল হারিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম, আফসার আলী, ছিদ্দিকুর রহমান জানান, তারা প্রায় ৫বিঘা জমিতে প্রথমে সেচ দিয়ে আমন ধান রোপন করে ছিলেন। রোপনের বয়স ২০ থেকে ২৫ দিন। গত ৫দিনের ভারী বর্ষণে পানি বাহির জায়গা না থাকায় সব ধান তলিয়ে গেছে। তারা আরো বলেন, ডাহার বিলের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালীরা অসংখ্য পুকুর খনন করেছেন। তাতে তাদের ফসলি জমি থেকে পানি নামানোর জায়গা নেই। যার ফলে গত ২-৩বছর থেকে তাদের ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গত বছরও এভাবে তাদের ফসল হারিয়েছে বলে জানান নুরুল, আফসার ও ছিদ্দিকুর। এছাড়াও উপজেলার শ্যামপুর, নওপাড়া, শিবপুর, পানানগর, ঝালুকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত খননের ফলে চাষিদের সম্প্রতি রোপন করা আমন ধান ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে উপজেলার হাজার হাজার আমন ধানচাষি কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকদের আর্তনাদ ও তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনেন না। এই উপজেলা অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু কোনো মহলই কর্ণপাত করছেন না। উপজেলার বিল এলাকার কৃষকের দুর্দশা নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর পড়েনি আজো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া জানান, গত কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। উপজেলায় এখনো পুরোদমে আমন ধান লাগানো শুরু হয় নি। তবে আমনের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উপ-সহকারি কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য সংগ্রহ করে কৃষকদের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Response